কানাডা ষ্টুডেন্ট ভিসার সাতকাহন

মো: হাসান সাজ্জাদ ইকবাল: ইন্টারনেশনাল ষ্টুডেন্টদের একটা বিশাল অংশ কেন তাদের স্টাডি পার্মিট পাচ্ছেনা? এটা শুধু আমাদের দেশের ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রেই ঘটছে তা কিন্তু নয়। এমন তো নয় যে তারা কানাডাতে ষ্টাডি করার মত মেধাবি নয় অথবা তাদের পড়াশুনা করার মত যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য নেই। বেশিরভাগেরই তা আছে। তাহলে ভিসা অফিসার কেন এক তৃতীয়াংশ আবেদন নাকচ করে দিচ্ছে?

শিক্ষাক্ষেত্রে কানাডার বানিজ্য বছরে প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতিনিয়ত কানাডা প্রচার করছে যাতে শিক্ষার্ত্রীরা এখানে আসার জন্য অনুপ্রানিত হয়। কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী অনারেবল আহমেদ হুসেন প্রায়ই স্বীকার করেন যে, বিদেশী ছাত্র/ছাত্রী কানাডার জন্য কতখানি উপকার বয়ে আনে। তারপরেও কেন এত ভিসা রিজেকশন?

উত্তর আমেরিকার যেকোন স্বীকৃত পোষ্টগ্রাজুয়েট শিক্ষাপ্রতিষ্টানের শিক্ষার মান অনেক ভালো ও বিশ^মানের এটা অনীস্বীকার্য। এখানকার ডিগ্রী দিয়ে গ্লোবাল জব মার্কেটে অনুপ্রবেশ করা যায় সহেেজই। এই জন্যই এত টাকা পয়সা খরচ করে সারা পৃথিবী থেকে এখানে ছাত্র/ছাত্রী পড়াশুনা করতে আসতে চায়।

কিন্তু ২০১৭ সালে প্রায় তিনলাখ আবেদনকারির মধ্যে ষ্টাডি পার্মিট পেয়েছে মাত্র দুই তৃতিয়াংশ অর্থাৎ  প্রায় দুই লাখ। বাকি একলাখ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তাহলে কি হলো ? কেন তাদের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হলো ? যাদের আবেদন সফল হলো তাদের সংগে এদের ভেদাভেদটা কোথায়?

জুনায়েদ (কল্পিত নাম) বাংলাদেশে একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করেছেন অর্থনিতীতে। চাকুরী করেছেন একটি এনজিও তে, জুনায়েদের আইইএলটিএস এ স্কোর ৬। অফার লেটার পেয়েছেন একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্টান থেকে। উনি পড়াশুনা করতে চান একটি টেকনিক্যাল সাবজেক্টে। আপনি কি মনে করেন ? জুনায়েদ সাহেবের আবেদন সফল হবে? না হবে না?

 

ষ্টাডিপার্মিট রিফিউজ হওয়ার মধ্যে যে কারনগুলো অন্যতম তাহলো:

১.       আবেদনকারির অর্থনৈতিক সামর্থ্যের দুর্বল প্রমান। দেখা গেছে আবেদনকারি হঠাৎ করে মোটা অংকের টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে সেই ষ্টেটমেন্ট দিয়েছেন। অথবা আবেদনকারির দাদার মামাতো বোনের ছেলে তাকে স্পন্সর করবেন বলে অ্যাফিডেবিট নোটারাইজড করে অনেক সুলিখিত করে কভার লেটার দিয়েছেন।

২.       ভিসা অফিসার যথেষ্ট সন্তুষ্ট নন যে, আবেদনকারি পড়াশুনা শেষে অথবা না শেষে তার নিজ দেশে ফিরে যাবেন। স্পাউজ এবং বাচ্চাকাচ্চ সহ একবারে আসতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ভিসা অফিসারের মনে একটু খটকা লাগে। হয়তো আবেদনকারির যথেষ্ট ট্রাভেল হিষ্ট্রি নাই অথবা থাকলেও সেটা মোটেও পজিটিভ নয়। অথবা নিজদেশে তার কোন উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান নেই।

৩.      আবেদনকারি আসলেই কি একজন জেনুয়ুন ষ্টুডেন্ট? নাকি কানাডা এসে তাইরে নাইরে করে পড়াশুনা না করে থেকে যাবেন যতক্ষন পর্যন্ত তাকে ডিপোর্ট করা না হয় অথবা ডিটেনশন সেন্টারের ভাত না খাওয়ানো হয়?

এই সব কারনগুলি ভিসা অফিসার বিবেচনা করেন ব্যালেন্স অব প্রবাবিলিটি দিয়ে। তাকে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নাই। মোটামোটি ৫০% এর বেশী সন্দেহ হলেই উনি আবেদন রিজেক্ট করতে পারেন।

ভিসা অফিসার তো ফেরেশতা নন, তারও ভুল হতে পারে এবং প্রায়ই তা হয়। ভিসা রিজেক্ট হলে আপনি অ্যাপিল করতে পারবেন না। তবে রিভিউ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। অথবা নব উদ্যোগে এবং অসিম ধৈর্র্য্য নিয়ে আবারও চেষ্টা করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.