‘আগামীর সিলেট’ গড়তে আরিফুলের ইশতেহার

‘নতুন সিলেট’ গড়তে চান সিলেটে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। সেই নতুন সিলেট গড়ার প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ‘আগামীর সিলেট’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের কাজীটুলা উঁচা সড়কে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন সিলেটের সদ্য সাবেক এই মেয়র।

 

ইশতেহারে আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর আগেরবারের নির্বাচনী ইশতেহারের যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন তার তথ্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর আমলে নেওয়া যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান, তার তথ্যও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, আগেরবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ৩৩ মাস তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। ওই সময় তিনি যেসব কাজ করতে পারেননি, অথবা তাঁকে করতে দেওয়া হয়নি, এর দায় কি সত্যিই তাঁর—এমন প্রশ্ন তোলেন আরিফুল হক।

 

নির্বাচনী ইশতেহারে আরিফ বলেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নগরবাসীর জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে। রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যেখানে জলাবদ্ধতায় ধুঁকছে, সেখানে সিলেটবাসী জলাবদ্ধতা থেকে অনেকাংশে মুক্ত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও ছড়া ও খাল উদ্ধার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী করার স্বার্থে সুরমা নদীকে খনন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা নেওয়া হবে। কারণ, সুরমা নদী ভরাট হওয়ার কারণে নদীর পানি যখন বেড়ে যায়, তখন ছড়া ও খালের পানি নদীতে মিশতে না পেরে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

প্রযুক্তিনির্ভর সিলেট গড়তে আগের মেয়াদে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আরিফ বলেন, সিটি করপোরেশনকে তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সন্ধ্যাবাজারে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করে গেছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার সিলেট শহরকে ওয়াই-ফাইয়ের আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

নগরীর যানজট নিরসনে গত মেয়াদে রাস্তা প্রশস্ত করা, রিকশার আলাদা লেন চালু করার কথা তুলে ধরেন তিনি। যেখানে সেখানে পার্কিংয়ের কারণে যানজন নিরসনের জন্য টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরিফুল বলেন, যানজট নিরসনে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হকার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ লালদীঘি মার্কেট ভেঙে ফেলা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, সেখানে সুপরিসর মার্কেট তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। ইতিমধ্যে হকারদের তালিকা করা হয়েছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নগরে দূষণ কমছে জানিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, এ কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে দূষণের মাত্রা আরও কমে আসবে। আবর্জনা যাতে খোলা জায়গায় না রাখা হয়, তার জন্য আগের তিনটি ট্রান্সফার স্টেশনের পাশাপাশি আরও পাঁচটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হবে।

 

মেয়র হলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখবেন বলে ইশতেহারে জানান আরিফ। তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নগরীর ১৮টি জনবহুল বস্তিতে তিন কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সিস্টেমের কাজ শেষ হয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হলে এ কার্যক্রমকে শহরের সব বস্তিতে সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন। বস্তিবাসীদের চিকিৎসাসেবায় নগরীতে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দেন আরিফুল হক। এ ছাড়া ২৫ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন আরিফ।

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য স্কুলের সংখ্যা ও কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোর কথা রয়েছে ইশতেহারে।

নগরবাসীর পানির চাহিদার কথা বিবেচনা করে নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান আরিফুল। তিনি জানান, আগে নেওয়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পগুলোকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে ‘ড্রিম টিম’ গঠন করার ঘোষণা দেন তিনি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ প্রকল্পে শিক্ষিত বেকারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনকে সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্র এবং সিলেটকে তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ নতুন সিলেট গড়তে এই ড্রিম টিম গবেষণা করবে।

নির্বাচনী ইশতেহারে আরিফুল হক নারীদের জন্য পৃথক একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করার ঘোষণা দেন। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলবেন। পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা টাউন বাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে ইশতেহারে।

আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর ইশতেহারের শেষ দিকে আগামীর সিলেট গড়তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেক সহজ হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল। আগামীর সিলেট কিংবা আগামী ৩০ বা ৫০ বছর পর সিলেটকে যেভাবে মানুষ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.