কলাপাড়া ৯৩ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা

প্রকাশিত:রবিবার, ০৪ অক্টো ২০২০ ০৬:১০

কলাপাড়া ৯৩ কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা

মিলন কর্মকার রাজু,কলাপাড়া(পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং ষ্টেশন সড়ক ও কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানগামী প্রধান সড়ক দুটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার যান ছাড়াও লাখো মানুষ চলাচল করে। রয়েছে একাধিক শিল্প ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনাসহ হোটেল-মোটেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্ষা হলেই দুটি সড়কেই কোথাও হাঁটু কাদা, কোথাও বা দেড় দুই ফুটের গর্ত। একদা পিচঢালা রান্তা হলেও অনেক স্থানে নেই পিচ কিংবা পাথরের অস্থিত্ব। বালু সরে রাস্তার কাদামাটি পর্যন্ত উঠে গেছে। পাকা এ সড়কগুলো এখন পরিনত হয়েছে মরনফাঁদে। এ কারনে প্রতিনিয়ত যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে মানুষ। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, কলাপাড়ার ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তাগুলো খুব শীঘ্রই মেরামত করা হবে। এজন্য দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা।
জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলায় এলজিইডি নির্মিত পাকা-কাঁচা মোট সড়ক রয়েছে দুই হাজার আট কিলোমিটার। এর মধ্যে উপজেলা সংযোগ সড়ক রয়েছে ১১৯ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। ইউনিয়ন কানেক্টিং রোড রয়েছে ১৮ কিলোমিটার। গ্রামীণ গুরুত্বপুর্ণ সড়ক রয়েছে ৮২ কিলোমিটার। গ্রামীণ কম গুরুত্বপুর্ণ সড়ক রয়েছে এক হাজার চার শ’ ১৬ দশমিক ৯২ কিলোমিটার। এরমধ্যে বিটুমিনাস কার্পেটিং (পাকা) সড়ক রয়েছে এক হাজার সাত শ’ দুই কিলোমিটার। দুই শ’ ১১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে কাঁচা (মাটির), আর ৯১ কিলোমিটার রয়েছে হেরিংবন্ড (ইট বিছানো)।
এলজিইডির হিসাব মতে, কলাপাড়ায় ৯৩ কিলোমিটার পাকা বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক খুব খারাপ। যার মধ্যে টিয়াখালী পাঁচ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার, চাকামইয়া সাত দশমিক ২৫০ কিলোমিটার, ধানখালীতে ১৪ কিলোমিটার, চম্পাপুরে সাড়ে তিন কিলোমিটার, লালুয়ায় চার কিলোমিটার, বালিয়াতলীতে ১৩ কিলোমিটার, ধুলাসারে নয় কিলোমিটার ২৫ মিটার, মিঠাগঞ্জে আট কিলোমিটার, নীলগঞ্জে ছয় কিলোমিটার ৮০ মিটার, মহিপুরে আড়াই কিলোমিটার, লতাচাপলীতে ১৬ কিলোমিটার এবং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে সাড়ে তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাইক চালক রফিক হোসেন, গ্রামবাসী সুলতান মিয়া বলেন, লতাচাপলী ইউনিয়নের সামমেরিন ক্যাবল ষ্টেশনগামী কার্পেটিং সড়কটিতে বৃষ্টি হলেই হাঁটু কাদা হয়ে যায়। এ সড়কের মাঝামাঝি একটি নির্মানাধীন স্লুইস অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সড়কের বেহাল দশা। যাত্রীবাহী গাড়ি তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাও এ সড়কে এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। অথচ প্রতিদিন এ সড়কে কয়েক হাজার বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে।
একই অবস্থা কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে জাতীয় উদ্যানগামী সড়কটি। এ সড়কের দুই পাশের কয়েকশ ব্যবসায়ীসহ কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাচ্ছে বিধ্বস্ত সড়কে পা আটকে। শিকার হচ্ছে দূর্ঘটনার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্ষা হলেই কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। গত প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কের এ বেহালদশা। অথচ এটি মেরামতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটক তৃপ্তি ঘোষ, অরিত্রী দে, নিশাত জামান ও বিপ্র দাস বলেন, বর্ষায় জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে যাওয়ার রাস্তাটা কোথাও গর্ত, কোথাও কাঁদা। আর শুকনো মেীসুমে থাকে ধুলোয় ভরা। গাড়িতে তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্ট।

তবে সড়কের এ বেহলা দশার কথা স্বীকার করে এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহর আলী। তিঁনি জানান- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়কগুলো পাকাকরন করার পাশাপাশি মেরামত করা হবে বলে জানান।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মহিব্বুর রহমান কলাপাড়ার আন্তঃ সড়কের বেহালদশার কথা স্বীকার করে বলেন, খুব শীঘ্রই উপজেলার সকল সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। কলাপাড়া,মহিপুর ও রাঙ্গাবালীর সড়ক উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। উন্নয়ন এলাকা ইতিমধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এলজিইডির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এলজিইডির পটুয়াখালী-বরগুনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মোল্লা মিজানুর রহমান বলেন, কলাপাড়ার সড়কের উন্নয়নে দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হলে কলাপাড়াসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •