অপরাধীরা ধরা পড়ূক,শাস্তি হোক…

প্রকাশিত:বুধবার, ১৬ নভে ২০১৬ ১০:১১

121211

দেশে চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়লেও অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারে লক্ষ্যনীয় তেমন কোনো সাফল্য নেই। সম্প্রতি কয়েকজন স্কুল ছাত্রী ও শিশুদের উপর হামলার ঘটনা সারা দেশকে নাড়া দিয়েছে। তারও আগে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই সদস্যের হত্যাকাণ্ড ঘটনাও ছিলো আলোচনার শীর্ষে। কিছু কিছু হামলাকারী ধরা পড়লেও কিছু হামলাকারীরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। অনেক অপরাধী ধরা না পরার মুল কারন হলো অপরাধীরা আগের তুলনায় আরো বেশি কৌশলী,সাবধানী ও সুসংগঠিত। এর মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতাও প্রকটভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান সরকারের দায়িত্ব। এই নিরাপত্তা বিধানে প্রথম সারিতেই রয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগ। মাঝে মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ উঠলেও তা কিন্তু একবারেই ভিত্তিহীন নয়। অপরদিকে পুলিশের উপর থেকে মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ^াস ফিরিয়ে আনতে কিছু পুলিশ সদস্য জীবন বাজি রেখে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন, তাও কিন্তু প্রশংসার দাবীদার। একের পর এক স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তিও বহির্বিশ্বে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সিলেটের বহুল আলোচিত রাজন হত্যা, বাহুবলের চার শিশু হত্যাকান্ড সহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডের ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক নাড়া দিয়েছে। একটি ঘটনার নীচে আরেকটি ঘটনা চাপা পড়ার ঘটনাও আমার দেশে স্বাভাবিক। সম্প্রতি এই শিশু খুনের ঘটনাও লক্ষনীয়। জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী শিশু অধিকার সংরক্ষন, শিশুর জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনাসহ শিশু নির্যাতন বন্ধ, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের বৈষম্য বিলোপ সাধনে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০ ও জাতীয় শিশু নীতি-২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি ও নীতিমালা শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশে এ-জাতীয় অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশেও জনমনে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন যুগ পেরিয়ে এসে মানুষ আজ তথ্য প্রযুক্তির যুগে বাস করছে। এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধীরা নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে বা করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই অপরাধ কার্যকরভাবে দমন করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা, অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করা, অপরাধীদের পক্ষ নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের এই দুর্বলতারও সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। সমস্যাটি অনেক পুরনো হলেও সমাধান মিলছে না। একটি বড় কোনো অপরাধ মূলক ঘটনা ঘটলে বা কেউ খুন হলে কয়েক দিন হৈ চৈ, মনববন্ধন, মিছিল, মিটিং,টকশো তে গরম হয়ে উঠে পুরো বাংলা। আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে,অপরাধী যে-ই হোক তাকে ধরা পড়তে হবে, তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধী বেরিয়ে আসবে এসব কমন ডায়ালগ চলতে থাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। সম্প্রতি নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় হিন্দু বাড়ি-ঘর উপাসনালয় পুড়িয়ে দেয়ার সংবাদ টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিনত হয়। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা কি আইনের আওতায় আসবে না কি ক্ষমতার জোরে রেহাই পেয়ে যাবে তা এখন কেবল দেখার বিষয়। যদিও এরকম বহু ঘটনার অভিঙ্গতা রয়েছে আমাদের। বিনা বিচারে যেমন কাউকে ১৭ বছর কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে, তেমনি তদন্তের ফাঁকে ঘুষ বা ক্ষমতার জোরেও বেড়িয়ে যাচ্ছেন অনেক অপরাধী। কোনো ঘটনার পর অনেক তদন্ত কার্যক্রমই কচ্ছপ গতিতে কয়েকদিন চলার পরই থেমে যায়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশ সামনে এগোনোর বদলে পশ্চাদ্গামী হয়ে পড়তে পারবে। হত্যাকাণ্ডে স্বজন হারানো পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সে দায়িত্ব কতটুকুই-বা পালন করছে রাষ্ট্র…? সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করলেই কেবল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। একের পর এক মানুষ খুন হবে, খুনিরা ধরা পড়বে না এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডের পর সুষ্টু তদন্ত হোক, প্রকৃত অপরাধী ধরা পরুক, শাস্তি হোক এটাই সবার কাম্য। দেশ এগিয়ে চলুক বাধাহীন দুর্বার গতিতে। সকল ষরযন্ত্রকে পেছনে ফেলে সবুজ-শ্যামল সোনার বাংলা মাথা উচু করে দাড়াক বিশে^র দরবারে।

লেখক…ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন (নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র)

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •