কানাডায় আদিবাসীদের নিয়ে আন্দোলন এবং সরকারের প্রজ্ঞাপন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টে ২০২০ ০৫:০৯

কানাডায় আদিবাসীদের নিয়ে আন্দোলন এবং সরকারের প্রজ্ঞাপন

কানাডায় আবার আদিবাসীদের নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কানাডা সরকারও আদিবাসী নিয়ে নানামুখী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

গত রবিবার মন্ট্রিয়লে বিক্ষোভকারীরা ‘প্লাস দু কানাডা’ স্থানে স্থাপিত সাবেক প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম স্যার জন ম্যাকডোলান্ড ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেছে। বিক্ষুব্ধরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি ছিলেন ভীষণ বর্ণবাদী! তাই আদিবাসীদের দেখতে পারতেন না। কানাডার আদিবাসীদের সন্তানদের জোর করে ধরে এনে বিতর্কিত আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানোর পেছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল জোরালো এবং বিতর্কিত।

কানাডায় এখনো আদিবাসী নির্যাতন হয়। আলবার্টা প্রদেশে গত ১০ মার্চ আসীবাসী এ্যালান অ্যাডামকে পুলিশ মাটিতে ফেলে আঘাত করতে করতে রক্তাক্ত করে এবং তা ভিডিও করে।

এনিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি জাস্টিন ট্টুডো সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হতাশার ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের ভাংচুরের ঘটনা প্রমাণ করে দেশ ন্যায়বিচার এবং সাম্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না। কানাডার আইনকে সবারই সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাস্টিন তাঁর ফেসবুকে আরো বলেন, আমাদের অবশ্যই অতীতের অন্ধকার এবং লজ্জাজনক অধ্যায় স্বীকার করতে হবে, আবাসিক স্কুল সিস্টেম সহ যা আদিবাসী পরিবার এবং সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং সারা দেশে আদিবাসীদের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এই ধরনের কাজ কখনো ভোলার নয়। যেহেতু আমরা আদিবাসীদের সাথে অংশীদারিত্বে পুনর্মিলন অব্যাহত রাখি, তাই আমরা আবাসিক স্কুল সিস্টেম এবং তাদের পরিবারের বেঁচে যাওয়াদের সম্মান করি।

অপর দিকে কুইবেকের সরকার প্রধান ফ্রাঁসোয়া ল্যগো ভাস্কর্যটি রশি লাগিয়ে টেনে নিচে নামানোর ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ঐতিহ্যের অংশ ধ্বংস করা কোনও সমস্যার সমাধান নয়। পরদিন ভেঙ্গে ফেলা মোরাল সরিয়ে ফেলা হয়।

আলোচ্য বিষয়টি কানাডিয়ান জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এ প্রসঙ্গে কুইবেক থেকে শিল্পী রাকীব হাসান বলেন, কানাডার স্বাধীনতা অর্জনে এবং শুরুতে কানাডা নির্মাণে ম্যাকডোলান্ডের ভূমিকা ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁর বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, তিনি মায়ের অনুমতি ছাড়াই শহরে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করার বিষয়টি ছিলো বন্দি জীবনযাপনের মতোই।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা সরকার দ্রুত ‘Government of Canada recognizes the National Historic Significance of the Residential School System and former Residential School sites’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান নিতে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রি ম্যাকডোলান্ড ১৮৬৭ সালে কানাডার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •