আমার দেখা একজন গণতান্ত্রিক নেতা মিজান

আবু সুফিয়ান প্রিন্স ::: ছাত্র রাজনিতীতে আদর্শ বলে একটা কথা ছিল । ছিল সিনিয়রদের সাথে কথা বলতে ভদ্রতাসূচক ব্যবহার । ছিল মত প্রকাশের ভাষা, ছিল গণতান্ত্রিক কর্মসূচী । যেমন কর্মিসভা, সাধারন সভা, জরুরী সভা এবং বর্ধিতসভা, জরুরী বর্ধিতসভা। প্রত্যেকটা কর্মসূচীর আালাদা অর্থ আছে যা গনতান্ত্রিক নিয়মে মত প্রকাশকে শানিত করে এবং গণতন্ত্রের পূর্ণতা দেয় ।
ছাত্ররাজনীতি যা দেয় তা অন্য উপায়ে পাওয়া যায় কিনতৃ দীর্ঘতর হয়না বা শিক্ষাকাল পর্যন্তই শেষ । আমাদের সমাজে বর্তমান ছাত্ররাজনিতী নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে । কিন্তু সমাধানের অনেক চেষ্টা থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না । তার কারণ তাদের সামনে কোন কর্মসূচী নাই যা আছে অভিভাবক সংগঠনের নেতার গ্রুপিংয়ের প্রয়োজনে । সেখানে আছে টেন্ডারবাজি , চাঁদাবাজি , ভাগবাটোয়ারা , ক্ষমতার দন্দ এই যা নিত্যদিনের কাজ ।
কিন্তু ছাত্ররাজনীতির সাথে পূরোটাই বেমানান। একজন মিজান এসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম । তার কর্মসূচী ছিল, ভীষণ ছিল, দলের প্রতি কমিটমেন্ট ছিল, কর্মী ছিল, ভাল বন্ধৃরা ছিল । যারা সবসময় তাকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। যার ফল হাতেনাতে পেয়েছেন তিনি। বিএনপির মত এত বড় দলের জেলা সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি করে সবাই মূল দলে জায়গা করে নিতে পারেনা । তাই বলে প্রকৃত নেতা কখনও পদ পেতে অসদুপায় অবলম্বন করেনা বলেই তার মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকে প্রতিহিংসার নয়।
বর্তমান জেলাকমিটিতে মিজান ভাই যাতে না আসতে পারে তার সব আয়োজন ছিল। কিন্তু একজন মিজান যে এমনিতে গড়ে ওঠেনি বা তিনি যে সাবেক গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সর্ব পর্যায়ের একজন ছাত্রনেতা । কারো করুণা বা দয়ায় তিনি কখনও নেতৃত্বের পেছনে দৌড়াননি তার জলন্ত প্রমাণ ভিপি মিজান।
ভিপি হওয়ার পর জেলা ছাত্রদলের কাউন্সিল অধিবেশন , শুরু হলো ভোট গ্রহণ। তাতে মিজান ভাই গ্রুপভিত্তিক রাজনিতীর কারনে গনণায় নোমান ভাইয়ের সাথে ড্র হয়ে যায় । তখন তার বড় মনের পরিচয়ের কারনে নুরুল আলম নোমান ভাই জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মনোনিত হন এবং তার নাম নিজ থেকে প্রত্যাহার করে নেন যা মিজান ভাইকে অনণ্য উচ্চতায় নিয়ে যায় যা একমাত্র দৃষ্টান্ত ,( যা এখনও আমাকে ভাবতে ভালো লাগে আমি তার মতো নেতার নেতৃত্বে কুলাউড়ায় ছাত্রদলের কলেজ , উপজেলায় দায়িত্ত্য পালন করেছিলাম) পরবর্তীতে রাজনৈতিক উত্তান পতনেও শত প্রতিকূলতার মধ্যে প্রতিহিংসার কোন ছাপ পড়তে দেননি বা দেখিনি তা তার যদি কোন শত্রুও থাকে তা বলবে। গনতন্ত্রকে লালন করা মিজান ভাই সব সময় পরমতসহিষ্ণুতালে উৎসাহ দিতেন যে কারণে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী । দল মত নির্বিশেষে একজন আপাাদমস্তক রাজনৈতিক নেতা। এজন্য উপজেলা নির্বাচনে ঘরে শত্রু থাকা সত্যেও সহজ ভাবে জয় নিশ্চিত হয় । উপজেলা নির্বাচন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে কেবলই জয় হয়েছে তা নয়, তার রাজনৈতিক অনেক হিসাব সহজ করে দিয়েছে যার প্রমাণ জেলার সম্পাদকতা পদ। উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পরও তার কোন পরিবর্তন হয়নি । একজন সাদা মনের মানুষ মিজান ভাই আজীবন এই দলকে ভালো বেসে আকড়ে আছেন । এইভাবে তার পরিবারও সারা জীবন ধরে এই দলকে দিয়ে যাচ্চেন বিনিময় চায়নি। একজন গনতান্ত্রিক মিজান গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্চেন দল এবং রাষ্ট্রের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। গনতন্ত্রের যত নর্মস আছে সবগুলোই তার কাছে বিদ্যমান । তাই আশা করি নবগঠিত কমিটিতে তাকে তার কাজ করতে দিলে দল শক্তিশালী হবে । আমরা পাব নেতৃত্বশুলভ ব্যাবহার যা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিতে অনুপস্থিত। প্রায় নেতা এখনও তৃণমূলের কর্মিদের নাম ঠিকানা জানে না । জানলেও তার প্রয়োজনমত। এইসব অহংকার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
পূনরায় অভিনন্দন মিজান ভাই আপনার ভবিষৎ সফলতা কামনায় মিজান ভাইকে অনুরোধ অতীতকে অবশ্যই মনে রাখবেন ।

লেখক :: আবু সুফিয়ান প্রিন্স, সাবেক সভাপতি, কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.