ইসরাইলের ভূমি দখল পরিকল্পনা তৃতীয় ইন্তিফাদা–

প্রকাশিত:রবিবার, ১২ জুলা ২০২০ ১০:০৭

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ইহুদিবাদী রাষ্ট্র, ইসরাইলের ভূমি দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আল ফাতাহ আন্দোলন। ইসরাইলের এই জঘন্য পরিকল্পনা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা। গত ২ জুলাই ফিলিস্তিনের রাজধানী রামাল্লাহ শহরে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দু’দল এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। ইসরাইল যদি পশ্চিম তীর দখল করার চেষ্টা করে তাহলে তা রোধ করার জন্য হামাস এবং ফাতাহ আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে যাবে। তখন শুরু হয়ে যাবে তৃতীয় ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থান। ইসরাইলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য তৃতীয় ইন্তিফাদায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে অর্থ জোগান দিতে হবে।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রথম ইন্তিফাদা চলেছিল। দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হয় ২০০০ সালে এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এ সময়ে অন্তত ৩২০০ ফিলিস্তিনি শহীদ হন এবং ইসরাইলের এক হাজার মানুষ মারা যায়। আরব ও মুসলিম বিশ্বের সচেতন জনগণ বিশ্বাস করে, একমাত্র ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমেই অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ইহুদি দখলমুক্ত করা সম্ভব।
হামাস ও ফাতাহ ফিলিস্তিনের এই দুটি দল বেশ সক্রিয়। এর মধ্যে হামাসের দখলে রয়েছে গাজা এলাকা। ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট সংসদীয় নির্বাচনে অধিকাংশ আসনে জয়ী হয় হামাস এবং এরপর তারা গাজাভূখণ্ড দখল করে নেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান ও আরব রাষ্ট্রসমূহ ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধ করে দেয় এবং হামাসকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। উল্লেখ্য ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে গঠিত দল আল ফাতাহ। মাহমুদ আব্বাস, সালাহ খালাফ, খালিল আল ওয়াজির, আহমদ শাকির, নায়েফ হাওয়াতমেহ এবং আবদুল মোহসেন আবু মাইজার দলটির প্রথম প্রজন্মের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।
এদিকে ইসরাইল কর্তৃক অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইল মিসরের সিনাই উপত্যকা, ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুসালেম, পশ্চিম তীর আর গাজা দখল করে নেয়। জাতিসঙ্ঘ বিভিন্ন প্রস্তাবে সেসব জমি ফেরত দিতে এবং দখলিকৃত জমিতে ইহুদি বসতি স্থাপন অবৈধ ঘোষণা করে কয়েকটি প্রস্তাব পাস করেছিল, কিন্তু ইহুদিরা এর কোনো প্রস্তাবই গ্রাহ্য করেনি। বরং, ইসরাইল আরো বেশি আরব জমি দখল করে ইহুদি বসতি স্থাপন অব্যাহত রাখে। যে মুহূর্তে মাহমুদ আব্বাস স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ‘স্বপ্নকে’ পূর্ণতা দেয়ার দাবি জাতিসঙ্ঘে উপস্থাপন করেন সে সময় পূর্ব জেরুসালেমে ১১০০ নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন করা হলো। পাঁচ লাখের বেশি ইসরাইলি ইহুদি এখন দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির অধিবাসী। ক্রমেই ইহুদিরা যেভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে নিচ্ছে, তাতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য যথেষ্ট জমি অবশিষ্ট থাকবে কিনা সন্দেহ। পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন চলতে থাকবে, একই সময়ে আলোচনার প্রস্তুতিও চলবেÑ এমনটি হতে পারে না। বর্তমানে পশ্চিম তীর, গাজা, লেবানন, সিরিয়া আর জর্দানের শরণার্থী শিবিরগুলোয় ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবন যাপন করে চলেছেন।
ইহুদিরা এত বেশি উদ্ধত আর বেপরোয়া যে, আন্তর্জাতিক কোনো আইন কানুনকে তারা তোয়াক্কা করে না। আজ পর্যন্ত জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইল বরাবর ৮৯টি প্রস্তাব রেখেছে। কিন্তু এর কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি ইসরাইল। সাধারণ পরিষদ ২০০টি প্রস্তাব দিয়েছে তাদের। কিন্তু এর একটাও প্রতিপালিত হয়নি। ইহুদি চক্রান্তের পেছনে আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী মিত্রশক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে বারবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইসরাইলকে উদ্ধত বানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের রেখেছে দমিয়ে।
ইঙ্গ-মার্কিন-রুশ অক্ষশক্তির ষড়যন্ত্রের ফসল মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া, ইহুদি রাষ্ট্র্র ইসরাইল। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার আর্থার জেমস বালফোর আরব বিশ্বের বুকে এ বিষফোড়ার জন্ম দিয়ে ছিলেন। ১৯৪৮ সালের আগে পৃথিবীতে ইসরাইল নামক কোনো স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের অস্থিত্ব ছিল না। রুশ বংশোদ্ভূত ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫ নভেম্বর এ স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি ও অনুমোদন দেয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানালে আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ব্রিটেনসহ ৩৩টি দেশ অপরাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়। নবগঠিত ইসরাইলের কোনো আন্তর্জাতিক সীমানা, সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, বৈধ সরকার, পার্লামেন্ট বা সার্বভৌমত্ব ছিল না। এটা মূলত একটি কৃত্রিম ও পুতুল রাষ্ট্র (ঝধঃবষষরঃব ঝঃধঃব)।
ফিলিস্তিনকে নিয়ে ১৯৪৮, ১৯৫৬ ও ১৯৬৭ সালে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদিরা যে ধরনের গোষ্ঠীবদ্ধ ও অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে সমকালীন ইতিহাসে তার নজির নেই। ১৯৮২ সালে বৈরুতের শাবরা ও শাতিলা উদ্বাস্তু শিবিরে খ্রিষ্টান মিলিশিয়া ফালাঞ্জিস্টরা ইসরাইলের স্বার্থে হামলা চালিয়ে নারী শিশুসহ ১৫ হাজার ফিলিস্তিÍনিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। রাশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহুদিদের এনে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। আর ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে নিজ দেশে হয়ে পড়েন ‘পরবাসী’। সে সময় ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল ৯২ শতাংশ ভূখণ্ড। জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশেরও বেশি ছিলেন তারা। ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনের ৭৮ শতাংশ ভূখণ্ড ইহুদিদের দখলে চলে যায় এবং দখলদারদের জুলুম-নির্যাতনে ৪০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুভিটা হারিয়ে পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোতে চলে যেতে বাধ্য হন। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধের পর ১১ লাখ ইহুদি ফিলিস্তিনে এসে বেআইনি বসতি গড়ে তোলে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইসরাইলের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ লাখ ৫১ হাজার। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে ইরাকের ইউফ্রেটিসের তীর থেকে মিসরের নীলনদ পর্যন্ত তেলসমৃদ্ধ সব এলাকা দখলে নিয়ে একটি ইহুদিবাদী, তথা মুসলিমবিদ্বেষী রাষ্ট্র্র প্রতিষ্ঠা করা।
১৯৯৩ সালে ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মধ্যে দু’রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। সে চুক্তির আলোকেই গঠিত হয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) যা সুশাসিত এবং স্বাধীন সরকারের মতো কাজ করে যাওয়ার অধিকার লাভ করেছিল। ১৯৯৩ সালের চুক্তিতে স্পষ্টত বলা হয় যে, ক্রমান্বয়ে ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে। কিন্তু উগ্র ইহুদিরা সে শান্তিচুক্তি মেনে নেয়নি।
আবারো ‘শান্তি’ আলোচনার কথা বলা হচ্ছে। গত ২৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘শান্তি আলোচনা’ চললেও তার ব্যর্থতা থেকেই ফিলিস্তিনের এই দাবি জাতিসঙ্ঘের ফোরামে ওঠে। ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ১৯৭৪ এর নভেম্বরে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (চখঙ)-এর নামে জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকের স্বীকৃতি পায় ফিলিস্তিন। এখন পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিরা ঐক্যবদ্ধ। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ পূর্ববর্তী সীমান্ত অনুযায়ী, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম ও গাজা নিয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র চায় ফিলিস্তিনিরা। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে গাজা অবরোধ করে রাখে ইসরাইল। ২০১০ সালের মে মাসে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য বহনকারী একটি ছোট রণতরী মাভি মারমারার ওপর ইসরাইলিরা আন্তর্জাতিক সমুদ্রে হানা দেয় এবং নয়জন তুর্কি নাগরিককে সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে হত্যা করে। রণতরীতে ৩২টি দেশের ৪৫০ জন ত্রাণকর্মী ছিলেন। শুধু খেলনা, খাবার এবং কিছু দাতব্য সামগ্রী ছাড়া কোনো ধরনের অস্ত্র-গোলাবারুদ ছিল না সেখানে। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং জেনেভাভিত্তিক সংস্থা দুটি রিপোর্ট পেশ করেছিল ওই ঘটনা স¤পর্কে। কিন্তু কোনো রিপোর্টেই বলা হয়নি, জাহাজ ভর্তি অস্ত্র-গোলাবারুদ ছিল।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে। অস্থায়ী সদস্য দেশের পক্ষে এ স্বীকৃতি দেয়ার তালিকায় রয়েছে, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, ব্রাজিল, গ্যাবন, ভারত, নাইজেরিয়া, লেবানন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১২৭টিই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গুটি কয়েক বাদে বাকি ৬৬ রাষ্ট্রেরও সমর্থন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। কারণ দেশে দেশে নেতৃত্বের পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক পলিসিও বদলায়। যেসব দেশ এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে তাদের মোট জনসংখ্যা বিশ্বের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ (৫.২ বিলিয়ন)। পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায় যে, পশ্চিম ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর অবশিষ্টাংশ কার্যত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকার করে নিয়েছে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইতিহাসের বাস্তবতা। শক্তির জোরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ৪৫০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল। এমনকি দেশটির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ অতীত। ১৯৪৮ সালে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশটির অস্তিত্ব বিপন্ন করেছে। অতঃপর ইসরাইলের অব্যাহত আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিরা স্বদেশচ্যুত হয়। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়েব এরদোগান বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে যে মন্তব্য করেন, তা এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্যÑ ‘ইসরাইলের নিষ্ঠুরতা আর বেশি দিন চলতে পারে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নিতে হবে এবং জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদেরও উচিত এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেয়া। যারা এই দাবিকে নেতিবাচকভাবে দেখার বা বলার চেষ্টা করছে, তারা তাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানে না।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রসহ পাশ্চাত্যের কিছু দেশের ইহুদিপ্রীতি সত্ত্বেও স্বাধীন রাষ্ট্র্রের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেলে ফিলিস্তিনিদের পেতে বিলম্ব হবে কেন? এটা তো নিঃসন্দেহে একচোখা বা বৈষম্যমূলক নীতি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র্রের সমর্থন থাকায় একদিন জেরুসালেমে স্বাধীনতার সূর্য উঠবে, এ দৃঢ় বিশ্বাস তারা এখনো লালন করে চলেছেন। পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র্রের পতাকা শোভা পেতে বেশি দিন লাগবে না। যত দিন যাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা শক্তিশালী হচ্ছে। ইতিহাস প্রমাণ করে, কোনো জাতির আত্মত্যাগ বৃথা যায় না। ইসরাইলি বর্বরতার তাণ্ডব যত বৃদ্ধি পাবে নতুন করে সৃষ্টি হবে ‘ইন্তিফাদা’ বা গণ-অভ্যুত্থান। মসজিদুল আকসার পুনরুদ্ধার সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ওপর। স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা যে অলীক কল্পনা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ওমর গণি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •