“একটি প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পুরনের কাহিনী “

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিলেটের বাদাঘাটে নির্মিত “সিলেট কেন্দ্রীয় কারগার” এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।১নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকালে গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা এ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।এ সময় মাননীয় অর্থমন্ত্রী,সিলেট -১আসনের সংসদ সদস্য,এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্ঠা জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ২১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে এ উন্নয়ন প্রকল্প মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সিলেটর সবকটি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে এটি ছিল প্রথম অগ্রাধিকার প্রকল্প।বদাঘাটে নির্মিত কারগারে পুরাতন কারাগারটি দ্রুত স্হানান্তর করার মাধ্যমে নগরীর প্রানকেন্দ্রে পুরাতন জেলখানার স্হানটিকে খালি করে দিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তিতে শ্বাস প্রশ্বাস ফেলার একটি মুক্তস্হান করে দেওয়াই অর্থমন্ত্রীর মুল লক্ষ ছিল। নতুন কারাগার নির্মাণ কাজ কবে শেষ করা যাবে,কবে সেটা উদ্বোধন করা যাবে, এমনটাই নিয় সকল সময় প্রতিক্ষার প্রহর গুনতেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী ।কারাগারের কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দফতরে বিগত কয়েক বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক সভা, বৈঠক হয়েছে।মাননীয় অর্থমন্ত্রী সিলেট সফরে আসলেই কারাগার নিয়ে কথা বলতেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে, কাজের অগ্রগতি স্বচক্ষে একনজরে দেখার জন্য ছুটি যেতেন বাদাঘাটে নির্মানাধীন কারগারে।এ নিয় তাঁর বিশেষ চিন্তা ও মাথাব্যাথা ছিল বিগত কয়েকটি বছর এমনটি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে থেকেই আমি সহ সিলেটের সকল মানুষই উপলব্ধি করছেন নিশ্চয়।এটা ছিল অর্থমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের প্রকল্প। ২০১১সাল থেকে কারাগার নির্মাণ কাজ শুর হয়ে প্রায় ৮ বছরের মাথায় এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলো।২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঢাকায় গিয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করে সিলেটে প্রথম সফরে আসলে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্হানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে মন্ত্রী ও স্হানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম সভায় মিলিত হন আবুল মাল আবদুল মুহিত। সে সভায় বসে প্রথমই সিলেটের যে উন্নয় প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন তিনি সেটা হচ্চে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার স্হানান্তর,নতুন কারাগার নির্মাণ
। সিলেট নগরীর আশপাশে সেটা কোথায় সুবিধাজনক স্হানে নেওয়া নেওয়া যায় এমন কথা উঠে আসে এ সভায়।এ বিষয় নিয়ে উক্ত সভায় মাননীয় মন্ত্রী কথা উত্থাপন করতে পারেন এমনটি আমার ধারনার মধ্যে আগে থেকেই ছিল।কারন ২০০১সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহন করে পরাজিত হওয়ার পর মাঠ ছাড়েননি আবুল মাল আবদুল মুহিত।২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত এসময়ে তাঁরসঙ্গে থেকে মিডিয়ায় দায়িত্বে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল বলে সিলেট এবং দেশ নিয়ে তাঁর চিন্তা ভাবনা,স্বপ্নের কথা কিছুটা প্রকাশ করতেন তিনি। কারাগার স্হানান্তরের বিষয়টা আলোচনায় আসার পর থেকেই আমি একটু সুযোগে ছিলাম যে এ প্রতিষ্ঠানটি আমার এলাকায় কিভাবে নেওয়া যায়,এটা সেখানে নেওয়া পিছনে আমার চিন্তা ছিল যে, আমার এলাকা শহরের খুব কাছাকাছি থাকার পরও এই এলাকাটি অবহেলিত এবং শহুরে পরিবেশ ও নানা সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত।আরেকটি সুবিধা ছিল বাদাঘাট এলাকায় কারাগার স্হাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া যাবে,সেই সুবাধে অন্তত এ প্রতিষ্টানটি সেখান নিয়ে যেতে পারলে আমার এলাকটি অতি দ্রুত পরিবর্তন ও উন্নত হয়ে যাবে।এমন প্রত্যাশায় আমি ভেথরে ভেথরে খুবই নিরবে ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এর পক্ষে জনমত গঠন করি।সব শেষ মাননীয় মন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কারাগারের বিষয়টি উত্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঐ সভায়ই বাদঘাটে কারাগার স্হাপনের বিষয়টি প্রস্তাব করে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি,একই সঙ্গে উক্ত সভায় কারাগারে জন্য আরো কয়েকটি স্হানের প্রস্তাব ও আসে এ সভায়।এরপর কারাগারের স্হান নিয়ে অনেক টানা হেচড়া হলো।মাননীয় মন্ত্রী ও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে বাদঘাট এলাকায় কারাগার স্হাপন করলে অবহেলিত এ অঞ্চলের দ্রুত উন্নয়ন তরান্বিত করা সম্ভব।শেষ পর্যন্ত তাঁর সানুগ্রহ ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তনুসারে বাদাঘাটেই নতুন কারাগার নির্মাণের স্হান চুড়ান্ত হয়। ২০১১ সালে কাজ শুরু ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর এর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি ‘র স্বপ্ন ও প্রত্যাশার সফল পরিপূর্ণতা লাভ করল “সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার”। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদাঘাট এলাকা অবহেলার আধাঁর কাঠিয়ে নতুন শহরে, উন্নয়নের নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হলো।এর সকল কৃতিত্ব আলোকিত সিলেটের স্বপ্নদ্রষ্টা থেকে এখন শতভাগ বাস্তদ্রষ্টা, প্রিয় নেতা জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত এর।যার সুযোগ্য, দুরদর্শী, সৎ ও বলিষ্ঠ নেতৃতে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, এগিয়ে গেছে সিলেট। আজকের শুভক্ষণে কৃতজ্ঞচিত্তে প্রানঢালা অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,অভিনন্দন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আপনাদের সুকর্মেই আপনারা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।আপনাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুভ কামনা রহিল। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।