আগামীর সিলেট হবে দেশের সমৃদ্ধ ও দর্শনীয় এক জনপদ

আব্দুল করিম কিম (লেখক)
নতুন মন্ত্রীসভায় অর্থ মন্ত্রণালয় সিলেটের শিকায় জোটেনি বলে হুতাসনের কিছু নাই। ইতিপূর্বে হওয়া অর্থমন্ত্রীরা সিলেটকে রাজভাণ্ডার উজাড় করে কিছু দিয়েছেন বলা যাবে না। যা প্রাপ্য ছিল সিলেটবাসীকে প্রাপ্যের অধিক কেউ কিছু দিতে পারেন নি। বরঞ্চ প্রাপ্যটুকু না পাওয়ার অভিযোগ করা যায়। থাক, সে দিকে আর যাচ্ছি না। আসুন যা পেয়েছি তা নিয়ে আলোচনা করি-

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা ও বন-পরিবেশ। এছাড়া দুই জন প্রতিমন্ত্রী পাওয়া গেছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান। এই দুই মন্ত্রণালয়ে অন্য কেউ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নন। এই পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সিলেটবাসীকে ন্যায়সংগতভাবে চাইলে উজাড় করে দিতে পারবেন। অতীতের অনেক বঞ্চনার অবসান করতে পারবেন। প্রশ্ন করবেন, কিভাবে?

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের মানুষের একটি চাওয়া প্রবাসীদের সম্পদ, স্বার্থ ও নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত করা হয়। এসবের অনিশ্চয়তা প্রবাসীদের দেশবিমুখ করছে। ফলে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে শিকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ প্রবাসীরা দেশে গেলে হয়রানির শিকার হন। তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। কোনো কাজের জন্য কোনো অফিসে গেলে টাকা চাওয়া হয়। তাদের সম্পদ বেদখল হয়ে যায়। দেশের স্বার্থেই এ ধরনের অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তিন সিলেটি মন্ত্রী এবার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের সুযোগ নিতে পারেন।

সিলেট বিভাগের প্রকৃতি ও পরিবেশ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সমৃদ্ধ। এখানে হাওর আছে, পাহাড় আছে, বনাঞ্চল আছে। কিন্তু প্রকৃতির এই প্রতিটি দান আজ ধ্বংসের মুখে। এই সম্পদ রক্ষা করতে হলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরী। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বিগত দিনে যারা এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কারো ভূমিকাই প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব ছিলো না। এ অবস্থায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে সিলেটের একজন তৃণমূলের রাজনীতিবিদ দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় সিলেটের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

এছাড়া এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকনে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ থাকলেও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্থানসমুহ সংরক্ষণের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সিলেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী হিসাবে সদ্যসাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্বভার দেয়ায় এখানেও আশাবাদের সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশার আওয়াজটুকু পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী কাক-কুকুর থেকে তাঁদের দূরে রাখতে পারলে আগামীর সিলেট বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও দর্শনীয় এক জনপদ হবে।

আব্দুল করিম কিম। সংগঠক ও পরিবেশ কর্মী।