অবশিষ্ট আর রইল না!

প্রকাশিত:বুধবার, ১০ জুলা ২০১৯ ০৪:০৭

অবশিষ্ট আর রইল না!

শহরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আবাসিক এলাকা ঝিলটুলীর ঝিলের অবশিষ্ট অংশটুকুও ভরাট করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদী থেকে বালি মাটি এনে অনাথের মোড়ের নিকট ঐতিহ্যবাহী ঝিলের শেষ অংশ ভরাট করা হচ্ছে। এই অংশটুকু ভরাট হয়ে গেলে ঝিলটুলীতে ঝিল বলে আর কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। এতে পানি নিষ্কাশন ও অগ্নি নির্বাপণে সমস্যাসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

আনুমানিক এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই ঝিলটি ফরিদপুর খালের বাদামতলি সেতুর নিকট থেকে শুরু হয়ে অনাথের আচারের মোড় হয়ে দক্ষিণে কমলাপুর মহল্লার ঢোল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। এই নৌপথটি ছিলো শহরের পানি নিষ্কাশন ও জরুরি প্রয়োজনে পানি সরবরাহের অন্যতম উৎস। ঝিলের শুরুর পথে উত্তর পাশে টাউন থিয়েটার থেকে অম্বিকা হল পর্যন্ত অংশটুকু ১৯৭৯ সালে স্থায়ীভাবে ভরাট করে ফেলা হয়। এখন পুরাতন স্থাপনা ভেঙে সেখানে ১০তলা বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ওই ঝিল ভরাট করে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, বি এম এ ভবন, প্রকৌশল সমিতি, চৌরঙ্গী হোটেল, সুফিক্লাব পাঠাগারসহ বিভিন্ন নামে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। অনাথের আচারের দোকানের মোড় পর্যন্ত টিকে থাকা ঝিলটির অবশিষ্ট প্রায় ৫শ’ মিটার জুড়ে গত মাস থেকে ভরাট করা হচ্ছে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে।

রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী দাবি করেন, ১৯৫৫-৫৬ সালে এক নিলাম ক্রয়ের মাধ্যমে ঝিলটির এই অংশের মালিক হয় রাজেন্দ্র কলেজ। ঝিলের পাড়ে নতুন একটি ছাত্রীনিবাস স্থাপন করা হয়েছে। এখন ঝিল ভরাট করে ওই ছাত্রীনিবাসের সীমানা প্রাচির হবে। ভরাট কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিনিধি গোলাম মনসুর নান্নু জানান, গত ১ জুন থেকে রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি ভরাট করাচ্ছে। প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাকে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী বলেন, ওই ঝিলটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে আমাদের জানা ছিল। এখন শুনছি ওটির মালিকানা রাজেন্দ্র কলেজসহ বিভিন্ন ব্যাক্তি। পৌর মেয়র জানান. শহরের বিস্তীর্ন অঞ্চলের বৃষ্টির পানি ওই ঝিল দিয়ে অপসারিত হয়। ঝিলটি ভরাট করে ফেলা হলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। যা প্রকারন্তরে সর্বস্তরের পৌরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। একারণে ফরিদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে এরইমধ্যে ওই ঝিলটিতে পানি প্রবাহের ধারা অক্ষুন্ন রেখে কাজ করার জন্য রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •