Wed. Oct 23rd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

আব্দুল্লাহপুর টু শাহবাগ: বাস সংকটে বিপাকে যাত্রীরা

1 min read

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট-শাহবাগ হয়ে মতিঝিল যাওয়ার একমাত্র পরিবহন বিআরটিসি। যাত্রীর তুলনায় বাস কম থাকায় প্রতিনিয়ত এ রুটে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ।

 

শনিবার রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, বনানী, ফার্মগেট, শাহবাগসহ বিভিন্নস্থান ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল যাওয়ার একমাত্র যানবাহন বিআরটিসি বাস। এছাড়া এই রুটে নেই কোন অন্য বাস। বিআরটিসির যে বাসগুলো চলাচল করে সেগুলোও পর্যাপ্ত নয়। প্রতিদিন সবস্ট্যান্ড থেকে লড়াই করে বাসে উঠতে হয় যাত্রীদের। কোনো মতে বাসে উঠতে পারলেও সিট পাওয়া যায় না। এছাড়াও বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অফিস ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের।

 

জানা গেছে, এ রুটে আগে ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল করলেও গত ৬ মাস আগে থেকে রুট পরিবর্তন করে আব্দুল্লাহপুর থেকে মহাখালী হয়ে সাতরাস্তা পর্যন্ত যায়। ফলে এখন আব্দুল্লাহপুর টু শাহবাগে যাওয়ার একমাত্র যানবাহন বিআরটিসি।

 

 

 

রাজধানীর কারওয়ান বাজার যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্ট বাসস্ট্যান্ডে বিআরটিসি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ইকবাল হোসেন নামের এক বেসরকারি কর্মকর্তা। জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আমি বিআরটিসি বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কোনো বাস পাচ্ছি না। আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তাও জানি না।

 

তিনি আরো বলেন, আগে তাও ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিস বাস ছিল। কিন্তু এখন এই রুটে আর ৩ নম্বর বাস চলে না। ফলে অফিস করা আমাদের খুব মুসকিল হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিন অফিসে লেট করে ঢুকতে হয়। ফলে অফিসে গিয়েও বসের মুখকালো দেখতে হচ্ছে।

 

ফাহিম হোসেন নামের তেজগাও বিজ্ঞান কলেজের একজন শিক্ষার্থী খিলক্ষেত বাসস্ট্যন্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন সরাসরি ফার্মগেট যাওয়ার জন্য একমাত্র যানবাহন হলো বিআরটিসি। মেট্রোরেলের জ্যামের কারণে ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিস আর ফার্মগেটের রুটে চলে না। তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রায় লড়াই করে বাসে উঠতে হয়। ভাগ্য ভালো থাকলে কোনো কোনো দিন সিট পাই। তাছাড়া অধিকাংশ দিনই দাঁড়িয়ে যেতে হয়।

 

 

 

খিলক্ষেত বিআরটিসি ডিপোর ড্রাইভার মামুন হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, টঙ্গি স্টেশন রোড থেকে ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বাস চলাচল করে। মেট্রোরেলের কাজের কারণে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, শাহবাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে থাকতে হয়। যার ফলে বাসের শিডিউল ঠিক থাকে না।

 

তিনি বলেন, এছাড়াও কিছুদিন আগে যে নতুন গাড়িগুলো রাস্তায় নামানো হয়েছে। তা আগের দ্বোতালা বাসগুলো থেকেও খারাপ। রাস্তায় বিআরটিসি বাস সংকট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা বড় সমস্যা হলো প্রায় ১ বছর হলো আমরা কোনো বেতন পাইনা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের বেতনের ১৩ হাজার টাকা গত সপ্তাহে পেয়েছি। যেখানে আমার বেতন ছিল ২৪ হাজার টাকা। বাকী টাকা কেন দেয়নি সেটারও কোনো কারণ জানি না। যার ফলে ড্রাইভাররাও গাড়ি চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়াও গাড়ির যে পার্টসগুলো লাগানো হচ্ছে সেগুলোও উন্নত মানের নয়। ফলে গাড়ি ঘন ঘন নষ্ট হয়ে ডিপোতেই বেশি পড়ে থাকে।

 

মিজানুর রহমান মিজান নামে বিআরটিসির আরেক ড্রাইভার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত রোজায় সর্বশেষ বেতন তুলেছি। আমাদেরকে আশ্বাস দেয়া হয় নতুন গাড়ি নামলে দুই মাসের বেতন করে দেয়া হবে। কোন চুক্তিতে গাড়ি চালান জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে সুপারভাইজাররা ৩০০ থেকে ৪০০ শত টাকা দেয়। এভাবেই চলছে।

 

 

 

তিনি আরো বলেন, মনে করেন, খিলক্ষেত বাস ডিপোতে আনুমানিক প্রায় ১০০ এর অধিক বিআরটিসি বাস রয়েছে। এর মধ্যে এসি, নন এসি মিলে প্রতিদিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করে। এছাড়াও স্টাফ বাস আছে। বাকীগুলো ডিপোতেই আছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসি’র কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দক্ষ মেকানিক, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, যথাযথ সিদ্ধান্তের অভাব, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির কারণেই বিআরটিসি সার্ভিসে লোকসান হচ্ছে।

 

জানা গেছে, এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৫৫টি দাইয়ু বাস কেনা হয়েছিল। এছাড়াও, কেনা হয়েছিল গাড়ির যন্ত্রাংশ। এতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে বাসগুলো হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু, সেগুলোর মধ্যে বর্তমানে রাস্তায় চলে মাত্র ১৩৮টি।

 

সংস্থাটির মুখপাত্র আলমাস আলী জানান, বিআরটিসি’র অধীনে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৪৫টি বাস রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সচল রয়েছে ৯২১টি।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA