ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর চেষ্টা সফল হয় নি

দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে আবারো ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে কিছু ছবি তুলে ধরে দাবি করেছেন, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে ইরান গোপন পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সমালোচনা করেন। ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কার্যক্রমের ব্যাপারে ছবি তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল তিনি টেলিভিশনে বেশ কিছু ছবি, সিডি ও কাগজপত্র দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এরপর নেতানিয়াহু পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে সক্ষম হন। আমেরিকা প্রায় সাড়ে চার মাস আগে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও বিশ্ব অঙ্গনে এখন সে নিজেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। পরমাণু সমঝোতার প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে এবং তারা বলছে ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ অন্তত ১২টি প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে ইরান তার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর ও ইরানের পরমাণু নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ছবি প্রদর্শনের ঘটনার পেছনে অভিন্ন লক্ষ্য উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে বিশ্ব অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করে দেয়া। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে ইরানের ব্যাপারে তার সাফল্যের কথা বলছিলেন তখন উপস্থিত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ হাসিতে ফেটে পড়েন। হাসির পাত্রে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও হুমকি দিয়ে ইরানকে কোণঠাসা করতে ইউরোপকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমেরিকা ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য বাকী ১৪টি দেশ পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানায় এবং ইরান ইস্যুতে উল্টো আমেরিকা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মার্কিন টাইম ম্যাগাজিন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে লিখেছে, জাতিসংঘে ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা সফল হয়নি উল্লেখ করে টাইম ম্যাগাজিন আরো লিখেছে, “এই বৈঠক শেষ হওয়ার পর অন্যান্য দেশের নেতারা পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে।”

যাইহোক, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প বিভিন্ন ফোরামে ইরান বিরোধী আবহ তৈরির চেষ্টা করলেও বিশ্ববাসীকে তারা ধোঁকা দিতে পারেনি। ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র এখন সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ষড়যন্ত্র কোনো কাজে আসবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ইসরাইল তার পরমাণু অস্ত্রের বিষয়টিকে আড়াল করতে পারবে না।