অন্ধজনে আলো দিতে তাদের চক্ষুদান

একজন মৃত মানুষের চোখের কর্ণিয়া দিয়ে আরেকজন জীবিত অন্ধ মানুষের চোখে আলো ফেরানো সম্ভব। সারাবিশ্বে এই নিয়মে অন্ধজনে আলো ছড়ানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যদিও বাংলাদেশে এই রীতিটি এখনও প্রায় অন্ধকারে, নানা কারণে।

মূলত মানুষের মনের এই অন্ধকার দূর করতে এবং কিছু অন্ধ মানুষের চোখে আলো জ্বালাতে আজ (২৫ নভেম্বর) দুপুরে মরণোত্তর চক্ষুদান করলেন অভিনয় অঙ্গনের নন্দিত দম্পতি হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন এই প্রজন্মের অন্যতম অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির ৩৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তারা তিনজনই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানীর কাঁটাবন অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির দফতরে গিয়ে মরণোত্তর চক্ষুদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাসান ইমাম বললেন, ‘কর্ণিয়া সংযোজনে অন্ধ মানুষ পৃথিবীর আলো দেখতে পাবে- এমন একটি মহৎ কাজে সাড়া দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমার মনে হয় এই বিষয়ে আমাদের সবারই এগিয়ে আসা দরকার।’

এদিকে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘জানি না, আমার এই চক্ষুদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আজ এই কাজটি করে ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে খুব হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে মানুষের জন্য একটা কিছু করার চেষ্টা করেছি। খারাপ লাগে এই ভেবে, আমাদের দেশে এটা প্রচলিত না। ভারতেও এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ আছে, কারণ সে দেশের শিল্পীরা এই কাজটি আনন্দ নিয়ে করেন, প্রচার করেন। অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে বলিউডের বেশিরভাগ তারকাই চক্ষুদান করেছেন। আমি চাই আমার দেশের তারকারাও এই বিষয়ে একটু নজর দেবেন। এটা খুব দরকার।’

আজকের অনুষ্ঠানে চক্ষুদানের পর সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন হাসান ইমাম বাঁধন আরও বলেন, ‘আমি মারা যাওয়ার ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যে চোখের কর্ণিয়া সংগ্রহ করবে সন্ধানী। সেই কর্ণিয়া আরেকজন অন্ধ মানুষের চোখে প্রতিস্থাপন করলে ফিরে পাবে দৃষ্টি! এটা ভাবতেই তো আমার বর্তমান পৃথিবী আরও আলোকিত মনে হয়। আমি মরে যাবো, অথচ আমার চোখ দিয়ে আরেকজন মানুষ পৃথিবীর রূপ দেখবে- এরচেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে? এই সুন্দর বার্তাটা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার। আমি এখন থেকে সেই কাজটি আন্তরিকতার সঙ্গে করতে চাই।’ এই অভিনেত্রী প্রসঙ্গক্রমে আরও জানান, তাদের এই মরণোত্তর চক্ষুদান একদমই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম (টাকার বিনিময়ে নয়)।