কেমন বাংলাদেশ চাই ?

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৬

কেমন বাংলাদেশ চাই ?
মাহফুজ আদনান :::
প্রথা বিরোধী লেখক ও গবেষক ডঃ হুমায়ুর আজাদ’র একটি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল’ যেখানে এই অনার্য শব্দ যোদ্ধা নির্ভীক শেরপা আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের অবক্ষয়-নষ্টামীর চিত্র করুণ অথচ নির্মোহ দৃষ্টিতে চিত্রায়ন করেছেন। দীর্ঘশ্বাসের ভঙ্গিমায় প্রশ্ন তুলেছেন এই যে বাংলাদেশ তা কেমন চেয়েছিলাম কেমন হয়েছে আর কেমন হবে। কিন্তু বেদনাই চেতনার শেষ চিত্র নয়। এখনও সামনে যথেষ্ট সময় রয়েছে পাল্টে যাবার, পাল্টে দিবার এজন্য একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে না। আমাদের নিজস্ব সম্পদই যথেষ্ট। এখন প্রশ্ন গ্যাস খনির এই দেশে আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে না কেন ? এর প্রধান কারণ আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, বুদ্ধিজীবিদের লেজুড় বৃত্তি, রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষের নির্লিপ্ততা। কেন এই অবস্থা ? নাগরিক কখন রাষ্ট্র সম্মন্ধে উদাসীন হয়, যখর রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একপেশে, আমলাতান্ত্রীক জটিলতায় সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া রাষ্ট্র পেছন দিক থেকে এগিয়ে চলে। নাগরিক উদাসীন হলে রাষ্ট্র পশ্চাৎমুখী। সবকিছু একটি চক্রে আবদ্ধ।
রাষ্ট্রকে একটি বৃত্তের সাথে তুলনা করলে-পরিস্কার হবে। যেমন : এখন উত্তরনের উপায় ভেবে দেখতে হবে। এজন্য প্রশাসন দলীয় প্রভাব মুক্ত এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দিতে হবে। প্রচার-প্রসার যন্ত্রের সাহায্যে জনগণের উদাসীনতা ও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের শতভাগ অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড বনায়ন, পরিবেশ দূষণরোধ ইত্যাদিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। দূরশিক্ষণ ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবছরে অন্তত একমাস কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় সার্টিফিকেট জসা দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান ও তদারকীর ব্যবস্থা নিলে বেকারত্ব  হ্রাস পাবে এবং বৃহৎ অংশের রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। পাড়ায়-পাড়ায় পাঠাগার স্থাপন, বার্ষিক পথনাট্য উৎসব সহ চিত্র কলা, গণিত বিজ্ঞান মেলায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও সারা দেশ হতে বিভিন্ন অঙ্গনের মেধাবী মুখগুলোকে আলো নিচে নিয়ে আসার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশের দায়িত্ব সুযোগ দিতে হবে। এক দেশ এক শিক্ষানীতি, বিজ্ঞান চর্চা, ধর্মীয় গোঁড়ামীসহ অপবিজ্ঞান কুসংস্কার দূর করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তাই আলেম সমাজকে দেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত করতে হবে। কাজের কোন বিকল্প নেই অনেক সময় অহেতুক তর্ক বাড়িয়ে সৃষ্টি হয় গোলযোগ। বাংলাদেশ কিন্তু অপার সম্ভাবনার দেশ নয় কারণ যতই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকুক নিজস্ব প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাব এবং বিশ্বায়নের কারণে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে দাড়িয়েছে। তাই ভুলে যেতে হবে তেল-গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদের কথা। মনে রাখতে হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই দেশে আমাদের চরিত্র, মেধা আর শ্রম আমাদের সম্পদ। এই কারণেই নেতিবাচক চিন্তা মাথায় রেখেই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। দেখতে চাই বাংলাদেশ সমতার ভূমি অর জনগণ অবাধ মুক্ত পাখি।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •