আত্নকথন ::: রোটারেক্ট এবং আমি . . .

মাহফুজ আদনান ::: রোটারেক্ট জেলার মাসিক ভুলেটিনে রোটারেক্ট নিয়ে লেখা চেয়েছেন বাংলাদেশের রোটারেক্ট জেলা ৩২৮২ এর জেলা প্রতিনিধি রোটারেক্টর পিপি জিয়াউদ্দিন হায়দার শাকিল । রোটারেক্ট ইতিহাস নিয়ে নতুন কিছু লিখার প্রয়োজন বোধ করি না । কেননা আমার, আমাদের প্রিয় সংগঠন রোটারেক্ট নিয়ে এর আগে অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ লিখেছেন । আর ইন্টারনেট এর যুগে রোটারেক্ট হিস্টোরি গুগল সাহেবের কাছে সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসবে । রোটারেক্ট থেকে কি পেয়েছি বা পাচ্ছি আর রোটারেক্ট আন্দোলন নিয়ে নিজের কিছু সুন্দর সময়গুলোর কথা তুলে ধরবো । বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের অন্যতম বৃহৎ একটি যুব সংগঠন । ১৩ মার্চ ১৯৬৮ রোটারেক্ট সংগঠনের যাত্রা । রোটারেক্ট ক্লাব অব মদন মোহন কলেজের একজন সাধারণ সদস্য হিসেব আমার পথচলা শুরু । আসলে রোটারেক্ট কি সেটা আমি জানতাম না । আমার মামা রোটারেক্ট ক্লাব অব সিলেট এমসি কলেজের সাবেক সভাপতি সাহেদুল ইসলাম সুহেদ । তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রম পত্রিকায় ছোটবেলায় পড়তাম । সেটা আমার কৈশোরের সময় । এরপর পড়াশোনার জন্য বিভাগীয় শহর সিলেট চলে আসলাম আমার ছোট্ট মফস্বল শহর থেকে । এখানে আমার অনেক বন্ধু গড়ে উঠে । এর কিছু দিন পর আমার মামা দেশ ছেড়ে ইউরোপে চলে যান । বর্তমানে সেখানে তিনি চ্যানেল আই এর প্রতিনিধি আর স্পেন বাংলা প্রেসক্লাব এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন । সিলেটে এসে কলেজ ক্যাম্পাসে রোটারেক্ট ক্লাব অব মদন মোহন কলেজের পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন কার্যক্রম দেখতাম । এর কিছুদিন পর রোটারেক্ট ক্লাব অব মদন মোহন কলেজের প্রাক্তণ সভাপতি এক্স রোটারেক্টর পিপি এনামুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করে কলেজের নিয়মিত সভায় দাওয়াত পাই । সময়টা ২০০৬-২০০৭ রোটাবর্ষ । প্রথম নিয়মিত সভায় সিলেট শহরের প্রায় সবকটি ক্লাবের সাবেক, বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সদস্যদের সামনে আমার মত একজন সাধারণ তরুণকে পরিচয় করিয়ে দিলেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট এক্স রোটারেক্টর পিপি এনামুল হাসান । আমার কাছে বিষয়টি খুব ভালো লাগলো । সবাই করতালি দিয়ে বরণ করে নেন । যা আমাকে অণুপ্রাণিত করে । এরপর টানা তিনটি সভা ভিজিট করে মেম্বারশিপ নিই । আমি ক্লাব মিটিং কোন কারণ ছাড়াই মিস দিতাম না । সিলেটের যেখানে থাকতাম মিটিং এর সময় চলে আসতাম । সংগঠন টি আমাকে দায়িত্বশীলতা শিখিয়েছে (নিজেকে কতটুকু দায়িত্ব বোধ সম্পন্ন করতে পেরেছি জানি না) । প্রোগ্রাম পরিচালনা, উপস্থাপনা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তি উন্নয়নসহ অনেক কিছু শিখেয়েছে । দেশ প্রবাসে অনেক বন্ধু উপহার পেয়েছি । অনেক গুণিজনের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে । যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রতিটি পরিচয়ে নতুন কিছু শিখেছি । নতুনকে জেনেছি । ২০০৬ -২০০৭ রোটাবর্ষ থেকে ২০১৭-১৮ রোটাবর্ষ রোটারেক্ট সংগঠনে আছি । আর কয়েকবছর পরেই বিদায় নিতে হবে । কেননা তারুণ্যের জয়গান গাওয়া, সময়ের জয়গান গাওয়া এই সংগঠনের বয়স সীমা ১৮ থেকে ৩০ বছর । এর মধ্য দিয়ে আরেক বড় ভাই রোটারিয়ান সুহেল আহমদ রিপন রোটারেক্ট ক্লাব অব সিলেট টি গার্ডেন করলে সেখানে তার আমন্ত্রণে তার ক্লাবে যোগ দিই । সময়ের ধারাবাহিকতায় দেশে আমার প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে গঠণ করেছি রোটারেক্ট ক্লাব অব সিলেট নিউসিটি । আমার প্রিয় বন্ধু আর রোটারিয়ানদের কাছে এজন্য আমি কৃতজ্ঞ । জানি না রোটারেক্ট সংগঠনকে কি সার্ভিস দিতে পেরেছি । কিন্তু আমি এখান থেকে পেয়েছি আমার অগণিত ভালোবাসার, ভালোলাগার মানুষ । এখানে মার্কিন মুল্লুকে এসে আমি রোটারেক্ট ক্লাব অব নিউইয়র্ক ইউনাইটেড নেশনের সভায় উপস্থিতির সৌভাগ্য হয়েছে । পরে এখানে আমার প্রিয় ছোটভাইদের অণুপ্রেরণায় রোটারেক্ট ক্লাব অব নিউইয়র্ক কুইন্স গঠন করি । আমি মনে করি এই ক্লাব করার ফলে রোটারি জেলা ৩২৮২ এবং রোটারি জেলা ৭২৫৫ এর মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন রচিত হয়েছে । বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক থেকে মার্কিন মুল্লুকের এই ব্যস্ত শহরে শত ব্যস্ততায় উদ্বুদ্ধ তরুণকে নিয়ে আমাদের পথচলায় আমরা সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.