কালভার্ট সেতুটি এক বছরে তিনবার ফাঁটল

প্রকাশিত:বুধবার, ২৫ নভে ২০২০ ১০:১১

কালভার্ট সেতুটি এক বছরে তিনবার ফাঁটল

মংবোওয়াংচিং মারমা থানচি (বান্দরবান) :
বান্দরবানে থানচিতে জনগুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট সেতুটি গত এক বছরের ৩বার ফাঁটল ধরায় প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিন্ডিকেট করার ঠিকাদার সংস্থা যোগসাজসে দুর্নিতি অনিয়ম¬¬ চরম পর্যায়ে পৌছেছে । সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন সাফল্য অর্জনকে সংটকে তৈরী করছে বলে এলাকাবাসী অভিমত ।
উপজেলা সদর হতে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তা উপর কয়েকটি কালভার্ট সেতুতে নির্মানের সময় স্থানীয় বালির পাথর ব্যবহারের কারনে গত এক বছরে ৩বার বিশাল গর্ত ও ফাঁটল ধরেছে । এ রাস্তায় এবং কালভার্ট সেতু দিয়ে জিনিংঅংপাড়া,শাহজাহান পাড়া, তংক্ষ্যং পাড়া, হাবরু হেডম্যান পাড়া, ছাংদাক পাড়াসহ অর্ধশতাধিক পাড়াবাসী যাতায়াত করেন। কালভার্ট সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়াই দৈনিক ৫ শতাধিক জনসাধারন ও জুমিয়াদের জুম ও ফলজ্য বনজ্য বাগানের উদ্পাদিত ফসল পরিবহনের সুযোগ না থাকায় জুম ও ফলজ্য বনজ্য বাগানে উৎপাদিত ফসল আম, কাজুবাদাম, মার্ফা, আদা, হলুদ, কলা ইত্যাদি বাজারজাত করতে না পাড়ায় ঐ সব উৎপাদিত ফসল গুলি পঁচন ধরেছে । অপরদিকে উপজেলা সদর হতে অভ্যন্তরীন যোগাযোগে জনদর্ভোগে পৌহাইতে হয়েছে ।
২০১৯-২০ অর্থসালে টিআর,কাবিখা, কাবিটা, ছাড়াও বান্দরবানে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অনুকুলে জনসাধারনে অতীব প্রয়োজনীয় সেতু কালভার্ট রাস্তা ঘাট স্কুল কলেজ সংস্কার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্ধ দিলেও বরাদ্ধকৃত হতে এসব গর্ত ও ফাঁটল ধরা কালভার্ট সেতু মেরামত কিংবা সংস্কারের উপ-বরাদ্ধ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে যেখানে জনসাধারনে পাঁয়ের হাঁটার ও যাতায়াত করছেনা । জনসাধারনে অজনগুরুত্বপূর্ণ সেখানে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে । থানচি সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার অভ্যন্তরীণ রাস্তায়টি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হলে ও সেখানে কোন প্রকার আমলে নেয়া হয়নি সংশ্লিষ্ঠরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ভারী যানবহন চলাচল কারনে কালভার্ট সেতুটি ভেঙ্গেঁ পড়েছে । কিন্তু সংস্কারের জন্য অনেকবার বলা হলেও সংশ্লিষ্ঠরা আমাদের কথা কেউ কর্নপাঠ করেন না । সদর ইউপি মহিলা সদস্যা ডলিচিং মারমা বলেন,গত ২০১৯ সালে কয়েকটি সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম ফাঁটল ধরা সময়ের আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে সংস্কার করা হয়েছিল । আবার একই স্থানে গর্ত বা ফাঁটল পূনরায় ধরেছে সংস্কারের জরুরী মনে করেন। পথচারী চামলো ¤্রাে বলেন, আমাদের কৃষি খাতে উৎপাদিত ফসল এই সেতুটি কারনে পঁচন ধরেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এমন নাজুক অবস্থা রেখেছে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।
থানচি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও)এর সূত্রে জানা যায়, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে অর্থায়নের উপজেলা সদর হতে ছাংদাক পাড়া যাওয়ার রাস্তার উপর গত কয়েক বছর মধ্যে ৩টি কালভার্ট সেতু নির্মান করা হয়েছে । প্রতিটিতে ২৭ লক্ষ টাকা করে মোট ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে । নির্মানের অক্রুটিপূর্ণভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ অধিদপ্তরে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যে কালভার্ট সেতুটি ফাঁটল ধরেছে সেটি জনসংহতি সমিটি নেতা ও যুব সমিতি সভাপতি নুমংপ্রু মারমা(টাইগার) ঠিকাদারকে বাস্তবায়নে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানান গেচ্ছে ঔ ঠিকাদার একাধারে ২০১৯-২০ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নের প্রায় কোটি টাকা উপরে ছাংদাক পাড়া বৌদ্ধ বিহার ভবন নির্মান, বিদ্যামনি পাড়া গীর্জা ভবন নির্মান , থানচি রেষ্ট হাউজ হতে বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মানসহ বহু নির্মান কাজের স্থানীয় বালির পাথর, পুরোনো রড,সিমেন্ট ব্যবহার করেই যাচ্ছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকা সুশিল সমাজের কয়েকজন জানান, পরিকল্পিতভাবে ঔ সিন্ডিকেট ঠিকাদার সংস্থা বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন সাফল্য অর্জনকে সংকটে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে অভিমত ব্যত্ত করেন । যোগাযোগ করা হলে পিআইও মোঃ তারিকুল ইসলাম, মুঠোফোনে ০১৭২৪৮৯৬২৩৪ থেকে বলেন, ঔ কালভার্ট সেতুটিতে কয়েকবার ফাঁটল ধরা সম্বন্দে আমি অবগত নয়,সাংবাদিক সাহেব অবগত করছেন আমি পরিদর্শণ করবো ।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •