করোনা মোকাবেলায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন যাঁরা

প্রকাশিত:বুধবার, ১৭ জুন ২০২০ ১১:০৬

 করোনা মোকাবেলায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন যাঁরা

আলমডাঙ্গা  (চুয়াডাঙ্গা) :

আলমডাঙ্গায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যাঁরা নিজেদেরকে ঢাল করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন চুয়াডাঙ্গা -১ আসনের সাংসদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাবেক চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র, আলমডাঙ্গা সহকারি কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ও আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ অন্যতম।

সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনঃ তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ। সে কারণে করোনা ঝুঁকি তার সর্বাধিক। এই মৃত্যু ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে তিনি প্রকৃত নেতার মতই এই করোনাকালে জেলায় নেতৃত্ব অব্যাহত রেখেছেন। ছুটে যাচ্ছেন জেলার সর্বত্র। জনগণের নেতা হিসেবে জনগণই যেন তার অক্সিজেন। সর্বদা সাধারণ মানুষের মাঝেই অবস্থান করছেন স্বজনের মত। মানতে পারছেন না সামাজিক দূরত্ব।

করোনাকালে লকডাউনে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সহায়তার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও যতেষ্ঠ সহযোগিতা করেছেন। প্রায় ৪৫ হাজার পরিবারকে তিনি নিজ অর্থে খাদ্যসহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া সরকারিভাবে দেওয়া সহায়তা যাতে নেতাকর্মিদের কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পেটে না যায় সে ব্যাপারে সজাগ করেছেন সরকারি দায়িত্বশীল কর্তকর্তাদের। বলা যায়, তিনি নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে এই কঠিন করোনাকালে জনগনের সাথে আছেন, জনগণের পাশে আছেন।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারঃ করোনা সঙ্কট শক্ত হাতে মোকাবেলা করে চলেছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। লকডাউন, কর্মহীন মানুষের দোর গোড়ায় খাদ্যসহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা। সরকারি বিধিবিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ করা, চলমান পরিস্থিতি সতর্ক দৃষ্টিতে অবলোকন করার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন তিনি। করোনা মোকাবেলায় আন্তদফতরের ভেতর সমন্বয় সাধন করে কাজের গতিশীলতা বজায় রেখেছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করছেন তিনি। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে  বিশেষ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সরকারের নানা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি জেলার সার্বিক করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।

পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামঃ চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। করোনার বিস্তার রোধে দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে দর্শনার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরও মনোবল অটুট রেখে মাঠে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করছেন তারা। অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনায় কেউ মারা গেলে লাশ দাফনের দায়িত্ব পড়ছে পুলিশের ওপর। এসব কারণে পুলিশ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। মার্চের শেষের দিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে জনগণকে সচেতন করতে চুয়াডাঙ্গা – আলমডাঙ্গায় পুলিশ লিফলেট বিতরণ করেছে। পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে লিফলেটগুলো বিতরণ করা হয়। পুলিশ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে এজন্য সদস্যদের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা লকডাউন কার্যকরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিদেশ ফেরত ও দেশে করোনা উপদ্রুত এলাকা থেকে আসা লোকজনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, আক্রান্ত পরিবারগুলোকে লকডাউন এবং রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানোর কাজ করছে পুলিশ। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপারের নিজ উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলীঃ গত মার্চ মাস থেকে দৃঢ় মনোবল অটুট রেখে মাঠে রয়েছেন তিনি। করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন। করোনায় কর্মহীনদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাদের চিকি্তসার খোঁজ নিচ্ছেন। তাদের পরিবারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। লকডাউন বাস্তবায়ন করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। প্রতিদিন মে-জুনের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে পরম নিষ্ঠায় তিনি এ সকল গুরু দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এমনকি অনলবর্ষি তাপদাহ উপেক্ষা সড়কে হ্যান্ড মাইক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদঃ মার্চের প্রথমার্ধেই জেলায় প্রথম করোনা রোগি শনাক্ত করা হয় আলমডাঙ্গায়। সেই থেকে আজোবধি মাঠেই তিনি। তার করোনার আগে চলার নীতি বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্রগ্রাম থেকে আসা ব্যক্তি জেলায় প্রবেশের সংবাদ পাওয়ামাত্র ছুটে গেছেন নমুনা সংগ্রহ করতে। পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে করেছেন তাদের বাড়ি লকডাউন। আক্রান্তদের বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে দিয়েছেন চিকিৎসাসেবা। তার সফল চিকিৎসায় সকলেই সুস্থ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি ডাক্তার হাদীর স্টাফদের অনেকে আক্রান্ত। তারপরও থেমে নেই ডাক্তার হাদীর করোনা জয়ের নতুন নতুন অভিযান।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনঃ তিনি জন প্রতিনিধি না হলেও প্রতিদিন করোনা সঙ্কটে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। করোনা মোকাবেলায় সহোদর সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। ক্ষেত্রবিশেষে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। প্রয়োজনে জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে চলেছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। জেলায় করোনা যুদ্ধে তিনিও একজন মহান সিপাহসালার।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ুন কবীরঃ আলমডাঙ্গায় করোনা মোকাবেলায় সাহসি একজন সম্মুখ যোদ্ধার নাম হুমায়ুন কবীর। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আলমডাঙ্গা একটি বর্ধিষ্ণু এলাকা। এই বৃহত উপজেলায় সর্বত্র ছুটছেন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সহযোগিতা করছেন।

আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীরঃ বাঙ্গালী চির স্বাধীনচেতা  ও অসচেতন জাতি। নিন্দুকেরা বিশৃঙ্খল জাতি হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। এমন মানবগোষ্ঠিকে শারীরিক শাস্তি ব্যতিরেকে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি, কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউন বিধি মেনে নিতে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত কঠিন। সেই কঠিন কাজটির দায়িত্ব আলমডাঙ্গা উপজেলায় সম্পন্ন করছে পুলিশ থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীরের সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে পুলিশ। করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করাসহ নানা কর্মকান্ড তাদের দায়িত্ব। করোনায় কেউ মারা গেলে লাশ দাফনের দায়িত্ব পড়ছে পুলিশের ওপর। এসব কারণে পুলিশ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। মার্চের শেষের দিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে জনগণকে সচেতন করতে আলমডাঙ্গায় পুলিশ লিফলেট বিতরণ করেছে। মানুষের মাঝে সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা লকডাউন কার্যকরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিদেশ ফেরত ও দেশে করোনা উপদ্রুত এলাকা থেকে আসা লোকজনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, আক্রান্ত পরিবারগুলোকে লকডাউন এবং রোগীদের আইসোলেশনে পাঠানোর কাজ করছে পুলিশ। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া ও প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে জেলায় অনেক পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ নির্ভিকচিত্তে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন। পুলিশকে ২৪ ঘন্টায় তৎপর থাকতে হচ্ছে। দিনে করোনা মোকাবেলায় আর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •