অর্থকরী ফসল হিসাবে গাংনীতে পান চাষে আগ্রহ বাড়ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টে ২০২০ ০২:০৯

অর্থকরী ফসল হিসাবে গাংনীতে পান চাষে আগ্রহ বাড়ছে

মেহেরপুর প্রতিনিধি :
গাংনীতে অর্থকরী ফসল হিসাবে পান চাষে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। তামাক চাষ ছেড়ে কৃষকরা বর্তমানে পান চাষে ঝুঁকে পড়েছে। গাংনী উপজেলায় এক সময় সর্বত্র পান চাষ দেখা না গেলেও বর্তমানে প্রায় সব গ্রামেই কমবেশী দেখা যাচ্ছে। অর্থকরী পণ্য হিসাবে পান চাষের গুরুত্ব কম নয়। দেশে তো বটেই বিদেশেও পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছ্।ে মিঠা পানের মিষ্টিসুগন্ধি রসের নির্যাস যেন সারাক্ষণ মুখে লেগে থাকে। আমাদের দেশ শুধু নয় প্রথিবীর সব দেশের বয়স্ক মুরুব্বীরা পান খাওয়াটা অনেকটা নেশার মত ব্যবহার করে থাকে।গ্রামের সব বাড়িতে পানের বাটা ও দোকানে রকমারী মসলা দিয়ে সুগন্ধযুক্ত পান পাওয়া যায়। পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের ন্যায় পান চাষে লাভবান হচ্ছে গাংনীর কৃষকরা। এরকম অসংখ্য পানের বরজ গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোভা পাচ্ছে। একসময় কৃষকদের মধ্যে ধারণা ছিল , পান চাষ শুধু উপজেলার পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী এলাকাতে পান চাষ (বরজ) হয়। গাংনী উপজেলার মাটি আবাদযোগ্য না বলে কেউ আগ্রহ দেখাতো না। কিন্তু সে ধারণা ভেঙ্গে বর্তমানে গাংনীতে পান চাষের ব্যাপকতা বেড়েছে।
পান চাষ করে সফলতার মুখ দেখাচ্ছে গাংনী উপজেলার কচুইখালী গ্রামের সফল চাষী ইমাদুল ইসলাম।ভাটপাড়া মাঠে কথা হলো এরকম সফল চাষী ইমাদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকবছর ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পান চাষ কওে আসছি। পান চাষে আমি লাভবান হয়েছি। এবছর আমি গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছি। আমি এযাবৎ প্রায় ২ লক্ষ টাকার পান বিক্রি করেছি। বর্তমানে আমি পরিচর্যা করে যাচ্ছি। দুই এক মাসের মধ্যে বাজার মূল্য ঠিক থাকলে আরও ২ লক্ষ টাকা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার ৩ ছেলে সন্তান। আমি পান চাষ করে বড় ছেলেকে শিক্ষিত করে পল্লী বিদ্যুতে অফিসার পদে চাকরিরত, মেঝো ছেলে ভার্সিটিতে ও ছোট ছেলে কলেজে পড়াশোনা করছে।ইতোমধ্যে পান চাষ করে একটি বাড়ি ও কিছু জমি ক্রয় করেছি। বর্তমানে আমার দেখাদেখি অত্র এলাকার দীগলকান্দির সাহারব, ইয়ার আলী, ইয়াছিন আলী, ও কচুইখালীর তারিকুল ইসলাম পানের বরজ করেছে। পান চাষী ইমাদুল ইসলাম আরও জানান,আমি একসময় প্রশিক্ষণ না নিয়ে চাষ করতাম। বর্তমানে কৃষি অফিসারের মাধ্যমে প্রশিক্ষন গ্রহন করে চাষ করছি। আমার ইতোপূর্বে ১ বিঘা জমিতে বরজ ছিল এবছর ১০ কাঠা (৭৫ পিলি) জমিতে চাষ করেছি। তিনি বলেন, পলি দোঁয়াশ ও উচু জমিতে পান চাষ ভাল হয়। খরচ বিঘা প্রতি ১ লাখ টাকা হয়্ ।পান চাষে জৈব সার ও খৈল ব্যবহার করতে হয়। গাংনী উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সার্বক্ষনিক পরামর্শ, দিক নির্দেমনা ও নিবীড় পরিচর্যার মাধ্যমে পোকা মাকড় ও রোগ বালাই দমন করা হয়।পান চাষে কিছু রোগ বালাই যেমন গোড়া পচা, লতা পচা,ঢলে পড়া, পাতা পচা, পাতায় ষ্পট ইত্যাদি দেখা যায় । এসব ছত্রাক নষ্ট বা প্রতিকারের জন্য ছত্রাক নাশক ব্যবহা করতে হয়। ঠিকমত বালাইনাশক ব্যবহার না করলে ফলন কমে যায়। পাট কাঠি, খড়, ধানের ছন, বাঁশের খুটি বা শলা ভালভাবে শুকিয়ে দ্রবণে চুবিয়ে জীবানুমুক্ত না করলে পান চাষে ক্ষতি হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসারদের পরামর্শে পান বরজে পরিচর্যাকর্মী সহ দর্শনার্থীদের সকলকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে জীবানুমুক্ত হয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
পান চাষ নিয়ে কথা হলো গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবউদ্দীন আহমেদ এর সাথে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানখোলা ইউপির বিভিন্ন এলাকায় পান বরজ পরিদর্শন করেন এবং পান চাষীদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, গাংনীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ‘নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মিঠা পানের চাহিদা থাকায় আমরা ‘মিঠা পান’চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। এবছর গাংনীতে ৫০ হেক্টর জমিতে পানের বরজ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পান চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •