কুলাউড়াকে জে’লা ঘোষণার দাবি জো’রালো হচ্ছে

প্রকাশিত:রবিবার, ২৪ নভে ২০১৯ ১০:১১

কুলাউড়াকে জে’লা ঘোষণার দাবি জো’রালো হচ্ছে

কুলাউড়া- কুলাউড়া উপজে’লাকে দেশের ৬৫ তম পর্যটন জে’লা ঘোষণার দাবি জো’রালো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এ জে’লায় ৪ উপজে’লা, ৩ পৌরসভা, ৩৮টি ইউনিয়ন, ১০টি ছোট বড় নদ-নদী, অর্ধশতাধিক চা বাগানসহ উচু উচু পাহাড়-পর্বত রয়েছে। কুলাউড়া উপজে’লার ১৩ টি ইউনিয়নকে দুটি উপজে’লা করা যেতে পারে। এতে ৪টির স্থলে ৫টি উপজে’লা নিয়ে হতে পারে প্রস্তাবিত জে’লা। আবার কমলগঞ্জকে বাদ দিয়েও ৪টি উপজে’লা নিয়ে পর্যটন জে’লা হওয়া সম্ভব।

 

প্রস্তাবিত এই জে’লার জনসংখ্যা হবে প্রায় ১১ লাখ। আর জে’লার আয়তন হবে ১৬৪৩ দশমিক ৯৭ বর্গকিলোমিটার। তিনটি সংসদীয় আসন (বড়লেখা -জুড়ী, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ) হবে নতুন এই জে’লায়। প্রস্তাবিত জে’লার নাম হতে পারে কুলাউড়া, হাকালুকি বা মনু অথবা সর্বজন গ্রহণযোগ্য যেকোন একটি। আর নতুন এই জে’লা হলে পর্যট’কদের যেমন আকর্ষণ বাড়বে ঠিক তেমনি এ খাত থেকে ব্যাপক আয়ও হবে। পাশাপশি অবহেলিত পূর্বা লের ব্যাপক উন্নয়ন আর পরিবর্তন হবে ।

 

পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে গত ২৫ অক্টোবর মৌলভীবাজার জে’লায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মক’র্তাগন এবং জে’লার বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সল্পতার কারণে বিজ্ঞ নাগরিকদের অনেকেই এ বিষয়ে তাদের মুল্যবান মতামত ব্যক্ত করতে পারেননি। কুলাউড়া উপজে’লার হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মতামত তুলে ধরলে মানুষের ব্যাপক সম’র্থন পান। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত আকারে পাঠাবেন বলেও জানান।

 

 

চেয়ারম্যান আরও জানান, পর্যট’কদের জন্য যেমন আকর্ষণীয় স্পষ্ট দরকার হয়, ঠিক তেমনি প্রয়োজন হয় সহ’জ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার ও আবাসিক ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আর গাইডলাইন। কুলাউড়াকে যদি পর্যটন জে’লা করা হয়, তাহলে পর্যট’করা এই জে’লায় এসে যেসব প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে সেই তালিকায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, মাধবকুন্ড ও হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শমসের নগর বিমান ঘাটি, অর্ধশতাধিক চাবাগান, খাসিয়া পল্লী, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, চাতলাপুর স্থলবন্দর,

 

মুড়াই ছড়া ইকোপার্ক, ছোট-বড় ১০ টি নদী, কালাপাহাড়সহ উচু উচু পাহাড়-পর্বত কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা ও কমলগঞ্জে অবস্থিত। তাছাড়া খাসিয়া, গারো, মুনিপুরি, শাওতাল, চা শ্রমিক হিন্দু মু’সলমানসহ বিভিন্ন ধ’র্মের মানুষের বসবাস। তাই কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ি ও বড়লেখা উপজে’লা নিয়ে আরো একটি পৃথক জে’লা তথা দেশের ৬৫ তম জে’লা করা হলে পর্যটন খাতের অভাবনীয় সাফল্য আসবে।

 

এখানকার মানুষের মতে, যোগাযোগ ও মধ্যবর্তী অবস্থান বিবেচনা করে প্রস্তাবিত জে’লার হেডকোয়ার্টার হতে পারে কুলাউড়ায়। এতে পর্যট’কদের যাতায়াত ব্যয় কমে যাবে অর্ধেক। দেশের যেকোন এলাকা থেকে হেলিকপ্টার, বিমান, ট্রেনে অথবা সড়ক পথে এখানে আসতে পারবেন পর্যট’কেরা। এখান থেকে ১ ঘন্টায় জে’লার চারিদিকে যাতায়াত সম্ভব। জে’লা সদর হলে এই এলাকার নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে পর্যট’কদের আবাসিক সমস্যারও সমাধান হবে।

 

প্রস্তাবিত জে’লার আয়তন আর জনসংখ্যা দেশের অনেক জে’লার চেয়ে বেশি হবে। যেমন দেশের উত্তরের জে’লা প গড়ের আয়তন ১৪০৪ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার, রাজবাড়ীর আয়তন ১০৯২ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার, দক্ষিণ পশ্চিমের মাগুরার আয়তন ১০৪৯ বর্গকিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গার ১১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আর মধ্যা লের নারায়ণগঞ্জ জে’লার আয়তন মাত্র ৬৮৩ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। এই সবকটির আয়তন প্রস্তাবিত পর্যটন জে’লার চেয়ে অনেক কম। এমনি অনেক জে’লায় সংসদীয় আসন মাত্র ২ টি করে। আর পার্বত্য অ লে তো একেক জে’লায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •