Mon. Feb 17th, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

উপস্থাপনার বিতি-কিচ্ছা………. —–রিয়াদ আহাদ—-

1 min read

কবে প্রথম উপস্থাপনা কিংবা বক্তৃতার সুযোগ পেয়েছিলাম তা খুব একটা মনে পড়ছে না। তবে যদ্দুর মনে পড়ে তা ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে হবে। আমার জন্মভূমি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরের বশিরুল হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (বি এইচ স্কুল) লেখাপড়াকালীন সময়ে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ক্লাসে কোনো একদিন নিজের লিখা বাংলা রচনা (লেদু স্যারের নির্দেশে) পুরো ক্লাসকে পড়িয়ে শুনিয়েছিলাম। সম্ভবতঃ লেদু স্যার তৎকালীন সময়ে তাঁর মাত্র শুরু করা কুলাউড়া ষ্টেশন রোডের রাজা সু ষ্টোরে কোনো এক কাজে চলে গিয়েছিলেন ; বিধায় আমাকে বলেছিলেন যেনো পুরোটা রচনাটা সবাইকে পড়ে শুনাই,এর মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন। আর হয়তো ঐটাই আমার জীবনের প্রথম কোনো উপস্থাপনা। পরে কুলাউড়াতে রাইজিং ষ্টার ক্লাব প্রতিষ্টিত হবার পর সম্ভবতঃ ১৯৮৭ সালে সর্বকনিষ্ট ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে বিভিন্ন খেলা-ধুলা আয়োজনের পর ঘরোয়া অনুষ্টানে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টানটা উপস্থাপনা নিয়মিত আমিই করতাম। মধ্যখানে রাইজিং ষ্টার ক্লাবের কয়েকটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় আর ফুটবল মাঠের ধারাভাষ্যটাও আমার কাছে এক ধরনের উপস্থাপনাই। সেই থেকে একটা দুটো ছোটো-খাটো ঘরোয়া অনুষ্টান করে করে এই পর্যন্ত চলছে। উপস্থাপনার বিষয়ে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও মনের খোরাকেই আসলে তা করে যাওয়া। আমি বিষয়টা খুবই উপভোগ করি। তবে কোনো একটা উপস্থাপনা একেবারে নির্ভেজাল থেকে রিলাক্্র মুডে এখনো আমার করা হয়নি। ফেইসবুকে আরেকটি লিখায় লিখেছিলাম সে দিনটি কবে আমার আসবে যে,কোনো ধরনের টেনশন এবং দায়িত্ব ছাড়া একেবারে নির্ভেজাল থেকে একটা অনুষ্টান আমি উপস্থাপনা করবো। আর বয়স তো হয়ে-ই যাচ্ছে। চল্লিশ সেই চার বছর পুর্বে ছুঁয়ে এখন পঁয়তাল্লিশেই পড়ে গেছি। খুব কষ্ট করে ভূড়ি নিয়ন্ত্রন আর মাথার কেশরাজিগুলো রেখে দিতে পারলেও রং মেরে কালো রাখাটাই মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। দর্শকরা বুড়ো বলে ডিম টিম ছুড়েঁ মারার আগে এই বিভাগ থেকে অবসর নিতে চাই। তবে খুব ইচ্ছে এর আগে অন্ততঃ একটা অনুষ্টান শুধুমাত্রই উপস্থাপনা করার,যেখানে উপস্থাপনা ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্বই আমার থাকবে না। জানিনা সেই দিনটি কবে আসবে !!!। আর ওহ্, মঞ্চে অনুষ্টান উপস্থাপনার অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা নিলেও আগামী মাসেই শুরু করছি টিভি উপস্থাপনা। অন্ততঃ সেখানে হয়তো রং টং মেরে লাইটের আলোয় বুড়োত্ব কিছুটা আড়ালে রাখা যাবে।

 

স্পেন ফ্রান্স মরক্কো ইতালীর বাংলা কাগজ কমিউনিটি এওয়ার্ডের মতো বিশাল অনুষ্টানগুলোও আমাকে করতে হয়েছিলো একেবারে কোনো ধরনের রিহার্সেল ছাড়া। বার্মিংহামের স্মলহীথ পার্কে অর্ধ লক্ষেরও উপড়ে থাকা দর্শকের সামনে উপস্থাপনা করা বাংলা মেলা‘র মঞ্চে উঠার আগ পর্যন্তও আমার সহ-উপস্থাপিকা কোহিনুর কবীরের সাথে কথাও বলার সুযোগ পাইনি। আর তার কারন ছিলো ঐ বাংলা মেলা নিয়ে-ই হাজারো কাজের ব্যস্ততা। সুযোগ ছিলো না রিহার্সেল করারও। বার্মিংহাম পিঠা মেলার সময় তো সহ-উপস্থাপিকা শামিমা বেগম মিতা প্রচন্ড রকমের সহযোগিতা না করলে বেমালুম ভুলেই যেতাম রানিং অর্ডারের সবকিছ্ইু। স্পেনে রুপশ্রী সাহা রুপা,পুস্প ইয়াসমীন,বিউটি শীল,ফ্রান্সে রুমানা মনসুর,ইতালীতে ফেরদৌসি পলি কিংবা বার্মিংহামে করা ম্যাগাজিন অনুষ্টান একটু অন্যরকমে শিরিন আহমেদ আর সর্বশেষ মৌলভীবাজারী মিলন মেলায় ডাঃ মুনা আহমেদরা আমাকে সহযোগিতা না করলে কি উপায় যে হতো তা বলা মুস্কিল। আমার সৌভাগ্য প্রায় প্রতিটি অনুষ্টানে সহ-উপস্থাপিকা হিসেবে যাদেরকে আমি পেয়েছি তারা প্রত্যেকেই খুবই হেল্পফুল এবং মেধাবী ছিলেন। সে কারণে দর্শকদের অধিকাংশই অনুধাবন করতে পারেননি আসলে কি সমস্যা ছিলো অনুষ্টানগুলোতে। তাদের প্রতি সবসময়ই কৃতজ্ঞতা থাকলো। তবে এখনো অবসর নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নয়। হয়তো আগামী বছর বাংলা মেলা আয়োজন করলে সেটাই হবে মঞ্চে আমার শেষ উপস্থাপনা।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.