আমতলীর গ্রামীণ জনপদে আলোর পথ দেখাচ্ছেন গ্রাম আদালত

প্রকাশিত:সোমবার, ২৭ জানু ২০২০ ০৬:০১

আমতলী (বরগুনা) :
বরগুনার আমতলীর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্রাম আদালত। শতভাগ মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার জট নিরসনে আলোর পথ দেখাচ্ছে গ্রাম আদালত।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত ইউএনডিপি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের অধীনে জেলার আমতলী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে ২০১৭ সাল থেকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলার ০৭ টি ইউনিয়নে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মোট ১ হাজার ১ শ ২৫টি মামলা গ্রহন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৪৯ টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে ৭৩ লাখ ৭ হাজার ৬৯৬ টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিরা জানান, সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি হয় গ্রাম আদালতে। নিজ নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং আবেদনকারি ও প্রতিবাদী মনোনিত দুইজন করে চারজন প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ আদালত। গ্রাম আদালত গঠিত হওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উভয় পক্ষের মধ্যে আপসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় আদালত। এতে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে তা নিষ্পত্তি করা হয়। গ্রাম আদালতে মামলা করতে নামমাত্র ১০ও ২০ টাকা ফি দিতে হয় বিচার প্রত্যাশিদের। সর্বোচ্চ ১২০দিনের মধ্যে এই মামলা সমাধান করা হয়।
আমতলী উপজেলা গ্রাম আদালতের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সক্রিয় ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মানুষ এখন গ্রাম আদালত মুখি হচ্ছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার জানান, দেশের উচ্চ আদালতগুলোতে যেখানে একটি মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকছে, সেখানে গ্রাম আদালতে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আশা করি মামলার জট নিরসনে গ্রাম আদালত আলোর পথ দেখাবে।
উপজেলা গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন , সরকারি সেবা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন, গ্রাম আদালত তার একটি। সাধারণ মানুষ এখন আর ছোট-খাটো বিরোধ নিয়ে উচ্চ আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতে বিচার চাইছে। এর মাধ্যমে গ্রামের লোকজন তার এলাকাতেই নিজেদের মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে গ্রাম আদালতকে সক্রিয় এবং কার্যকর রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করে বিচার কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ