এন্ড্রু কিশোর অক্সিজেন সাপোর্টে , দোয়া চেয়েছেন স্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার, ০৬ জুলা ২০২০ ০৯:০৭

এন্ড্রু কিশোর অক্সিজেন সাপোর্টে , দোয়া চেয়েছেন স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটনায় সোমবার দুপুরে বাড়িতে রেখেই তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এন্ড্রু কিশোরের ফেসবুকে পেইজে দেওয়া এক পোস্টে স্বামীর জন্য দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী। লিপিকা লেখেন, গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। সেখানে এন্ড্রু কিশোরের ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি শেষ হয় এপ্রিল মাসে। চিকিৎসক বলেছিলেন, এখন আর কিছু দরকার নাই। ওষুধ দিয়ে বলেছিলেন, আগস্ট মাসে যেতে। তারা ১৩ মে দেশে আসার জন্য টিকেট করেন। কিন্তু কিশোর শারীরিকভাবে খুব দুর্বল ছিলেন। তাই ইতি টিকিট বাতিল করেন। চিকিৎসক বলেন, কেমোর জন্য এন্ড্রু কিশোর দুর্বল। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে, সময় লাগবে। পরে ১০ জুন তারা আবার টিকিট কাটেন। কিন্তু হঠাৎ ২ জুন কিশোরের হালকা জ্বর আসে। পরদিন রাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। কিন্তু জ্বর বার বার আসতে থাকে। কোন ওষুধ তার শরীরে কাজ করছিল না। চিকিৎসক বলেছিলেন, ক্যানসার আবারও আসছে কিনা তা দেখতে হবে। পরীক্ষার পর দেখা যায় এন্ড্রু কিশোরের শরীরে সেটিই ঘটেছে।

লিপিকা লেখেন, হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে ফোন করে বলেন, পেট স্ক্যান করতে হবে। লিম্ফোমা ব্যাক করেছে কিনা দেখতে হবে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম, মনে মনে শুধু ঈশ্বরকে ডেকেছি। কারণ শুরুতে ডাক্তার বলেছিলেন, লিম্ফোমা যদি একবারে নির্মূল না হয়, যদি আবার আসে। তাহলে সেটা ডাবল স্ট্রং হয়ে আসে আর খুব দ্রুত ছড়ায় এবং সেটা কোনভাবেই কন্ট্রোল সম্ভব হয় না।
তিনি লেখেন, ৯ জুন পেট স্ক্যান হয়। সেদিন রাতে ডাক্তার আমাকে ফোন করে বলেন যে, পরদিন মানে ১০ জুন সকাল ১০টায় আমার সঙ্গে রিপোর্ট নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে চান। ৯ জুন রাতটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাত। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। সকালে ১০টার আগে হাসপাতালে গিয়ে বসে থাকি কিশোরের পাশে। কিশোর আমাকে বললো, ডাক্তারকে বলবা, হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিতে, আমরা দেশে ফিরবো। আমি ভয়ে চুপ করে বসে আছি। শুধু বললাম, দেখি ডাক্তার কী বলেন। কিছুক্ষণ পরে একজন নার্স এসে আমার হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গেলেন, বললেন ডাক্তার ডেকেছেন। ডা. লিম আমার সামনে এসে একটাই কথা বলল। লিম্ফোমা ব্যাক করেছে।
আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি, কোন কথা বলতে পারছিলাম না, বুঝলাম সব শেষ। ডাক্তার বললেন, এন্ড্রুকে বলবো? আমি বললাম, বলতে তো হবে। ডাক্তার আমাকে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে নিয়ে গেলেন এবং দেখালেন। এড্রিনাল গ্ল্যান্ডে কিছু নাই। কিন্তু লিম্ফোমা ভাইরাস ডান দিকের লিভার এবং স্পাইনালে ছড়িয়ে গিয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অল্প অল্প আছে। আমি কোন কথা বলতে পারছিলাম না। চোখের জল ঠেকাতে পারছিলাম না, অনেক কষ্টে ডাক্তার কে বললাম এরপর? ডাক্তার বললেন, আই অ্যাম স্যরি। আমার আর কিছুই করার নাই। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি। চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ে যাচ্ছে। নিজেকে এত অসহায় লাগছিল যে, কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। কিশোর বুঝতে পেরেছিল, আমাকে ডাকতে থাকে। ডাক্তার কিশোরকে বলে লিম্ফোমা ব্যাক করেছে। লিপিকা আরও লেখেন, কিশোর ডাক্তারকে বলে, তুমি আজই আমাকে রিলিজ করো, আমি আমার দেশে মরতে চাই, এখানে না, আমি কাল দেশে ফিরব। আমাকে বলে, আমি তো মেনে নিয়েছি, সব ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমি তো কাঁদছি না। তুমি কাঁদছ কেন? কিশোর খুব স্বাভাবিক ছিল, মানসিকভাবে আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। যেদিন থেকে জ্বর এসেছিল সেদিন থেকে। কিশোর হাইকমিশনে ফোন করে বলে, কালই আমার ফেরার ব্যবস্থা করে দিন। আমি মরে গেলে আপনাদের বেশি ঝামেলা হবে, জীবিত অবস্থায় পাঠাতে সহজ হবে। ১০ জুন বিকালে হাসপাতাল থেকে ফিরি এবং ১১ জুন রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরে আসি আমরা।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ