আওয়ামী লীগকে মানুষের স্বপ্নের সমান বড় হতে হবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২০ ১০:০৬

আওয়ামী লীগকে মানুষের স্বপ্নের সমান বড় হতে হবে

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। এই শুভ দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল যে রাজনৈতিক দলের, ২০২০ সালের ২৩ জুন সে দলটি ৭১ বছর অতিক্রম করে ৭২ বছরে পা দিল। দীর্ঘ সময়। দীর্ঘ পথপরিক্রমা। জন্মলগ্নে নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৪ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামেই দলটির পরিচিতি এবং বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। এই দলের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, উদ্যোগী ছিলেন, তারা সবাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। পাকিস্তান জন্ম নেওয়ার দুই বছর না ঘুরতেই কেন একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিতে হলো, তা অবশ্যই ভাববার বিষয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার গর্ভজাত দল নয়। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরতেই এই দল গড়ে উঠেছিল। তাই এটা বলা যায় যে, জনগণের প্রয়োজনে জনগণের দল হিসেবেই আওয়ামী লীগের গড়ে ও বেড়ে ওঠা।

মুসলিম লীগ এবং কমিউনিস্ট পার্টি অবশ্য আওয়ামী লীগের আগেই জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু তখন দেশ ভাগ হয়নি। নানা কারণে মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টিকে এই ভূখণ্ডে (বর্তমান বাংলাদেশে) জন্ম নেওয়া দল বলেও মনে করা হয় না। আওয়ামী লীগকে যেমন দেশীয় দল মনে করা হয়, ওই দল দুটিকে তেমন নয়। তাই এখানে গড়ে-বেড়ে উঠেও ওই দুটি দল কেমন বিদেশি বা বাইরের হিসেবেই থেকে গেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম না হয়ে বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। অবশ্য মুসলিম লীগ এবং কমিউনিস্ট পার্টির জনবিচ্ছিন্নতার কারণ এক নয়। মুসলিম লীগ গণবিরোধী ভূমিকা নিয়ে হারিয়ে গেছে। আর কমিউনিস্ট পার্টি সাধারণ মানুষের পক্ষে থেকেও তত্ত্বীয় রাজনীতির জটিলতায় গণসম্পৃক্ত হতে পারেনি।
তাই বয়সে সিনিয়র হলেও রাজনীতিতে এই দল দুটি আওয়ামী লীগকে পেছনে ফেলতে পারেনি। বরং তারা নিজেরা কেবলই পিছু হটেছে। জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম লীগ বয়সের ভারে এবং ভুল রাজনৈতিক পথ অনুসরণের কারণে এখন একেবারেই চলৎশক্তিহীন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিদার মুসলিম লীগ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ভূমিকা নিয়ে এক ঐতিহাসিক ভুল করে তাদের দলীয় অস্তিত্বের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। মুসলিম লীগ নামে সাইনবোর্ড সর্বস্ব দল এখনো আছে, কিন্তু মানুষ তার কোনো খোঁজখবর রাখে না। মানুষের মধ্যে তার কোনো প্রভাব নেই। ইতিহাসের উপাদান না হয়ে আবর্জনায় পরিণত হয়েছে মুসলিম লীগ। কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। এটা ঠিক, কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয়েছে বিদেশি প্রভাবে। ১৯১৭ সালে মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রুশ বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর মূলত তার অভিঘাতেই ভারত তথা বাংলায় কমিউনিস্ট মতবাদ এবং কমিউনিস্ট পার্টি শিকড় গাড়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ যেমন জনগণের দল হয়ে উঠেছে, তেমনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের নীতি-কৌশলে পরিবর্তন এনে দলের শক্তি, গতি, জনসমর্থন সবই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেক বিপর্যয় এসেছে। একাধিকবার দলে ভাঙন হয়েছে। বড় বড় নেতাদের দলত্যাগের ঘটনাও আছে। আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করার ষড়যন্ত্র-পরিকল্পনাও হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে পরাভূত করা যায়নি।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ