কুষ্টিয়ায় অনাহারী সাধুদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

প্রকাশিত: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২, ২০২০

কুষ্টিয়ায় অনাহারী সাধুদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

 

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় অনাহারী সাধুদের খোঁজ নিচ্ছে না কেউ। এ ব্যাপারে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
‘আপন ঘরের খবর নে না, অনাসে দেখতে পাবি কোনখানে সেই বারামখানা’। বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইজি তার জীবদ্দশায় মানবধর্মের কথা বলেছেন, নিজে পালন করেছেন এবং তার শিষ্যদের একই মত ও পথ দেখিয়েছেন। ফকির লালন শাহ সেসময়ের মহামারি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পালক মায়ের সেবায় বেঁচে ওঠেন তিনি।
কিন্তু তার আগে লালন সাঁইজিকে মৃত ভেবে তাকে না ছুঁইয়ে কলার ভেলায় ভাসানো হয়েছিল। সেই দৃশ্যই যেন আবার ফিরে এল বিশ্ব জুড়ে। রহস্যময় এক মহামারি করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব আক্রান্ত। আতঙ্কিত মানুষ। লালনের সময় তাকে ভেলায় ভাসানো হলেও এখন করোনায় মৃতদের কাছেও আসে না কেউ, এমনকি স্বজনরাও। জানাজা পড়ানোর ইমাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীকে রাখা হচ্ছে বনবাসে তালপাতার কুটিরে।
সরকার অঘোষিত লকডাউন ঘোষণা করলে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে সামাজিক আর শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার চেষ্টা করছে। প্রায় দুই মাস হতে চলা এ লকডাউনে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কর্মহীন, দিনমজুর, দরিদ্র, অসচ্ছল ও দুস্থদের মাঝে কমবেশি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ত্রাণ সহায়তার আওতায় নেই শুভ্র বসনে ও ভুষণে থাকা মানবধর্মে বিশ্বাসী লালন অনুসারী মানুষগুলো। তাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। তারাও তো এই সমাজের অংশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঘরবন্দি ফকির-সাধু তাদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন দীনহীনভাবে। তারা সব সময়ই সংসারের মায়াজালের বাইরে থাকেন। স্বেচ্ছায় কেউ অন্নদান করলে তা গ্রহণ করেন, কিন্তু কখনো হাত বাড়িয়ে চেয়ে নেন না। গুরুভক্তে বিশ্বাসী প্রকৃতিপ্রেমী নির্লোভ মানুষগুলো কখনো অন্যের অমঙ্গল কামনা করেন না। সহজ-সরল নির্লোভ সাদা মনের মানুষগুলো না খেয়ে থাকলেও কখনো হীনদৃষ্টি দিয়ে অন্যের অনিষ্ট চান না। করোনাকালের দুর্বিপাকে এই মানুষদের খবর নেয়নি প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা।
সাধুরা সংসারত্যাগী নির্লোভ মানুষ। তারা ভক্তদের সেবা নিয়ে অথবা সাধুসঙ্গ করে মূলত দিনাতিপাত করে থাকেন। ‘করোনা’ করুণা পেতে বর্তমানে সবাই নিজ বাড়িতে বন্দি। বাদ নেই সাধু, গুরু ও লালন ভক্তরা। আর ঘরবন্দিদের সরকারি বা বেসরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও এর আওতায় আসেনি নিজ নিজ ধামে বন্দি সাধুরা। নিরামিষভোজী এসব মানুষ খেয়ে বা না-খেয়ে থাকলেও কাউকে বলবে না অন্ন দিতে।
সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিৎ এসব ধামবন্দি সাধুদের খাদ্য সহায়তা নিয়ে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •