উন্নয়ন ভাবনা : প্রেক্ষিত দিরাই

মোঃ মিজানুর রহমান ::: কুশিয়ারা, মরা সুরমা, কালনী, পিয়াইন, ডাহুক হেরাচাপটি প্রভৃতি নদী বেষ্টিত ১৬টি ছোট বড় হাওর সমৃদ্ধ দিরাই উপজেলা ১৯৪২ সনে থানা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং উপজেলায় উন্নীত হয় ১৯৮২ সনে। ২৩২ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ জেলার এই উপজেলার আয়তন ৪২০.৯০ বর্গকিলোমিটার, যার জনসংখ্যা ২,৪৩,৬৯০। সুনামগঞ্জ জেলার এ উপজেলা ধান ও মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। এক সময় কৃষকের গোলাভরা ধান ছিল, পুকুর-খাল-বিল-নদে ছিল অফুরন্ত প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ। মানুষের মনে ছিল সুখ আর আনন্দ। যার প্রকাশ ঘটতো সংস্কৃতি, বিনোদন আর নানাবিধ খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে। এই উপজেলায় মুসলমান জনসংখ্যা ৬৮% এবং হিন্দু ৩১%। কিন্তু স্মরণাতীত কাল থেকে মানুষ হিসেবে পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এ দু’সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটেছে, বাউল স¤্রাট আব্দুল করিমের গানে তার সুষ্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এবং আজও যা অবিকৃত অবস্থায় প্রবহমান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকলেও উন্নয়ন বঞ্চনা এবং প্রকৃতির প্রতিকুল আচরণের প্রভাবে দিরাই উপজেলার মানুষের মধ্যে হাসি আনন্দ ও সুখের অনুভূতিগুলো এখন আগের মতো চেতনাসমৃদ্ধ নাই। সময়ান্তরে দিরাই এ যে কোন উন্নয়ন হয়নি তা নয় তবে; সে উন্নয়ন কতটা টেকসই, বাঞ্চিত ও প্রত্যাশিত তাই-ই আজকের মূল আলোচ্য বিষয়। এছাড়া সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সত্যিকার অর্থে কেমন তাও দেখতে হবে।
মূল আলোচনায় যাবার আগে আমাদেরকে উন্নয়ন বলতে কি বুঝায় তার একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা প্রয়োজন। উন্নয়ন বলতে সাধারণভাবে কোন কাঠামোর অবস্থার পরিবর্তন বা তার ইতিবাচক নতুন রুপায়নকে বুঝানো হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নের প্রচলিত ধারণা অনেকটা ভিন্ন, আর তা হল-নতুন কিছু সৃষ্টি করা যা কিছু জনগণের চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। এক্ষেত্রে জনগণের চাহিদাকে বিশ্লেষণ করে সমগ্র জনগোষ্ঠির সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনের প্রেক্ষিত অনুযায়ী এর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এখানে সব ক্ষেত্রে মূখ্য ভুমিকা পালন করেনা। আন্তর্জাতিক মানদ-ের নিরিখে বিচার বিশ্লেষণ করলে উন্নয়নের যে প্রতিষ্ঠিত ধারণা পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, উন্নয়ন হতে হবে জনগণের আকাঙ্খার নিরিখে এবং সমগ্র জনগণের সার্বিক হিতার্থে। উন্নয়ন হতে হবে অবশ্যই টেকসই এবং পরিকল্পিত। কোন উন্নয়ন জনগোষ্ঠির একটি ক্ষুদ্র অংশের কল্যাণার্থে না হয়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠির অকল্যাণ বা কষ্টের কারণ হয়ে উঠলে তা আর উন্নয়ন থাকে না বরং তখন তা নতুন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে যেকোন উন্নয়নকে এই মাপকাঠির নিরিখে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দিরাই উপজেলায় উন্নয়ন ভাবনাও এর বাইরে থাকার কথা নয়।
শিক্ষার উন্নয়ন : শিক্ষা একটি জাতির বুনিয়াদ-এটি চিরন্তন। জনগোষ্ঠি শুধুমাত্র সার্টিফিকেট সম্বলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই কি বুনিয়াদ দৃঢ় হয়? উন্নত দেশে শিক্ষার হার যেমন শতভাগ একই সাথে তাদের শিক্ষার মান নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলেন না। উদাহরণস্বরূপ:যুক্তরাজ্যে শিক্ষার হার শতভাগ এবং এর মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সারা বিশ্বে আলো ছড়ায়। তার অর্থ এ নয় যে আমাদের দেশে শিক্ষার হার শতভাগ হবেনা। আমাদের দেশে শিক্ষিতের হার শতভাগ হবে কিন্তু শিক্ষার মান নিয়ে কোন অবস্থাতেই আপোষ করা যাবেনা। বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষার হার ৭৩% হলেও দিরাই উপজেলায় এ হার মাত্র ৩৭%। অর্থাৎ দিরাই উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠি নিরক্ষর যা এ উপজেলার পশ্চাদপদতার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ। শিক্ষার গুণগত মান ভাল বা মন্দ বুঝার জন্য অনেকগুলো দিক বিবেচনায় নিতে হয়। যেমন-
ক) শিক্ষার্থীদের পাশের হার বেশি, এটি কি শিক্ষার গুণগতমানের একটি নির্দেশক? এটি অবশ্যই একটি বিতর্কের বিষয়। আইন পড়তে যাওয়ার সুবাদে যুক্তরাজ্যের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পার্ট টাইম শিক্ষক হিসেবে এবং আমার দু’সন্তান ছাত্র থাকার কারণে আমি দেখেছি সেদেশের এঈঝঊ (মাধ্যমিক সমমান) পরীক্ষায় পাশের হার শতভাগ এবং পরবর্তী ধাপসমূহ শিক্ষার্থীর আগ্রহ, রুচি বা পছন্দের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় বিধায় সেখানেও পাশের হার প্রায় শতভাগ হয়ে থাকে। শুধুমাত্র উচ্চ মেধাবীরাই উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায় এবং বাকীরা সীমিত বা পেশাধারী শিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, আগ্রহ ও পারঙ্গমতা বিবেচনায় শিক্ষা দান করার কারণে পাশের হার শতভাগ হতে সমস্যা হয় না এবং একই সাথে তাদের মানের ও ঘাটতি থাকেনা। তার অর্থ হচ্ছে যুক্তরাজ্যে শিক্ষার হার ও মান নির্ধারণে যে বিষয়গুলো অনুশীলনে রাখা হয় তার অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা। সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দের বিষয়, তার শারিরীক ও মানসিক সামর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অর্থাৎ তার উপরে সামর্থের অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেয়া হয়না। শিক্ষার বিষয় ও উপকরণ শিক্ষার্থীর নিকট সহজ ও বোধগম্য যা তার সুকুমারবৃত্তি জাগ্রত করে ও শানিত করে, শিক্ষাদান হয় আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষকের গবেষণার ভিত্তিতে প্রযুক্ত যা শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে গ্রহণ করে এবং সহজেই বুঝে নেয়। সর্বোপরি শিক্ষক হন শিক্ষার্থীর বন্ধু যিনি অনবরত গবেষণা করে আনন্দদায়ক পাঠের প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপিত হন। এ সবের সমন্বয়ে যখন শিক্ষা প্রদান করা হয় তখন শিক্ষার হার ও মান নিয়ে আর কোন সংশয় থাকার কথা নয়। শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং সরকারের ইতিবাচক পৃষ্ঠপোষকতা এবং শিক্ষা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা উন্নত দেশের শিক্ষার মানের দৃঢ়তা বা টেকসই উন্নয়নে তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নের অবদান রেখে চলেছে।
আমাদের দেশের শিক্ষাবিদেরা শিক্ষার মান নিয়ে হরহামেশাই সোচ্চার। তাদের আলোচনায় অবশ্যই যুক্তি আছে। আমাদের সকল পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার বাড়ছে। সঠিক লেখাপড়া, সঠিক শিক্ষা ও মান সম্মত শিক্ষার মাধ্যমে পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়লে সবাই বরং সুখী হতেন এবং নেতিবাচক সমালোচনা কমে যেত। কিন্তু হলফ করে বলা যাবেনা যে সঠিক শিক্ষা ও মান সম্মত শিক্ষার বিনিময়েই পাশের হার বাড়ছে। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নের মান, খাতায় নাম্বার বাড়িয়ে দেয়া, নির্দেশিত হয়ে নাম্বার দেয়া, পরীক্ষা না দিয়েও পাশ করিয়ে দেয়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রায়শঃই প্রচার মাধ্যমে উঠলেও সরকার জোর গলায় তা অস্বীকার করতে পারছেনা। ফলাফল স্বরূপ শিক্ষার হার বাড়লেও মান কাক্সিক্ষত হারে বাড়ানো যাচ্ছেনা। উন্নত দেশে শিক্ষার হার বাড়ানো এবং মানের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য যে সকল উদ্যোগ, গবেষণা ও কর্মযজ্ঞ চালানো হয় আমাদের দেশে সেসকল উদ্যোগ খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। মোটকথা, শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ ও আয়োজন প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে তা মোটেও বলা যাবেনা। শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন সে ধরণের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ তৈরী এবং মানসম্মত ও সময়োপযোগী পাঠ্যপুস্তক তৈরির কার্যটি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় আগায়নি।
শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলতে গেলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিবেচনায় নিতে হয়। তা হল শিক্ষা বাজারমুখী, বাজারের চাহিদার নিরিখে এবং সমাজ ও দেশ বিনির্মাণের ধারণা বিবেচনায় রেখে এবং দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ধর্ম এবং নৈতিক বিষয়সমূহের বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে রূপায়িত হচ্ছে কিনা তার বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা প্রয়োজন। আলোচ্য ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা উপরোক্ত কোন ক্ষেত্রকেই পুরোপুরি সমর্থন করে এগুচ্ছেনা। কোন কোন ক্ষেত্রে বিপরীতধর্মী আচরণ ও কোন ক্ষেত্রে খিচুড়ি কার্যক্রম সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এছাড়া শিক্ষার মান যাচাই ও টেকসই মান অব্যহত রাখার জন্য স্বাধীন ও কার্যকর কোন প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে উঠেনি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ব্যপকভাবে বাড়ছে বটে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় যখন দেখা যায় এসব শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই অকৃতকার্য হচ্ছে তখন জিপিএ-৫ এর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে এবং উঠবে। তারপরও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে চলছে। দেশে গড়ে উঠছে শতশত প্রাইমারি, মাধ্যমিক, কলেজ এবং সরকারি ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়।
দিরাই উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় ২৩২ গ্রাম সম্পন্ন এ উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬০টি। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ১টি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় দিরাই তে নেই। এই উপজেলায় রয়েছে ৩ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ২৩টি, ডিগ্রি কলেজ ২টি, মাধ্যমিক কলেজ ২টি এবং কারিগরী কলেজ ১টি। সংখ্যার বিচারে এ সংখ্যা কুমিল্লা জেলার কোন কোন ইউনিয়নের চেয়ে কম। জিপিএ-৫ আক্ষরিক অর্থে ভাল মানের সূচক ধরলে দেখা যায় এসএসসি ও এইচএসসি তে এ উপজেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাংলাদেশের অন্য যেকোন জেলার তুলনায় অনেক কম, এমনকি সিলেট বিভাগের অন্য যেকোন জেলার তুলনায়ও অনেক কম। এই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মান সম্মত শিক্ষা নিয়ে দেশের সরকারে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার লোক একেবারেই হাতে গোনা। হাওর বেষ্টিত এই উপজেলায় শিক্ষার পশ্চাদপদতার অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ এর যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও পশ্চাদপদতা, মান সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব ইত্যাদি। কিন্তু শিক্ষার মান ও হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপর্যাপ্ত আগ্রহ, উপযুক্ত লোক কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আগ্রহের অভাব এবং অনুরূপ লোকজনের দায়দায়িত্ব পালনের আগ্রহের অভাব তন্মধ্যে অন্যতম। এর ফলে শিক্ষার হার বাড়ছেনা এবং একই কারণে মান বরং ক্রমান্বয়ে নিচের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। অন্ততঃ তুলনামূলক বিচারে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
দেশের অন্যান্য অংশের মতো দিরাই উপজেলাতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থুল জনপ্রিয়তা প্রাপ্তির একটি প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। ততটাই সুস্থ প্রতিযোগিতার অভাব শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে । এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি কেউ কম যান না। কিন্তু ভাল ও মান সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, শুন্যপদসমূহ পূরণ, খেলার মাঠ তথা শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা প্রদান, সুন্দর ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি, ডিবেটিং ক্লাব গঠন, সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষক যথাসময়ে ক্লাসে আসেন কিনা, পাঠদান করেন কিনা, সকল বীঃৎধ কারিকুলাম যথারীতি পরিচালিত হয় কিনা এবং তাতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কেমন, শিক্ষকদের পর্যাপ্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে কিনা, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকেরা তাদের দায়িত্ব শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে পালন করেন কিনা, শিক্ষা প্রশাসন তাদের তদারকির কাজ যথাযথভাবে পরিচালনা করেন কিনা এই মৌলিক বিষয় সমূহ গুরুত্বহীন থেকে যায়। পাঠ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, আনন্দ ও মনোযোগ কেমন তা দেখার কাজগুলো জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু তারাই তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে কতটা ওয়াকেফহাল ও সচেতন তাও একটি বিরাট প্রশ্ন। উপরোক্ত দিকসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে যে দিরাই উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা সময়ান্তরে বাড়ছে বটে, কিন্তু শিক্ষা তার মান ক্রমেই হারাচ্ছে যা যেকোন সচেতন মানুষকেই ভাবিয়ে তুলছে। দিরাই উপজেলার মানুষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের ব্যর্থতা ও অদক্ষতাকেই এ জন্য দায়ী ভাবছেন। এই ভাবনার পিছনে রয়েছে আমাদের অতিরিক্ত মাত্রায় রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি দিয়ে বিচার করার অসুস্থ মানসিকতা। এর ফলে যে আমরা ক্রমেই আরো পিছিয়ে পড়ছি সে ভাবনা আমাদের ভাবায়না।