আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে

দলীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দলের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনকে ওই নোটিশ পাঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী মুহাম্মদ নাজমুল হোসেনের পাঠানো ওই উকিল নোটিশ গত বৃহস্পতিবার তারা গ্রহণ করেন। নোটিশ প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উকিল নোটিশে বলা হয়, গত ২৪শে সেপ্টেম্বর বিকালে সদর উপজেলার নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের বটতলি গ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি সুধী সমাবেশে আমানুল হক সেন্টু ও হেলাল উদ্দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই অসত্য, অপতথ্য, বানোয়াট, কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। এতে মোকতাদির চৌধুরীর মানহানি হয়েছে। নেটিশে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথাও বলা হয়। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার আইনজীবী নাজমুল হোসেনের পক্ষে একজন আমার বাসায় এসে নোটিশটি দিয়ে গেছে। আমি নোটিশের জবাব দেব।
উল্লেখ্য, ২৪শে সেপ্টেম্বর বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের নবনির্মিত সড়ক উদ্বোধন উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে সুধী সমাবেশে আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিনারা আলম প্রমুখ।
হেলাল উদ্দিন তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিভিন্ন বদলি ও টেন্ডার (দরপত্র) থেকে টাকা খান। চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকেও টাকা খান। একটা লোক বলতে পারবে না যে মেধা ও পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছে।
এ ছাড়া আমানুল হক সেন্টুও তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীর সমালোচনা করেন।