ওমানে মুনিরীয়া তবলীগের ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল

প্রকাশিত:রবিবার, ২৪ নভে ২০১৯ ০৩:১১

ওমানে মুনিরীয়া তবলীগের ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল

পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ সালতানাত অব ওমান শাখা সমূহের উদ্যোগে বিশাল এশায়াত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ওমান হেরিটেজ সিটি বেহেলার মজলিশ আল রিম হল রুমে অনুষ্ঠিত মাহফিলে ১৬১নং ওয়াদী আল কবির শাখার সভাপতি আলহাজ দিল মুহাম্মদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সালতানাত অব ওমানের মিনিস্ট্রি অব এনডোমেন্ট ও রিলিজিয়াস এফের্য়াস (ওয়াকাফ) এর সদস্য ও বেহেলা প্রদেশের পরিচালক শেখ হামাদ মুহাম্মদ আল হাশমি।

 

 

 

মাহফিলে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সাংগঠনিক তদারক পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ আসিফ মুরাদ।

 

লিখিত বক্তব্যে আওলাদে রাসুল হযরতুলহাজ শাহ্ছুফি অধ্যক্ষ আল্লামা ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ্ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কালামে পাকে বর্ণনা করেছেন : ‘ক্বাদ জা আকুম মিনাল্লাহি নূরুন ওয়া কিতাবুন মুবিন’। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে একটি নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব (কুরআন) তোমাদের নিকট এসেছে। আয়াতে ‘মিনাল্লাহি নূর’ দ্বারা আল্লাহ স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বুঝিয়েছেন। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ পাক বলেন : ‘নিশ্চয় আমি আপনাকে জগতসমূহের রহমত করেই প্রেরণ করেছি’।

 

তিনি আরও বলেন, ইসলামের মূলে রয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রেম, কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মূল বুনিয়াদ হলো তরিক্বত পন্থি উম্মতে মুহাম্মদীর অন্তরে নূরে মোস্তফা প্রক্ষেপনের মাধ্যমে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত নবী কারিম (দঃ) এর মুহাব্বত সৃষ্টি করে দেওয়া।

 

হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর তরিক্বতের মূল বৈশিষ্ট হলো হায়াতুন্নবীর উপর দৈনিক এগারশত বার দরূদ পাঠ করা, মোরাকার শিক্ষা দেওয়া এবং ছুন্নতের পায়রবী করা। হযরত গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হুজুর পাক (দঃ) এর পূর্ণ অনুসরন, অনুকরণ এবং সন্তুষ্টির মধ্যে নিজের জীবন অতিবাহিত করেছেন।

 

এ ছাড়াও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল উদযাপন করার জন্য মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশকে সরকারি অনুমোদন প্রদান করাই সালতানাত অব ওমান সরকারের প্রধান ও প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানান মহান মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন সালতানাত অব ওমানের মিনিস্ট্রি অব এনডোমেন্ট ও রিলিজিয়াস এফের্য়াস এর মুফতি আমির হামজা ওমর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ৫৬ নং আল রুই সিটি শাখার এশায়াত সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন আল কাদেরী ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওলামা পরিষদের সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।

 

উপস্থিত বক্তারা বলেন, আইয়্যামে জাহিলিয়াতের অন্ধকার জীবন থেকে মানবগোষ্ঠীকে মুক্ত করে আলোকিত বিশ্ব গড়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার হাবীব (দঃ) কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালার মহান বাণী ও তার প্রিয় নবী (দঃ) এর সুন্দরতম আদর্শে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক অনন্য পৃথিবী। তিনি মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অনুপম আদর্শ রেখে গেলেন বিশ্ববাসীর জন্য।

 

এ আদর্শ যখন মুসলিম জাতি, বিশেষ করে মুসলিম যুব সমাজ ভুলে যেতে শুরু করল ঠিক তখনই কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবারের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল, হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হু গাউছিয়্যতের কণ্ঠে ডাক দিলেন, ‘হে যুবক! নামাজ পড়, রোজা রাখ, নবী কারীম (দঃ) এর উপর দরূদ পড়, মাতৃভূমি শান্ত কর।’

 

 

 

তারা আরও বলেন, মোহনীয় এ ডাকে সাড়া দিয়ে আজ হাজার হাজার মুসলিম যুবক-যুবতীর মাঝে সৃষ্টি হলো ইসলামি মূল্যবোধ, সুন্নাতে নববীর গুরুত্ব, আত্মশুদ্ধির মনোবাসনা, রূহানী জগতে বিচরণের প্রবল উদ্দীপনা। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী এ দরবারের অনুসারীরা পালন করছেন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) মাহফিল।

 

মাহফিলে প্রবাসী বাংলাদেশি, স্থানীয় আরবীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানের উপস্থিতিতে মাহফিল প্রাঙ্গন কানায় কানায় র্পূণ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ধর্মীয় এই বৃহৎ জমায়েতের আদব এবং শৃংখলা দেখে স্থানীয় আরবিরা বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবুল মনছুর, আলহাজ্ব ইখতেয়ার চৌধুরী, আলহাজ্ব মুনছুর আহমেদ, আলহাজ্ব মুহাম্মদ সেলিম, আলহাজ্ব জাফর আহমেদ, মৌলানা নেছার আহমেদ, আলহাজ্ব নুরুল আবছার সহ ওমানের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতারা।

 

মাহফিল শেষে দেশ, জাতি,বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও উপস্থিত সকলের ইহকালীন কল্যাণ, পরকালীন মুক্তি এবং কাগতিয়ার গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •