করলাকে গুরুত্ব দিন, জেনে নিন করলার অনেক গুণাগুণ

★করলা, করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে ইত্যাদি এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি।
এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম।
প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ।

★এবার জেনে নিন, করলার আরো পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:—–

ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী।
করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে।
আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে।
দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি।
ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।

করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে।
ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি।

ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে।
ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়।
করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে।
ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন।
করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন।
নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারি।
ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে।
স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

এছাড়া করলা পাতার রস খুবই উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে।
অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়।
ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন।
করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা হাসিনা আকতারের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত করলা খেলে রোগবালাই থাকে ১০০ হাত দূরে।

প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় আছে——–
২৮ কিলোক্যালরি,
৯২ দশমিক ২ গ্রাম জলীয় অংশ,
৪ দশমিক ৩ গ্রাম শর্করা,
২ দশমিক ৫ গ্রাম আমিষ,
১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,
১ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম লোহা ও
৬৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

★শ্বাসরোগ দূর করে:—–
করলার রসে আছে অনেক গুণ।
এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের দূষণ দূর করে।
হজমপ্রক্রিয়ায় গতি বাড়ায়।
পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহে উপকার পাওয়া যায়।

★তারুণ্য ধরে রাখে:—-
করলা উচ্চ রক্তচাপ ও চর্বি কমায়।
এর তেতো রস কৃমিনাশক।
এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।
এ ছাড়া এটি ভাইরাসনাশকও।
রক্তশূন্যতায় ভুগছেন—এমন রোগীর উত্তম পথ্য করলা।
করলা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে শরীরে রক্তের উপাদান বাড়ায়।
করলার ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখে এবং ম্যালেরিয়া জ্বরে স্বস্তি দেয়।
মাথাব্যথারও উপশম করে করলা।
এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত পরিষ্কার করে।
স্ক্যাভিজের মতো রক্তরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
করলার সবচেয়ে বড় গুণ এটি বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
তাই করলা খেয়ে ধরে রাখুন তারুণ্য।

★হজমে স্বস্তি আনে:—–
করলার বড় গুণ হচ্ছে এটি হজমের জন্য উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা আছে।
পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা দূর করতে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।

★শক্তিবর্ধক:——
করলার রস শক্তিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে।
এটি স্ট্যামিনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

★ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে:—–
করলায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রক্তের চিনি কমানোর উপাদান।
ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।

★রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়:——
করলা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।
কোনো ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সাহায্য করে।

★সুগার নিয়ন্ত্রণে:——
করলা অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোতে সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
এটি শরীরের কোষের গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া বাড়ায় ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা কমে।

★ক্যানসার প্রতিরোধী:——
করলায় আছে যথেষ্ট লৌহ, ভিটামিন এ, সি এবং আঁশ।
এন্টি অক্সিডেন্ট-ভিটামিন এ এবং সি বার্ধক্য বিলম্বিত করে।
এছাড়া করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন।

★হার্ট অ্যাটাক রোধ করে:——
করলা রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি কমায় আর বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল।
এতে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন করলা গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং প্রতিরোধ হয় রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা।

★খাবারে রুচি আনে:——
খাবারে অরুচি দেখা দিলে, অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগার প্রবণতা বেড়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করে ফলের রস সকাল ও বিকালে খেলে খাবারে রুচি বাড়বে।

★ম্যালেরিয়া রোগীর পথ্য:——
ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস খেলে খুব উপকার মেলে।
এছাড়া ম্যালেরিয়ার রোগীকে দিনে তিনটে করলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ এক সঙ্গে থেঁতো করে নিয়ম করে ৭ দিন খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
করলার পাতার রস খেলে জ্বর সেরে যায়।
শরীর থেকে কৃমি দূর করতেও করলা কাজ করে।

★বাতের ব্যাথা নিরাময়:——
দেহ থেকে বাতব্যাথা তাড়াতে চার চা-চামচ করলা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে দেড় চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সঙ্গে খেতে হবে।

★ঔষধি গুণ:——-
শরীর কামড়ানি, জল পিপাসা বেড়ে যাওয়া, বমিভাব হওয়া থেকে মুক্তি পেতে উচ্ছে বা করলার পাতার রস উপকারী।
এক চা চামচ করলা পাতর রস একটু গরম করে অথবা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

★জেনে নিন করলার আরো বহুবিধ উপকারিতা এবং এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে:———-

০১. করলা রক্তচাপ কমাতে পারে।

০২. ক্রিমিনাশক হিসাবে করলা কাজ করে।

০৩. করলা রক্তের চর্বি কমায়।

০৪. এটি ভাইরাস নাশক হিসাবে কাজ করে,
যেমন:—– হিপাটাইটিস এ, হারপিস ভাইরাস, ফ্লু, ইত্যাদির বিরুদ্ধেও বেশ কার্যকর ভুমিকা রাখে।

০৫. গবেষকদের মতে করলা ক্যান্সাররোধী হিসাবে কাজ করে,
যেমন:—— করলা লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে থাকে।

০৬. কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করার ক্ষেত্রে করলার রয়েছে বিশেষ অবধান।

০৭. করলা হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে কারন করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন।

০৮. করলা পাতার রস শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করতে সহায়তা করে।

০৯. করলা ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় কারন করলায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।

১০. করলা ম্যালেরিয়া জ্বরে ও মাথা ব্যথায়ও অনেক উপকারী।

১১. করলাতে আছে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে উপকারী।

১২. নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম-এর সমস্যায় করলা অনেক উপকারী।
করলা ব্লাড পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

১৩. করলা বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে থাকে কারন এতে আছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট।

১৪. করলা বাতরক্ত দূর করতে সহায়ক।
চার চা চামচ করলা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে সেই সাথে এক চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সাথে খেতে হবে।

তাই এর পুষ্টিগুণ পেতে বেশি করে করলা খান।
আপনার খাদ্যের তালিকায় করলার অন্তত একটি আইটেম রাখা ভাল।
সুতরাং করলা খান সুস্থ্য সুন্দর জীবন যাপন করুন।

★করলার জুসের উপকারিতা★

বিজ্ঞান পত্রিকা ‘বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন’-এর রিপোর্ট বলছে, নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ করলা খুব দ্রুত দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে।
করলার রস দিয়ে হেলথ ড্রিঙ্ক বানিয়ে খেলে কাজ হয় খুব তাড়াতাড়ি।
বর্তমান প্রজন্মের একটা বড় অংশ ওবেসিটির শিকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করলার রস ফ্যাট সেলগুলো বার্ন করে এবং সেই জায়গায় নতুন ফ্যাট সেল তৈরি হতে বাধা দেয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও করলার রস খুব উপকারি।
করলার মধ্যে রয়েছে পলিপেপটাইড বি, ভিসিন এবং ক্যারাটিন।
প্রতিদিনের ডায়েটে করলার জুস রাখলে উচ্চরক্তচাপ কমে। রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিজ্ঞানপত্রিকা ‘কারসিনোজেনেসিস’-এর রিপোর্ট বলছে, করলার জুস অগ্নাশয়ের ক্যান্সার রোধ করে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলিকে নির্মূল করে।
বিজ্ঞানপত্রিকা ‘পাবমেড’-এর তথ্য অনুযায়ী স্তন ক্যান্সার রোধে করলার জুসের গুরুত্ব রয়েছে।
হাঁপানি এবং ফুসফুসের যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করে করলার জুস।
নিয়মিত করলার জুস খেলে ত্বক অনেক টানটান এবং তরতাজা দেখায়।
বলিরেখা দূর হয়।
করলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
মধু মিশিয়ে করলার জুস খেলে হজম শক্তি বাড়ে।
তাছাড়া এতে রয়েছে ফাইবার, যা পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে।

★★★করলার জুস যেভাবে বানাবেন:——-
করলা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ছোট পিস করে কাটুন।
তেতো খেতে খুব সমস্যা হলে ব্লেন্ডারে করলার সঙ্গে অন্যান্য সবজি দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।
স্বাদ বাড়ানোর জন্য ওই মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে খান।

(তথ্যসূত্রঃ স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল দেহ ও অন্যান)