কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া পর্যটক শূন্য

প্রকাশিত:বুধবার, ২৭ মে ২০২০ ১০:০৫

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া পর্যটক শূন্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষ্যে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ঢল নামলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে সরকারি নির্দেশনা থাকায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে এবার ঈদে পর্যটক শূন্য রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তাছাড়া কোন প্রকার স্বাস্থ্য বিধি না মেনে সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে মাধবপুর চা বাগান লেকে স্থানীয় পর্যটকদের যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে।
শহুরে জীবন থেকে বাইরে এসে প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে ভিড় জমাতেন কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে।
ঈদের দিন ও পরের কয়েকদিন কয়েক হাজার পর্যটকের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠতো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রতিবছর ঈদের ২ মাস আগ থেকেই এখানে ভ্রমণে ইকো ট্যুর গাইডদের ফোন দিতেন পর্যটকরা। কেউ কেউ বিকাশে গাইড ফি হিসেবে অগ্রীম বুকিং দিয়েও রাখতেন। তবে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করায় ঈদুল ফিতরে পর্যটকশূন্য রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
গতকাল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারসহ প্রবেশ ফটকে তালা ঝুলছে। ভিতরে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় পর্যটকশূন্য উদ্যান যেন হাহাকার করছে। তবে বানর, লজ্জাবতী বানর, চশমাপরা বানরদের আপন মনে গাছে গাছে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ছিল পুরো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নেই শুধু পর্যটক।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ২ মাস ধরে এ উদ্যানে পর্যটকদের প্রবেশাধীকার বন্ধ রয়েছে।
তবে ঈদের দিন গত সোমবার উপজেলার অপর পর্যটন স্পট মাধবপুর লেকে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নারী-পুরুষ ও শিশুর সমন্বয়ে প্রচুর পর্যটক প্রবেশ করছেন মাধবপুর লেকে। দল বেধে লেকের তীরের উঁচু নিচু চা প্ল্যান্টেশন টিলা ঘুরে বেড়িয়ে আবার ফিরে যাচ্ছেন। মাধবপুর লেকে প্রবেশের প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চা কারখানার সামনের গেইটে বাগান কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোটরযান আটকিয়ে দিলেও পর্যটকদের পায়ে হেঁটে লেকে প্রবশে করতে দেখা গেছে। পরে অবশ্য কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল দল এসে পর্যটকদের সেখান থেকে বের করে দেয়।
এ ব্যাপারে আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এ সময়ে পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ কোনভাবেই মানা হবে না। আর দলবেধে এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে ঘুরে বেড়ানোর কোন সুযোগ নেই। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •