এমপি বিদ্রোহে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত

ক্ষমতাসীন জোটের ১৬ সংসদ সদস্যের বিদ্রোহের পর শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের অধিবেশন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

 

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় তিনি আগামী ৮ মে পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করার নির্দেশনা দেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও আছেন। তাদের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি সামলাতে চারজনকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

“প্রেসিডেন্ট মে-র ৮ তারিখ পর্যন্ত পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করেছেন,” বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় জানান সিরিসেনার সেক্রেটারি অস্টিন ফার্নান্দো।

 

কী কারণে প্রেসিডেন্ট এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা জানাননি তিনি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্যেষ্ঠ এক মন্ত্রী রয়টার্সকে জানান, স্থগিতাদেশের ফলে পার্লামেন্টের সকল কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ৮ মে পার্লামেন্টের কাজ ফের শুরু হলে কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করা হবে।

 

পার্লামেন্ট কমিটিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী সাংসদদের পরিচালনায় থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখছিল।

 

গত মাসে হওয়া মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ও বন্ড মার্কেটের কেলেঙ্কারি সামলাতে ব্যর্থতার দায়ে কয়েকদিন আগে রনিল বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধী সাংসদরা।

 

সিরিসেনার দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির (এসএলপিএফ) ১৬ সাংসদ অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও ছিলেন।

 

মন্ত্রীরা পরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বিরোধীশিবিরে যোগ দেওয়ার কথা জানালে অনাস্থা প্রস্তাবে উৎরে যাওয়ার পরও সমস্যায় পড়েন সিরিসেনার দলের সঙ্গে জোটে থাকা ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির বিক্রমাসিংহ।

 

পরিস্থিতি সামলাতে সিরিসেনা গুরুত্বপূর্ণ চার মন্ত্রণালয় সামলাতে চারজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন।

 

পক্ষ বদলে বিরোধী শিবিরে যাওয়া এক সাংসদ লক্ষন আবিবর্ধনে জানান, ১৯ এপ্রিল পরবর্তী অধিবেশনের শুরুতেই ফ্লোর ক্রসিংয়ের চিন্তা ছিল তাদের।

 

“সেদিন থেকেই বিরোধীদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলাম আমরা। এখন এটা আমরা ৮ মে করবো,” বলেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.