ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি : আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

মহান মুক্তিযুদ্ধের টাঙ্গাইলের সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আবুদল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করার ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি রোববার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা শহরের মুন্সিপাড়া বাসায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর বাসায় তার হাজার হাজার ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমার ভাই কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এই ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দেশবাসী চেনেন। ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে কি করেছে তা সবরাই জানা। তাদের দ্বারা মানুষের আর কোন উপকার হবে না। আমি নির্বাচনে এসেছি ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিসিয়ারিদের বিরুদ্ধে, অত্যাচারি-শোষকদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে। আমি নির্বাচনে এসেছি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে, সংসদে জনগণের কথা বলতে এবং শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতে।

লতিফ সিদ্দিকী আরো বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই। কালিহাতীর আসনটি আওয়ামী লীগের। কালিহাতীর মানুষ আমার মূলশক্তি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দেওয়ার জন্যই নির্বাচনে লড়বো।

এরআগে শনিবার বিকালে লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা থেকে কালিহাতীতে আসেন। এ সময় তার ভক্ত-সমর্থক, অনুসারিরা তাকে কাছে পেয়ে ছুটে যান। ইতোমধ্যে লতিফ সিদ্দিকীর কর্মীরা কালিহাতীর মোট ভোটারের এক শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন।

লতিফ সিদ্দিকীর পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে। তিনি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে পবিত্র হজ¦ ও তাবলিক জামাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে মন্ত্রীসভা, দলীয় পদ থেকে অপসারিত এবং সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন লতিফ সিদ্দিকী। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি নির্বাচিত হন। ওই উপ-নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থীতা অযোগ্য ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।

এছাড়া ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিনী লায়লা সিদ্দিকী স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সোহেল হাজারীর নেতাকর্মীরা কালিহাতীতে মোটরসাইকেল র‌্যালি ও আনন্দ মিছিল বের করেন।