কুলাউড়ার ইউপি চেয়ারম্যান শাহজানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৯

কুলাউড়ার ইউপি চেয়ারম্যান শাহজানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কুলাউরা প্রতিনিধি ::

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজানের বিরুদ্ধে স্থানীয় রফিনগর মাসুক মিয়া ইবতেদায়ী মাদরাসার গাছ কাটার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

 

গাছ কাটার অভিযোগ এনে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট ৫ নং আমলী আদালতে সি-আর ২০৭/১৯ নং মামলা দায়ের করেন মাদরাসার সুপার বদর উদ্দিন আহমদ তালুকদার।

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, রফিনগর মাসুক মিয়া ইবতেদায়ি মাদরাসা বরমচাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। মাদরাসার সুপার মাদরাসার উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য মাদরাসার চারপাশের সীমানায় আকাশি, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৮০টি গাছ লাগান। প্রতিটি গাছ ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতিটি গাছের মূল্য ১০০০ হাজার টাকা। গত বছরের ৪ নভেম্বর সকালে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজানসহ তার ভাড়াটে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে মাদরাসায় লাগানো গাছগুলো দা, কুড়াল দিয়ে কেটে দেন। যার বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা।

 

চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় সন্ত্রাসীরা গাছ কর্তন করতে আসলে মাদরাসার সুপার এতে বাঁধা প্রদান করলে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে সুপারকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। পরে মাদরাসা সুপার বিষয়টি স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে প্রথমে ৬ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন। যার অনুলিপি তৎকালীন এমপি ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়।

 

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাব খাঁটিয়ে রাস্তার কাজের অজুহাত দেখিয়ে মাদরাসার পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের ৮০টি গাছ কেটে ঠেলাগাড়িতে তুলে ইউনিয়ন অফিসে নিয়ে যান। চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেক সময় এলাকার লোকেরা তটস্ত হয়ে থাকেন। অনেক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস করেন না।

 

এ ব্যাপারে বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কালের কণ্ঠকে জানান, আমি সবকিছু বুঝতেছি না। একটু অসুবিধার মধ্যে আছি। পরে ফোন দেবার অনুরোধ জানিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

 

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কালের কণ্ঠকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এসেছে।

সরেজমিনে বরমচাল গেলে এলকার অনেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করেন মহলাল জামে মসজিদের নামে উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এতে মুসল্লীরা কিপ্ত হয়ে তাকে মসজিদ কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।  মসজিদটি বর্তমানে পূনঃনির্মানাদিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •