অনলাইনে কোরবানির গরু বিক্রি করে সফল খামারি কাইয়ুম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলা ২০২০ ০৮:০৭

অনলাইনে কোরবানির গরু বিক্রি করে সফল খামারি কাইয়ুম

কাপাসিয়া (গাজীপুর) :
গাজীপুরের কাপাসিয়ার ইকুরিয়ায় ১৫ বিঘা জায়গা নিয়ে গবাদি পশু পালন,খাদ্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণ করে বাজার জাত করনের কাজ করছেন তারা। ২০১৬ সালের শেষের দিকে গবাদি পশু পালন করলেও পরবর্তিতে গড়ে তোলেন গবাদি পশুর সবুজ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার জাতকরণের খামার। নাম ইকোরিয়া এগ্রো।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গবাদি পশু মোট তাজা করণে বাড়তি পরিচর্চা করছে শ্রমিকরা। ১৫ বিঘা জায়গা নিয়ে তাদের খামার। তার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টাচাষ এবং ৪ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হচ্ছে। প্রায় ১ বিঘা জায়গার উপর খামারটিতে ৩৫টি গবাদি পশু রয়েছে। তাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে চাষ করাঘাস বাজারে বিক্রি করা হয়। এছাড়াও সবুজ খাদ্য সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বাজার জাতকরণ করাহয়ে থাকে। খামারে ২টি গয়াল বাপাহাড়ী গরু রয়েছে। যা গাজীপুরের মধ্যে একমাত্র তার খামারে আছে বলে জানান কাইয়ুম। এছাড়া কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দেশী গরুর সংখ্যাই বেশি। এখন প্রতিদিন খামারে ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করে। তবে নিয়মিত স্থানীয় একটি পরিবার গরুর পরিচর্চায় সময় দেয়। তাদেরকে মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। প্রথমে উত্তর বঙ্গ থেকে গরু সংগ্রহ করা হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন খামার থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, গরু মোটা তাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকরা। নিচ্ছে বাড়তি যতœ। কেউ ক্ষেত থেকে ঘাস কাটছে। আবার কেউ তা মেশিনের সাহায্যে টুকরো টুকরো করে কেটে খাবারের উপযোগী করে নিচ্ছে। খামারের ভিতরে উত্তর পাশে সংরক্ষণের জন্য মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছে গরুর সবুজ খাদ্য। যাকে বলা হয় সাইলেজ। যা সবুজঘাস পক্রিয়াজাত (অক্সিজেনশূণ্য) করে গারুর জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের খাবার। আলো বাতাস না পেলে প্রায় ১০ বছর এ সবুজ খাদ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে জানান। অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে মাংস। গত এক-দেড় মাসে উপজেলার মধ্যে ৮শ কেজি মাংস বিক্রি করা হয়েছে। পাশেই নদীর তীর ঘেষে রয়েছে নেপিয়ার ঘাস ক্ষেত। ঘাসের পাশাপাশি চাষ করা হচ্ছে কলা ও পেঁপে। করোনার কারণে গরু সংগ্রহে ভোগান্তিতে পরছে তারা। সর্বশেষ নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখন সেসব গবাদি পশু পরিচর্চায় সময় ব্যয় করছে। গত সপ্তাতে খামার থেকে বিক্রি করেছে ৯টি গরু। ব্যাবসায়ীরা খামারে থেকে গরু কিনে নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে বাজার যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে গরুর হাটে।
গাজীপুরে কলেজের শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে খামার গাড়ার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি ও আমার বন্ধু শামিম সরকার এই খামারের যৌথ মালিক। এই দুজনের প্রচেষ্টায় ইকুরিয়া এগ্রোর আজকের এই অবস্থান।
ইকুরিয়া ও তার পার্শ্ববর্তি অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম খামার যা ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত এই ইকুরিয়া এগ্রো। শুরু থেকেই সনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। ইকুরিয়া এগ্রো আশেপাশের অঞ্চল সহ দেশের অন্যান্য খামারিদের ঘাস চাষে উৎসাহ প্রদান এবং বিনামূল্যে ঘাসের চারা বা কাটিং প্রদান করে আসছে। এছাড়াও তরুন উদ্যোক্তাদের ইকুরিয়া এগ্রো সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে।
ঘাস চাষের পাশাপাশি ইকুরিয়া এগ্রো গো খাদ্যের এই উচ্চ মূল্যের বাজারে স্বল্প খরচে ভুট্টার সাইলেজ তৈরিতে সারা দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে সারা ফেলেছে। ইকুরিয়া এগ্রো নিজেরা সাইলেজ ব্যবহারের পর উদৃত সাইলেজ দেশের অন্যন্য খামারিদের মাঝে বিক্রি ও করে থাকে। ইকুরিয়া এগ্রো ইতিমধ্যে গাভীর জাত উন্নয়নের কাজও শুরু করেছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান সর্বিক চিকিৎসা সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। তিনি নিয়মিত ইকুরিয়া এগ্রো পরিদর্শন করে থাকেন এবং পরামর্শ দেন। এছাড়াও এগ্রো একটি পরিচ্ছন্ন খামার হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে।
কাপাসিয়ায় অনলাইন গরুও মাংস বিক্রির পথিকৃত ইকুরিয়া এগ্রো। গত রোজার ঈদে ইকুরিয়া এগ্রো সমগ্র কাপাসিয়ায় অনলাইনে প্রায় ৮শ কেজি মাংস বিক্রি করেছে এবং গ্রাহকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। এবারই প্রথম কাপাসিয়ার মানুষ ঘরে বসে মাংস কিনেছে এবং হোম ডেলিভারি সার্ভিস পেয়েছে।
এই কোরবানির ঈদে ইকুরিয়া এগ্রো গয়াল সহ বেশ কিছু গরু অনলাইনে বিক্রি করেছে এবং অনলাইনে বিক্রি এখনো অব্যহত আছে। এছাড়াও ঢাকার ও গাজিপুরের দুটি অনলাইন মার্কেটিং কোম্পানি ইকুরিয়া এগ্রোর সাথে কাজ করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনিছুর রহমান বলেন, এখানকার খামারে ক্ষতিকারক কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। এই অঞ্চলে বিপুল দেশি গরু পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকেই গরু পালনকে ব্যবসায়ি কভাবে নিতে শুরু করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকেও তাঁদের উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •