কামালা হ্যারিস উপাখ্যান || ইশতিয়াক রুপু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টো ২০২০ ০৮:১০

কামালা হ্যারিস উপাখ্যান || ইশতিয়াক রুপু

কামালা হ্যারিস বর্তমান সময়ে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের বিতর্ক অনুষ্ঠানে আমেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোয়নলাভকারী ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিসাবে যে যুগান্তরকারী ভুমিকা রেখেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। ৭ অক্টোবরের সে ঐতিহাসিক বিতর্ক অনুষ্ঠানে কামালার উপস্থিতির প্রতিটি মূহুর্ত ছিলো হৃদয়ে ধারন করবার। ৫৬ বছর বয়সী কামালার মা সিয়ামালা গোপালন। যিনি ছিলেন ইন্ডিয়ান আমেরিকান বায়ো মেডিকেল বিজ্ঞানী। ১৯৩৮ সালে ভারতের চেন্নাই শহরে জন্ম নেয়া বত্নগর্ভা সিয়ামালা গোপালন নিজে ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ রাজ্যের স্বনামধন্য সিভিল কর্মকর্তা পি ভি গোপালনের সন্তান। মেধাবী সিয়ামালা ভারতীয় রীতি অনুযায়ী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চায় সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন যখন গ্রাহস্থ্য বিজ্ঞানে স্নাত্মক ডিগ্রী নেন দিল্লীর আরউইন কলেজে থেকে। কামালা হ্যারিসের মা বিস্ময়কর ভাবে মাত্র ১৯ বছরে ১৯৫৭ সালে বেকারলীর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে করা গ্রান্ট আবেদনের সম্মতি পেয়ে চলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া।

পর্যায়ক্রমে ১৯৬৪ সালে পুষ্টি এবং অন্ত স্রাবী বিষয়ে পি এইচ ডি প্রাপ্ত হন। তেমনি নানা গুনে গুনান্বিতা মহান এবং মেধাবী নারীর দুই কণ্যার জৈষ্ঠ কন্যা হচ্ছেন কামালা হ্যারিস। জ্যামাইকা থেকে পড়াশুনার জন্য আগত ডোনাল্ড জে হ্যারিস স্নাতক ডিগ্রী নেন লন্ডন থেকে। পরে মাস্টার্স কোর্স শেষ করেন বেকার্লীর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অভিভাবক দুজনই ছিলেন উদার মনের মানবিক হৃদয়ের অধিকারী। মজার কথা হলো মা সিয়ামালা গোপানল ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতি ভালবাসার ছাপ নিজের বড় কণ্যা কামালা হ্যারিসের মধ্যে দেখতে চেয়ে ছিলেন তা হয়তো কন্যা দুজন কে হিন্দু পুরানে জ্ঞান নিতে স্থানীয় মন্দিরে নিজেই নিয়ে যেতেন। যেখান মন্দিরের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পর্বে যোগ দিতেন নিয়মিত। মেধাবী মা ও বাবার দেখানো আদর্শিক পথ ধরে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে পদপ্রার্থী কামালা হ্যারিস বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে সেবা দিয়ে এসেছেন নিরলস ভাবে। ১৯৮৬ সনে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সনদ নেন সফলতার সঙ্গে। ৩৪ বছর পূর্বে কলেজ গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে কামালা গলায় পড়ে ছিলেন একেকটি মুক্তা দিয়ে গাঁথা মালা।

এর পরের ইতিহাস তো আরো সম্মৃদ্ধ। সে ধারা ধরেই ৭ই অক্টোবর ২০২০ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক পেন্সের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিতর্কে দেখা গেলে উজ্জল একজন মেধাবী অভিবাসী আমেরিকান ও ভারতীয় অরিজিন নাগরিক ডেমোক্রেট দলের ভাইস প্রেসিডন্ট পদ প্রার্থী কামালা হ্যারিসের গলায় শোভা পাচ্ছে তাহিতি ব্রান্ডের একক মুক্তাদানার মালা। কানে একক মুক্তা দিয়ে তৈরী কানের উজ্জল দুল। যুগ যুগ ধরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশনা করে আসা আফ্রিকান আমেরিকান তথা কৃষ্ণাজ্ঞ তরুনীদের শিক্ষা গ্রহনে মানসিক ও মানবিক সহায়তা দানের উদ্দেশ্যে ১৯০৮ সনে সৃষ্ট হয় ভগ্নি সংগঠন দি আলফা কাপা আলফা সরর্তি। প্রাচীন গ্রীক শব্দাক্ষরকে সামনে রেখে সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতা কলেজ স্নাত্মক কিছু আফ্রিকান তরুণী। শুরুতে সংগঠনের সদস্যা সংখ্যা ছিলো মাত্র বিশজন। যাদের ডাকা হতো ‘বিশ মুক্তা’। যা আদিকাল থেকে ছিলো মুল্যবান রত্ন।

সংস্থার বর্তমান সভাপতি ও মেধাবী নেত্রী টেনেসী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতা গ্নেন্ডা গ্রোবারের মতে, মুক্তা প্রজ্ঞা ও পরিমার্জনার প্রতিক। আলফা কাপা আলফা সংগঠনের মুল উদ্দেশ্য আমরা যুব তরুণীদের নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা প্রাপ্ত হন পরিমিত প্রজ্ঞা আর পরিমার্জনা করবার জ্ঞানের চর্চা করে। গ্লোবার আরো বলেন, একজন মহিলার পরনে উজ্জল রঙের মুক্তার তৈরী অলঙ্কার কখনো নারী জাতির সংহতি ও উৎসাহ দানের প্রতিক হয়ে কাজ করে। যা সংগঠনে বর্তমান ও
পুরাতন সকল সম্মানিত সদস্যাগণ দৃঢ ভাবে বিশ্বাষ করেন। আর নারীর জীবনে নিজের শক্তি ও দৃঢ়তার উপর শক্ত হয়ে দাড়িয়ে থাকা আজকের দুনিয়ায় খুবই জরুরী। মুক্তার মত দামী প্রাকৃতিক রত্ন নিঃসন্দেহে অনার্থক কিম্বা শুধু মাত্র স্টাইল হতে পারে জেনেও দুনিয়ার অন্তত পক্ষে বিশজন জন ফার্স্ট লেডী যেমন হিলারী ক্লিনটন, মার্থা ওয়াশিংটন, জ্যাকি কেনেডি এবং মিশেল ওবামা পরিধান করে জানিয়ে দিয়েছেন এই রত্ন সাধারন নয়। এখানে মিশে আছে ঐতিহ্য আর মার্জিত স্বরূপের বাঁধাহীন প্রকাশ।

সেই ক্ষেত্রে আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনীত জো বাইডেন-কামালা হ্যারিস জুটির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হলো আফ্রো আমেরিকান এমনকি ভারতীয় অরিজিনিটির প্রতিক কামালা হ্যারিসের গলায় ঝুলানো তাহিতি ব্রান্ডের উজ্জল মুক্তার তৈরী নেকলেস আর জোড়া কানের দুলের রাজনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চয় জোরালো এবং অর্থবহ।

লেখক: ইশতিয়াক রুপু (কবি, গীতিকার ও কলামিস্ট)

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ