এসডিজির ৪ বছরের অগ্রগতি মূল্যায়ন: দুর্বল অবস্থানে ১২ সূচক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৭ আগ ২০২০ ১১:০৮

এসডিজির ৪ বছরের অগ্রগতি মূল্যায়ন: দুর্বল অবস্থানে ১২ সূচক
হামিদ-উজ-জামান
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি সূচকের মধ্যে ১২টির বাস্তবায়নই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তবে দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশ। বাকি চারটির কোনো উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
১২টি সূচকের মধ্যে পাঁচটি পরিমিত মাত্রায় দুর্বল, তবে অগ্রসরমান। ছয়টির লক্ষ্যমাত্রা দুর্বল ও স্থবির, একটির বাস্তবায়ন অবস্থা খুবই খারাপ এবং অবনতিশীল। এরপরও দেশে এসডিজি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে। শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েছে। বাস্তবায়ন কার্যক্রমও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে।
‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট : বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন-২০২০’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ৪ বছরের এ মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
বৃহস্পতিবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করবেন জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ বছরে দেশে এসডিজি বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে। যে উদ্যোগে পাঁচটি ‘পি’ অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হল : পিপল বা জনসমষ্টি, প্রসপারিটি বা সমৃদ্ধি, পিস বা শান্তি, পার্টনারশিপ বা অংশীদারিত্ব এবং প্ল্যানেট বা ধরিত্রী। এ সবই টেকসই উন্নয়ন কাঠামোকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করাতে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হল : সম্পদ সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ, প্রযুক্তি জোরদারকরণ, সক্ষমতা গড়ে তোলা, বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করা এবং প্রয়োজনীয় পদ্ধতির সঙ্গতি বিধান করা।
এ ছাড়া পদ্ধতিগত সঙ্গতি বিধানের মধ্যে আছে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সাধন, উপাত্ত ও বহু-অংশীজন অংশীদারিত্ব এবং পরিবীক্ষণ ও জবাবদিহি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০), অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২৫) এবং দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় এসডিজির অভীষ্ট ও লক্ষ্যের সন্নিবেশ ঘটানো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রয়োগ করা হয়েছে।
এসডিজির ১৭ অভীষ্ট বাস্তবায়ন চিত্র : জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: দারিদ্র্য বিলোপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিমিত ও সঠিক পথেই রয়েছে। ক্ষুধামুক্তির ক্ষেত্রে পরিমিত মাত্রায় দুর্বল, তবে অগ্রসরমান আছে। সুস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে পরিমিতভাবে দুর্বল, তবে অগ্রসরমান। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে অপ্রতুল উপাত্তের কারণে মূল্যায়ন করা যায়নি। জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে পরিমিত মাত্রায় দুর্বল, তবে অগ্রসরমান।
নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে অপ্রতুল উপাত্তের কারণে মূল্যায়ন সম্ভব হয়নি। সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানির ক্ষেত্রে পরিমিত মাত্রায় দুর্বল তবে অগ্রসরমান। স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং শোভন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দুর্বল এবং স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। অভিঘাতসহিঞ্চু অবকাঠামো, টেকসই শিল্পায়ন ও উদ্ভাবনে পরিমিত মাত্রায় দুর্বল, অগ্রসরমান রয়েছে। অসমতা হ্রাসে অপ্রতুল উপাত্ত থাকায় মূল্যায়ন করা যায়নি।
টেকসই নগর ও জনবসতির ক্ষেত্রে দুর্বল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদনে অপ্রতুল উপাত্ত থাকায় মূল্যায়ন সম্ভব হয়নি। জলবায়ু কার্যক্রমে দুর্বল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। জলজ জীবনের ক্ষেত্রে দুর্বল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। স্থল জীবনের ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল এবং অবনতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দুর্বল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে দুর্বল ও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কর্মসূচি বা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা এবং জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা বিবিএস থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো ক্ষেত্রে অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। যেমন: জাতীয় উচ্চ দারিদ্র্যরেখা ও নিু দারিদ্র্যরেখার নিচে অবস্থানকারী জনসংখ্যা স্থিতিশীলভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
এ ছাড়া ৫ বছরের কম বয়সী খর্বকায় শিশুর অনুপাত কমিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ১৯৯৫-২০১৯ সাল পর্যন্ত অনূর্ধ্ব ৫ বছরের শিশুমৃত্যু হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর হার অনেক বেড়েছে। মানুষের প্রকৃত মাথাপিছু আয়ে ঊর্ধ্বগতি। দেশের টেলিযোগাযোগ পদ্ধতির আধুনিকায়ন ঘটেছে। এসডিজির প্রয়োজনীয় উপাত্তের ঘাটতি পূরণে সরকার সজাগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে : সম্পদ সংহতকরণ ও আরও মানোন্নয়ন করা। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো, ভ্যাট আদায়ে কর্মী ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সংকট, সক্ষমতা বিনির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগ, অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ, এলডিসি উত্তরণে কম সুদে ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা কমে যাওয়া, প্রবাসী আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য না হওয়া, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, টেকসই উন্নয়নে সুশীল সমাজের অবদানের সুযোগ বাড়ানো এবং নিকট ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •