আম্ফান আতংকে উপকূলবাসী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০ ১১:০৫

আম্ফান আতংকে উপকূলবাসী

 

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) :
করোনা মহামারির মাঝে উপকুলের মানুষদের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নতুন করে আতংকের মধ্যে ফেলেছে। পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় ৭ নম্বর মহা বিপদ সংঙ্কেত জানিয়ে দেয়ার পর ঘুর্ণিঝড় আম্ফান আতঙ্ক বাড়তে শুরু করেছে কুয়াকাটা সহ গোটা সমুদ্র উপকূলীয় জনপদে। উপকূলের সবখানে মাইকিং করে জনসাধারনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সেচ্ছাসেবকরা মাইুকং করে যাচ্ছে। টানিয়ে দেয়া হয়েছে বিপদ সংকেত পতাকা। উপকুল ভাগে থাকা জেলেদের নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুর,পাথরঘাটা সহ বিভিন্ন নদনদীতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মাছধরা ট্রলার আশ্রয়ে নিয়েছে। মৎস্যবন্দর সুত্রে জানা গেছে এখনও উপকুল ভাগে ছোট ছোট নৌযান গুলোকে নিরাপদে যাবার জন্য বলা হয়েছে। আম্ফানের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর সহ নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে উপকুলের মানুষ। সমুদ্র উপকুল ভাগের ঝুকিপুর্ন এলাকায় সিডরে বিধ্বস্ত বেরিবাধসহ ভাঙ্গা স্লুইজ গেট দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশ করে লালুয়া, ধুলাসার, নীলগঞ্জ,মহিপুর ও লতাচাপলী সহ বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। তবে ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলায় দুর্যোগ কালীন সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। চলছে দফায় দফায় জরুরি বৈঠক। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে ১৬৩ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল মোটেল গুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসন। ২৪ ঘন্টা জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২ টি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম । শুকনা খাবার মজুদ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবায় ওষুধ কেনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বেরিবাধ বিধস্ত ঝুকিপুর্ন এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে লোকজন সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহীনিসহ সিপিপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুহাসনাত মো.শহীদুল হক জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় উপকুলবাসীকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার জন্য সেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দূর্যোগে চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জরুরী মুহুর্তে জনসাধারনকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •