আওয়ামী লীগের জন্ম বাঙ্গালি জাতির জন্য

প্রকাশিত:শনিবার, ২৭ জুন ২০২০ ১১:০৬

আওয়ামী লীগের জন্ম বাঙ্গালি জাতির জন্য

১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে দেশ ভাগের পর প্রথম রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ, পরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এবং সব শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে এই উপমহাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল, যেটির নেতৃত্বে একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। এই স্বাধীনতার জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, সেই ৩০ লাখ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।আওয়ামী লীগ একবারেই এ দেশেই শুধু নয়, সারা ভারতবর্ষে একমাত্র জাতীয় দল, যার জন্ম এই মাটিতেই এবং তার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয় এক ইংরেজ বেসামরিক আমলা অ্যালেন অক্টোবিয়াস হিউমের মাধ্যমে, ১৮৮৫ সালে। উদ্দেশ্য ভারতীয়দের সঙ্গে শাসক গোষ্ঠীর সম্পর্কোন্নয়ন।

১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব আর বনেদি বিত্তশালীরা গঠন করেন মুসলিম লীগ, তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের পর ভারতে গঠিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২০ সালে (মতান্তরে ১৯২৫ সালে), মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের চিন্তধারার মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি ভারত দখলপ্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তী ১০০ বছরে তারা নানা ছলচাতুরি ও বিশ্বাসঘাতকতা করে বস্তুতপক্ষে সারা ভারতবর্ষ দখল করে নেয়। ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের পর (ইংরেজ ঐতিহাসিকরা বলেন সিপাহি বিদ্রোহ) ভারতের শাসনভার কম্পানি থেকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে চলে যায়। ১৮৫৭ সালের পর ইংরেজরা বুঝতে পারে, দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে ভারতীয়রা তাদের কারণে যে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের মাঝে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে ভারতীয়রা শিক্ষাদীক্ষায় একটু উন্নতি লাভ করলে তারা বুঝতে পারে, ইংরেজ শাসকরা কিভাবে এবং কত উপায়ে তাদের শোষণ করছে। তখন প্রথমে কংগ্রেস এই শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ বিলাত থেকে পড়া লেখা শেষ করে এসে প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের মতো একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে অনেকটা ছিনতাই করে তাকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরমে রূপান্তর করেন।আওয়ামী লীগ যখনই নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছে তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে। ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধু ও তার পুরো পরিবারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। বেঁচে যান বিদেশে থাকা তার দুই কন্যা— আজকের ক্রান্তিকালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দলটিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অর্জন আছে অজস্র। কিন্তু অনেক সময় কাছের মানুষরাই অনেক কিছু পণ্ড করে দিয়েছেন। আশা করব ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা সব প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশকে আরও উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন। এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের প্রতি অভিবাদন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি রইল ভালোবাসা। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা এক বিস্ময়কর স্থানে নিজেদের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। সেই স্থানটুকু তাদের জন্য নির্ধারিত, যেমনভাবে অনিবার্য ছিল আওয়ামী লীগের জন্ম।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •