একটি মহৎ উদ্যোগ, সবার আন্তরিকতা ও ভালবাসা

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৪ আগ ২০২০ ০৭:০৮

একটি মহৎ উদ্যোগ, সবার আন্তরিকতা ও ভালবাসা

মুজিবুর রহমান রনজু :::

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ব্রিটিশ গ্যাজেটে লিপিবদ্ধ আছে এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম্য বাজার শমশেরনগর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্ব বুঝেই শমশেরনগরে ব্রিটিশরা একটি বিমান বন্দর নির্মাণ করেছিল। এর নাম ছিল দিলজান্দ। একই সাথে অন্য একটি বিমান বন্দর নির্মাণ করেছিল ভারতের কলকাতায়। সেটির নাম দমদম। ইতিহাস বলে ব্রিটিশরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শমশেরনগর বিমান বন্দর থেকে যুদ্ধ বিমান উড্ডয়ন করে জাপানের হিরোশিমায় বোমা বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছিল।

ব্রিটিশরা ভারত উপ মহাদেশে চায়ের গোড়াপত্তনকালে ভারতীয় টি এসোসিয়েশনের (আইটিএ) সদর দপ্তর করেছিল শমশেরনগরে। ১৯৪৭ সালে পাক ভারত বিভক্তির পর সেটি হয়েছিল পাকিস্তান টি এসোসিয়েশন (পিটিএ )। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ চা সংসদ হয়ে সেটির সদর দপ্তর চলে যায় চট্রগ্রামে। কিন্তু এখনও সে ভবনটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যার নাম লঙলা হাউজ। পাক ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৭ সাল থেকে স্থল শুল্ক স্টেশনের অফিস ছিল শমশেরনগরে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শমশেরনগরের অবদান ভুলার নয়। ২৮ মার্চ ৭১ বাংলাদেশ প্রথম প্রতিরোধ আন্েদালন গড়ে তুলে ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯ পাক সেনাকে শমশেরনগরে হত্যা করা হয়েছি। এটিই ছিল বাংলাদেশে প্রথম পাক বাহিনির ওপর হামলা। যুদ্ধের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও শমশেরনগর এসে আজকের ব্রাদার্স পার্টি সেন্টারের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। শমশেরনগর নিজে নিজেই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে শমশেরনগর মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা,ক্রীড়া, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিকতার অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে। আমাদের দীর্ঘ দিনের একটি দাবী ছিল শমশেরনগর থানা/উপজেলা। নানা জটিলতায় তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ইনশাল্লাহ একদিন তা বাস্তবায়িত হবে।

তবে আরও একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজের উদ্যোগ গ্রহন করা হলো আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে শমশেরনগর ব্রাদার্স পার্টি সেন্টারে। আমাদের গর্ব ও অহংকার কন্ঠ শিল্পী সেলিম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হলো শমশেরনগর হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটি। আর হাসপাতালের জন্য আমাদের যুক্তরাজ্য প্রাবাসী সারোয়ার জামান রানার স্ত্রী আলেয়া বেগম দান করলেন সাড়ে ৪ কিয়ার (২৫৫ শতক) জমি। এসব কাজের অগ্রনী ভূমিকায় ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ময়নুল ইসলাম খান, রানা, লিটন, নজরুল, বদরুলসহ নাম না জানা অনেকেই। আজকে অনেকেই ঘোষণা করলেন হাসপাতালের জন্য ১ লাখ টাকা করে প্রদান করবেন। সেলিম চৌধুরী আহ্বায়ক আর আমরা সবাই তার সহকর্মী হিসেবে কাজটি করতে অঙ্গিকারাবদ্ধ হলাম।

এলাকার সবাই দলমত নির্বিশেষে সহায়তা, আন্তরিকতা ও ভালবাসা দিয়ে এ উদ্যোগকে সফল করে নিতে হবে। শমশেরনগরের সন্তান যে যেখানে যে অবস্থায় আছেন তারাও এ উদ্যোগে সামিল হবে। আমাদের এলাকার যে সন্তানরা ইতোমধ্যেই ডাক্তার হয়েছেন আর আগামীতে যারা হবেন তারা সবাই এ কাজের অংশিদার হবেন। আমাদের উদ্যোগ সফল করতে এ এলাকার ও বাহিরের গুনিজন যারা আছেন তারা প্রয়োজনে আমাদের সু-পরামর্শ দিবেন। অবশ্যই আমরা সাদরে পরামর্শ গ্রহন গ্রহন করে আগামী পথ চলাকে সুন্দর করবো।

সব শেষে আবার ধন্যবাদ জানাই কন্ঠ শিল্পী আমার ছোট ভাই সেলিম চৌধুরীকে সে অসুস্থ্য হয়েও দীর্ঘ ৩ ঘন্টা আমাদের সবায় উপস্থিত ছিল বলে। আরও ধন্যবাদ জানাই আমাদের মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ মহোদয়কে। তিনি আমাদরে উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন শেখ হাসিনার সরকার প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে চায়। বেসরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে হাসপাতালে জমি দিলে সরকার হাসপাতালের ভবনও করে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি হাসপাতালের নামে জমি রেজিস্টারী করে দিলে সাংসদ মহোদয়ের চেষ্টায় আমরা হাসপাতাল ভবন করে নিতে পারবো। তিনি আমাদের এই আশ্বাস দিয়েছেন।

লেখক : কমলগণজ প্রতিনিধি, প্রথম আলো ।

এই সংবাদটি 1,272 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ