আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ প্রকল্প স্থাপন-দুই দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন হবে। -রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক

প্রকাশিত:রবিবার, ৩১ জুলা ২০১৬ ০১:০৭

আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ প্রকল্প স্থাপন-দুই দেশের আর্থিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন হবে। -রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
রেলপথ মন্ত্রী মো: মুজিবুল হক বলেছেন আগরতলা-আখাউড়া তথা বাংলাদেশ-ভারত রেলপথ প্রকল্প স্থাপনের মধ্যদিয়ে দুই দেশের অর্থ বাণিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তিনি রোববার বেলা ১১টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা যাওয়ার পথে পথে দুই দেশের শুণ্য রেখায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন আজ দুপুরে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা রেলওয়ে ষ্টেশনে আগরতলা-আখাউড়া রেলপথ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে। সেখানে সেদেশের রেলপথ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন দুই দেশের যৌথ এই রেলপথ নির্মান কাজ শেষ হলে ভারত বাংলাদেশের অর্থ বাণিজ্য-যোগাযোগ আরো সহজ হবে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বেশিরভাগ ভারতীয় অনুদান এবং বাংলাদেশের জিওবি ফান্ড থেকে আখাউড়া আগরতলা রেলপথ নির্মান হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অংশেও জমি অধিগ্রহণ এবং মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। এই রেলপথ নির্মান হলে দুদেশের সর্¤úক আরো উন্নত হবার পাশাপাশি বানিজ্যের প্রসার ঘটবে।
মন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রনালয়ের ভবিষৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে রেলপথ যশোর যাবে। তাছাড়া দোহাজারী কক্সবাজারেও নতুন রেলপথ নির্মান এবং যমুনা নদীর উপর পেরালাল সেতু নির্মান করা হবে।
পরে দু-দেশের সিমান্ত রেখা (নোম্যান্সল্যান্ডে) মন্ত্রীকে স্বাগত জানান ত্রিপুরার পর্যটনমন্ত্রী শ্রী রতন ভৌমিক, আগরতলা পৌর সভার মেয়র ড.প্রফুল্ল জিৎ সিংহা, পশ্চিম জেলার ডিএম ডা. মিলিন রাম টেকে এবং পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ সপ্তসী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া আগরতলা রেলপথ হবে ১৫ কিলোমিটারের। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার এবং আগরতলা অংশে ৫ কিলোমিটার। রেলপথটি আগরতলা অংশ থেকে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের গঙ্গাসাগর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশনে আসবে। তবে আগরতলা অংশে কাজের উদ্বোধন হলেও বাংলাদেশ অংশে এ কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে ইতিমধ্যে ৯৭ কোটি রুপি পেয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। এর পুরোটাই ব্যয় হবে ভারতের অংশে ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণে। ওই ৫ কিলোমিটার রেললাইন নিমাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮০ কোটি রুপি। অপর দিকে বাংলাদেশ অংশে ১০ কিলোমিটার রেলপথ নিমাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য ভারতের ডোটার মন্ত্রণালয় ১শ৫০ কোটি রুপি দিচ্ছে সেখানকার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে। আপাতত জমি অধিগ্রহণের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ৯৭ কোটি রুপি পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •