Fri. Nov 22nd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

এক ক্ষনজন্মা বিরল প্রতিভার নাম এম. সাইফুর রহমান

1 min read

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ক্ষনজন্মা বিরল প্রতিভার নাম এম. সাইফুর রহমান। আজকের আধুনিক বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের মহান স্থপতি মরহুম জননেতা সাইফুর রহমান। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী যিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

 

 

আর সাইফুর রহমান এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি হঠাৎ করে পাদপ্রদীপে আসেননি। ছাত্রজীবনেই তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে জেল খেটেছেন। একজন মহান ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান “একুশে পদক” ও এই কর্মবীর পেয়েছেন। ছাত্রজীবনে ‘৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি তৎকালীন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের তৎকালীন ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ।

 

মৌলভীবাজার একটি ছোট্ট মহকুমা শহর ছিলো। সময়ের বিবর্তন তা রূপ নিলো একটি জেলায়। আমাদের পরম সৌভাগ্য সেই জেলাতেই জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এই বিরল প্রতিভা। জনাব সাইফুর রহমান শহীদ জিয়ার আহবানে যখন রাজনীতিতে যোগ দেন তখন তিনি শহীদ জিয়াকে বলেছিলেন আমি একজন পেশাজীবি, আপনার সততা আর কর্ম তৎপরতা আমাকে অবিভূত করেছে তাই আপনার আহবানে আমি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি তার অন্যতম কারণ আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় মৌলভীবাজার তথা বৃহত্তর সিলেট অবহেলিত আর উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকার মানুষের জন্য কাজ আমি করতে চাই।

 

মরহুম সাইফুর রহমানকে সেই সুযোগ শহীদ জিয়াই দিয়েছিলেন এবং তার ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দিয়েছেন। আজকের রূপসী মৌলভীবাজার তথা বৃহত্তর সিলেটের সকল ক্ষেত্রে যে অভুতপূর্ব উন্নয়ন দৃশ্যমান তার সিংহভাগই সাধিত হয়েছে সিলেট দরদী এই মহান জননেতার হাত ধরেই আর তার সকল কৃতিত্ব শহীদ জিয়াউর রহমান আর বেগম খালেদা জিয়ার..!! শহীদ জিয়া আর মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারণেই এই দেশপ্রেমিক কর্মবীর বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক বাজেট পেশের সৌভাগ্য হয়েছিলো।

 

 

আজ মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের অডিটরিয়াম থেকে শহীদ জিয়ার নাম যেভাবে কাপুরুষিতভাবে হাতুরী আর শাবল দিয়ে মুছে ফেলা হলো, সেই ঐতিহ্যবাহী অডিটরিয়ামের ও সৃষ্টি জননেতা মরহুম সাইফুর রহমানের। মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ একটি সাধারন মানের ডিগ্রী কলেজ ছিলো, সেই কলেজে ধীরে ধারে অনার্স কোর্স সহ উচ্চ শিক্ষার সকল ক্ষেত্র তৈরী করেছেন জনাব সাইফুর রহমান। মরহুম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় সেই সাধারণ মানের ডিগ্রী কলেজ রূপ নিলো বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। তারপর তৈরী করলেন একটি উন্নতমানের অডিটরিয়াম যা এই মানের কলেজে বাংলাদেশে প্রথম। তিনি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ জিয়ার নামে এই অডিটরিয়ামের নামকরণ করেছিলেন। কিন্ত আজ যেভাবে হাতুরী আর শাবল দিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামকরন মুছে ফেলা হলো তাতে মনে হলো এরা আমাদের মহান স্বাধীনতা বিরোধী প্রেত্নাত্বারা আর তাদের দোসররা, যারা নব্য আওয়ামীলীগ হয়ে এমপি হয়েছেন আর নেতা হয়েছেন। তাদের এই জঘন্য আর ঘৃণিত কর্মতৎপরতার নিন্দা বা ধিক্কার জানানোর ভাষা মৌলভীবাজার বাসীর জানা নেই ..!!! এরা স্বাধীন আর সার্বভৌম মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর বাংলাদেশের চিরশত্রু-লাল সবুজের পতাকার দুশমন ।

 

ভুলে যাবেন না এই সেই মহান সাইফুর রহমান যিনি সকল দলমতের উর্ধ্বে একজন সিলেট প্রেমিক সত্যিকারের জননেতা ছিলেন। আওয়ামীলীগের শাসন আমলে মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের স্পীকার থাকাকালীন তার নামে সিলেটের প্রবেশদ্বারে “হুমায়ূন রশীদ স্কোয়ার” নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন কিন্ত নিজ সরকারের আর তৎকালীন নিজ দলের বর্ষিয়ান জননেতা মরহুম আবদুস সামাদ আজাদের শুধু রিরোধিতার কারনেই তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি কিন্ত সেই স্কোয়ার বিএনপির শাসন আমলেই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জনাব সাইফুর রহমানের কারণে আর তারি ইচ্ছায় মরহুম হূমায়ুন রশীদের নামে “ হুমায়ুন রশীদ স্কোয়ার” নির্মাণ করে দিয়েছিলেন জননেতা জনাব সাইফুর রহমান নিজেই..!!

 

একজন জননেতা কতটুকু সিলেট প্রেমি হলে তার মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে বলেন, আমি যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিলেটবাসীর ভালোবাসা নিয়ে মরতে পারি আর তাদের সেই ভালোবাসায় আমাকে যেন সেই সিলেটের পবিত্র মাটিতে শায়িত করা হয়। মরহুম সাইফুর রহমানের সেই মহানুভবতার প্রতিদান দিলেন আজ তারি প্রিয় মৌলভীবাজারের কিছু উশৃঙ্খল বিপথগামী ছাত্র নামধারী তরুন- এদের একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ভাবতে ও সাধারণ ছাত্র জনতার ঘৃণা হচ্ছে -এরা শান্তির জনপদ মৌলভীবাজারের অভিশাপ…!!!!

 

লেখক: সামুন ভূইয়া,

সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক,

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল,

কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.