অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিলে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত:সোমবার, ১৫ জুন ২০২০ ১০:০৬

অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিলে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিলে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মার্চ মাসে গ্রাহকদের নিকট যে বিল এসেছিল করোনাকালীন এপ্রিল ও মে মাসে এরচেয়ে অতিরিক্ত এমনকি কারো কারো নিকট দ্বিগুণ বিল আসে। এতে গ্রাহকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে সোমবার সকাল ১১টার দিকে তারা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। গুপ্তেরগাঁও গ্রামের গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অহন আমরা পেটে ভাত দিবার পাইতাছি না। এরপর আমার ৫৩০০ টাকা অতিরিক্ত বিল আইছে। এইডা কেমনে দিব? অতিরিক্ত বিল আমরা দিতে পারব না। একই এলাকার ফারুকের ১০০০ টাকার স্থলে ৫০০০ টাকা বিল আসে। গোদারিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মিটারে ৬৮০ ইউনিট থাকলেও বিল করা হয়েছে ১০০০ ইউনিটের। দড়ি মাহমুদপুরের নজরুল ইসলামের বরাবর বিল আসতো ৩০০ টাকা। এবার এসেছে ২৮২৯ টাকা। ইমাদপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মিটারে আছে ৫৬৪০ ইউনিট। বিল এসেছে ৬৪১০ ইউনিটের। একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের বরাবর বিল আসতো ৩০০০ টাকার। এবার তার বিল এসেছে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা। ফুলপুর সরকারি কলেজ রোডের ইকবাল তালুকদারের মিটারে আছে ৪০০ ইউনিট। তার নামে বিল এসেছে ৮৩৩৩ টাকা। পাগলা গ্রামের জালালের মিটারে ১২৩০২ ইউনিট থাকলেও বিল এসেছে ১২৫৭০ ইউনিটের। শেরপুর রোডের হারেজের মিটারে আছে ১৪৫০ ইউনিট। বিল করা হয়েছে ১৭০০ ইউনিটের। বড় চিলাগাইয়ের সেলিমের মিটারে আছে ৩৫৩১ ইউনিট কিন্তু তার নামে বিল করা হয়েছে ৪৫০০ ইউনিটের। এ ধরনের শত অভিযোগ গ্রাহকদের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ফুলপুর শাখার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এ জেড এম আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ফুলপুরে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। একজন কর্মচারীকে ১৫শ মিটার দেখে বিল করতে হয়। এরজন্য প্রতি মিটার বাবদ তারা পান মাত্র ৩ টাকা ৮০ পয়সা। মাসে আসে ৫ হাজার ৭০০ টাকা। ফলে এত স্বল্পমূল্যে লোক পাওয়া যায় না। তাছাড়া করোনা উপলক্ষে কেউ বাইরে যেতে চায় না। অফিসে বসেই আন্দাজে এ বিলটা করে ফেলেছে। এ কারণেই এ সমস্যাটা হয়েছে। তবে আমরা এটা সংশোধন করে দিব। আপনারা আপাতত: এ বিলটা দিয়ে দেন, পরে তিনমাস পর উহা সংশোধন করে দেওয়া হবে। এ সময় ‘মানি না, মানব না’ বলে গ্রাহকরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল বিদ্যুৎ অফিসে ছুটে যান। তিনি বলেন, এটা মিসটেক হয়ে গেছে। পরে আগের মত বিল করে দেওয়া হবে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি গ্রাহকদের বুঝাতে চেষ্টা করেন এবং কারো কারো বিল সংশোধন করিয়ে দেন। কিন্তু এরপরও বেশ কিছু গ্রাহক বিক্ষোভ মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট যান এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিলের বিরুদ্ধে তারা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎবিলের গাফলার একটা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা শিগগিরই সমাধান করা হবে।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •