আইনে পরিণত হলো ব্রেক্সিট বিল

যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের সিদ্ধান্তকে আইনে পরিণত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার ইইউ উইথড্রয়াল বিল নামে পরিচিত এ সংক্রান্ত বিলটির অনুমোদন দেন দেশটির এমপিরা। নতুন আইনে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন আঞ্চলিক জোটটি থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার দুই বছর মেয়াদি প্রক্রিয়া শেষ হবে।

 

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাও-এর ব্রেক্সিট বিলকে আইনি পরিণত করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা।ইউরোপিয়ান কমিউনিটিজ অ্যাক্টের আওতায় ১৯৭২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভ করে যুক্তরাজ্য।

 

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এমপিদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন উইথড্রয়াল অ্যাক্ট ২০১৮ বিলটিকে আইনে পরিণত করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন।আইনে প্রায় ২০ হাজার ইউরোপীয় আইনকে ব্রিটিশ আইনের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, দেশের এই ঐতিহাসিক ক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করেছেন। ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

মঙ্গলবার বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার কদিন আগেই ব্রেক্সিট ইস্যুতে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ আইনমন্ত্রী ফিলিপ লি। একইসঙ্গে এ ইস্যুতে সরকারের কৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট ইস্যুতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এই রাজনীতিক। মন্ত্রিত্ব ত্যাগের ফলে তিনি বিলটি নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

 

ফিলিপ লি বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে আমার আসনের জনগণ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি গণভোটের আয়োজন করতে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে বিলম্বের আহ্বান জানান ফিলিপ লি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *