করোনা চিকিৎসায় চলছে লাইট থেরাপির পরীক্ষা

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৬ অক্টো ২০২০ ০১:১০

করোনা চিকিৎসায় চলছে লাইট থেরাপির পরীক্ষা

আলো ও অন্ধকার আমাদের অনুভূতির ওপর কতটা প্রভাব রাখে, পদে পদে আমরা তা টের পাই। বিশেষ কয়েকটি রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই লাইট থেরাপির ব্যবহার চলে আসছে।

 

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এবার আলোর ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা। করোনার বিরুদ্ধে এ বিশেষ থেরাপির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে কয়েকটি গবেষণা চলছে। মন খারাপের দাওয়াই হিসেবেও লাইট থেরাপি বেশ জনপ্রিয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আল আমাদের মুড নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

করোনার বিরুদ্ধে লাইট থেরাপির বিষয়টি আলোচনায় আসে এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফুসফুসে করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে লাইট থেরাপির কথা বলেন। তার মন্তব্যটি অনেক হাস্যরসের জন্ম দিলেও কিছু গবেষক মনে করেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দোষের কিছু নেই। কারণ ইতোমধ্যেই যক্ষ্মা ও জন্ডিসের চিকিৎসায় লাইট থেরাপির সাফল্য দেখা গেছে।

১৮৭৭ সালের প্রথমদিকে, ব্রিটিশ ফিজিওলজিস্ট আর্থার ডাউনস এবং বিজ্ঞানী থমাস ব্লান্ট লক্ষ করেছেন, আলো কার্যকরভাবে একটি ধারাবাহিক অণুজীবকে হত্যা করতে পারে। তাদের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আলোর প্রভাবে নির্দিষ্ট ডোজের মাধ্যমে বেগুনি রশ্মি কিছু রোগের প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে কার্যকর।

ম্যাসাচুসেটসের বিরগ্রাম অ্যান্ড উইমেন্স হাসপাতালের কোভিড ইনোভেশন সেন্টারের সহ-ব্যবস্থাপক গিয়েরমো টিয়েরনি’র মতে, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় কাজে আসতে পারে এমন যে কোনও প্রযুক্তি খতিয়ে দেখতে ক্ষতির কিছু নেই। তার মতে, এটি একটি নিরাপদ প্রযুক্তি এবং পরীক্ষা চালানোও সহজ। সুতরাং পদ্ধতিটি পরীক্ষা করে না দেখার কোনও কারণ নেই, যদি এতে কোভিড আক্রান্ত রোগীর উপকার হয়।

কানাডার নোভা স্কটিয়ার গবেষক ড. রয় টিংলি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে একটি পরীক্ষা পরিকল্পনা করেছেন। ২৮০ কোভিড রোগীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হবে। এ পরীক্ষায় ভাইলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা নাক ও বুকের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে রেড লাইট ও ইনফ্রারেড রে চালনা করে।

এসব রোগীর অর্ধেককে লাইট থেরাপি দেয়া হবে, বাকি অর্ধেককে প্রচলিত চিকিৎসা দেয়া হবে। ফলাফল যদি আরোগ্যের সময়কে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিতে পারে তবে সেটি সাফল্য বলে বিবেচিত হবে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের থেরাপি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর শরীরের কমে যাওয়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে সহায়তা করবে।

 

 

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •