আর কতখানি ভাঁঙ্গলে নজরে আসবে কর্তৃপক্ষের

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২০

আর কতখানি ভাঁঙ্গলে নজরে আসবে কর্তৃপক্ষের

 

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :
দিনাজপুর ফুরবাড়ীর কেন্দ্রীয় কবরস্থান‘‘কানাহার কবরস্থান’’ নানা অবহেলায় ও তদারকির অভাবে বিলিনের পথে মা,বাবা,আত্মীয় স্বজনের স্মৃতি বিজড়তি কবর গুলো। একদিকে কবরস্থানের পাড় ভাঁঙ্গে যাওয়া অপর দিকে ট্রাক,ট্রিলার পরিস্কার করার স্থান হিসেবে রুপ নেওয়া। তার সাথে অবাধে চলছে গরু,ছাগ,হাস পালনের চেষ্টা। সবমিলে কবরস্থানের যে পবিত্রতা তা আজ প্রশ্নের সম্মুখিন।
প্রায় ৩০০ একর জায়গা নিয়ে এ কবরস্থানে রায়েছে একটি মাছ চাষ যোগ্য ফুলবাড়ীর সবচেয়ে বড় পুকুর যার নাম কানাহার পুকুর। এই পুুকুরের পাড়ে অবস্থিত ফুলবাড়ীর কেন্দ্রীয় কবরস্থান। বুন্দিপাড়া,স্বজনপুকুর, রেলগুমটি,ডাঙ্গা, বারোঘরিয়া, কাঁটাবাড়ী, বাজার, নিমতলামোড়সহ প্রায় শহর এলাকার অধিকাংশ মানুষের মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার একমাত্র কবর স্থান এটায়।

কানাহার পুকুরের আর একপাশে অবস্থিত ফুলবাড়ীর ২য় সর্বচ্চ ঈদের জামাতের ঈদগাহ মাঠ। দুই ঈদে এখানে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে চলে কালেকশন। ্এখানে রয়েছে একটি ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি,তারা ঈদের মাঠ সংস্কার,পুকুরের পাড় সংস্কার করার কথা বলে প্রতি ঈদে নামাজ শেষে চলে তার কালেকশন।

এদিকে কোন মৃত ব্যাক্তির জানাযা করার জন্য কখন জাতীয় সংসদ সদস্য,উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান অথবা পৌর মেয়র আসেন তখন তারা এই কবরস্থানের দুর্দশা দেখেন আর বলেন অচিরেই কবরস্থানের কবর গুলো বাঁচাতে একটা গাইডওয়াল দেওয়া দরকার । যখনেই ওই স্থান ত্যাগ করেন তখনেই কেন জানি আর এবিষয়টি তাদের গুরুত্বে আসে না।

পুকুরটি খাস খতিয়ানে হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে চাষ করে খাবার জন্য দিয়ে আসছেন। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পুকুরটি সাব কন্টাক্ট এর মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে মোটা অংকের টাকা তুলছেন। এপযর্ন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমেও কানাহার পুকুর অথবা কবরস্থানের কোন প্রকার সংস্কার কাজ লক্ষ করা যায় নাই। বরং সাব কন্টাক্ট মালিক পুকুরে লিটার ব্যবহার করায় ওই পুকুরে কাউকে কবরস্থ্য করার জন্য ওযু অথবা কবর দেওযার পর হাত ধুতেও পারছেন না।

কবরস্থানের প্রধান গেটের ডান পাশে কবর গুড়িয়ে দিয়ে পুকুরের পূর্ব কোনে ট্রাক্টর,টলি,ভ্যান, রিক্সা পরিস্কারের জন্য কিছু অসাধু মালিক ও চালক ব্যবস্থা করেছে। কবরস্থানের সাথে জড়িত সকলেই দেখে কিন্তু এ পর্যন্ত কেউ বিষটি নিযে প্রতিবাদ করেন নাই। কেমন যেন একটা অরাজগতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে।

পুকুরের মাছ চাষি মাছ বৃদ্ধির জন্য সুস্ক মৌসুমে পুকুরে বৃদ্ধির জন্য স্যালো মেশিন দিয়ে পানি পর্যাপ্ত রাখছেন। বড় পুকুর হওয়ায় পানি বাতাসে কবরস্থানে ধাক্কা দিয়ে কবরসহ পাড় ভেঙ্গে ফেলছে। এপর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কবরস্থান পুকুরের পেটে চেলে গেছে। আর কতখানি ভাঙ্গলে নজরে আসবে কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি অনেক ভাবায়। আমার বাবার পাশে আমার কবর দেওয়ার জায়গা টা থাকবে তো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •