কানাডায় কবি মহাদেব সাহার জন্মদিন পালন

কানাডা:কবি মহাদেব সাহার এবারের জন্মদিন তার আগের জন্মদিনের তুলনায় সবদিক থেকেই ভিন্ন। আর সেই ভিন্নতা কবি নিজেই রচনা করেছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে কবি কানাডার ক্যালগারি শহরে বসবাস করছেন। সেখানে মাটির নিচে কালো সোনা, তেল নামে যাকে আমরা চিনি। তেল আর গ্যাসের বাণিজ্যিক শহরও যে একজন কবির মনোজগতে কবিতা জাগাতে পারে, আর সেই কবিতা ভূগোল আর সময়কে অতিক্রম করতে পারে, তা আর কোনো কষ্ট কল্পনা নয়।

 

কিন্তু কে ভেবেছিল সত্তর বছর পার হয়ে কবির মনে সঙ্গীত জাগবে? অথচ, সেটাই হয়েছে। ৫ অগাস্ট কবিকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ক্যালগারির বাঙালিরা সমবেত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেন্টারে। তারই তৈরি করা সংগঠন ‘কবিতালোক’ আয়োজন করেছিল অনুষ্ঠানটি।

 

আর সবাইকে চমকে দিয়ে কবির সামনে তার লেখা গান গেয়ে ঘণ্টাখানেক সবাইকে মুগ্ধ করে রাখলেন এক সময়ের ছায়ানটের কৃতি ছাত্রী রিতা কর্মকার ও তার দল। ক্ষণিকের জন্য রবীন্দ্রযুগ যেন ফিরে এসেছিল ক্যালগারিতে। সেই ভাষা, সেই সুর। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে কীভাবে আকাশের বুকে একখণ্ড চাঁদের মতো বাংলার সেই রূপ, রস, আনন্দ আর বেদনা একত্রে ভেসে উঠেছিল, কেউ বলতে পারে না।

 

কান্তার অনবদ্য উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল ‘কবিতালোক’ এর সভাপতি বায়েজিদ গালিবের শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে। কবির গীতিকার হয়ে ওঠার পেছনের কাহিনী নিয়ে রঞ্জন নন্দীর লেখা গদ্যটি পড়ে শোনান উপস্থাপক কান্তা।

 

তারপর একে একে ফুল দিয়ে কবিকে বরণ করা, সেই বরণজজ্ঞে কেউ বাকি ছিলেন না। প্রবাসী শিল্পী জেরিন তাজ তার রঙ-তুলির ছোঁয়ায় এঁকেছেন কবির পোট্রেট। অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে ভাবুক সেই ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে থেকেছেন কবি স্বয়ং। ক্যালগারি প্রবাসী লেখক লতিফুল কবির তার ছোটগল্পের সংকলন ‘শিমুল তলা ও অন্যান্য’ বইটি কবিকে উপহার দেন।

 

বাংলাদেশ থেকে কবি রোদেলা নিলার পাঠানো শুভেচ্ছা-বাণী বাজিয়ে শোনোনো হয়। আর কবির জন্মদিন উপলক্ষে কবি-পত্নি নীলা সাহা তার স্বরচিত কবিতা আবৃতি করে সবাইকে চমকে দিলেন। ‘কবিতালোক’ এর সদস্যরা কখনও সমবেত কণ্ঠে, কখনওবা একক কণ্ঠে কবির লেখা গান গেয়ে শোনালেন। আর কবিতা পাঠ? সেটা না হলে কি কবি, কি সমবেত সুধী, কে কবে খুশি হয়েছেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published.