কে হচ্ছেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক?

প্রকাশিত:বুধবার, ০৪ ডিসে ২০১৯ ১২:১২

কে হচ্ছেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক?

তারা তিনজনই আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা। দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। সিনিয়রদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে রয়েছে পরিচিতি। রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্কও। তারা তিনজনই এবার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন।

 

তারা হলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন খান।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে এই তিনজনকে ঘিরেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে যে ক’জন নেতা লবিং-তদবির করছেন তাদের মধ্যে এই তিনজনই এগিয়ে রয়েছেন। তাদেরকে ঘিরে অনুসারীরা মেতে উঠেছেন প্রচারণায়। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ ধারার রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তারা তিনজন।

 

নাসির উদ্দিন জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি ছাত্রলীগ শাসন করেন। এ সুবাদে ছাত্রলীগে তার একটি বলয় রয়েছে। তৃণমুল থেকে উঠে আসায় কেন্দ্র পর্যন্ত ভাল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে নাসিরের।

 

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- সিলেটে ছাত্রলীগের রাজনীতির একটি নতুন ধারার সূচনা হয়েছিলো নাসিরের হাত ধরে। সেই ধারা এখনো বিরাজমান। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও ইতিমধ্যে তিনি ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। তার হাত ধরে সিলেট আওয়ামী লীগ পেতে পারে নতুন গতি। নাসির উদ্দিন খান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হওয়ার কারনে এবার সিলেট জেলার যে উপজেলাগুলোতে সম্মেলন হচ্ছে সবখানেই রয়েছে তার কর্তৃত্ব। সিনিয়র নেতারাও নাসির থাকার কারণে ছিলেন নির্ভার। নিজ এলাকা বিয়ানীবাজারে এবার আওয়ামী লীগের কমিটি ভোটের মাধ্যমে গঠন করা হয়। আর এতে ভূমিকা রাখেন নাসির। এর বাইরে কয়েকটি উপজেলার কমিটি গঠনে তিনি ভূমিকা রাখেন।

 

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে উঠেন। এবার নাসির জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হতে লবিং চালাচ্ছেন। দলীয় সভানেত্রীর সুনজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। জেলা আওয়ামী লীগে নাসিরের রাজনৈতিক সিনিয়ররাও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য লবিং চালাচ্ছেন।

 

অপরদিকে ৮০’র দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন এডভোকেট নিজাম উদ্দিন। ১৯৮০-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ৮৩-৮৬ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারীর পদে হাল ধরেন। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি শেষে যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগে। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা ও চাঞ্চল্যতা দেখে তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ শাসন করে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। বর্তমান কমিটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে। এই তৃণমূল থেকে উঠে এসে নতুন করে আওয়ামী লীগের হাল ধরতে চান তিনি হতে চান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

 

এছাড়াও সহ সভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদও এই পদে আলোচনায় এসেছেন। তিনিও ছাত্রলীগ রাজনীতি করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে শাসন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সদস্য হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে যোগদান করে সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে সৈয়দ আমীর আলী হলের এজিএস নির্বাচিত হন। এছাড়াও দীর্ঘদিন বিশ্বনাথ থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এরপর যোগ দেন জেলা আওয়ামী লীগে। প্রথমে সদস্য, পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাসন করা এই নেতা এখন চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরতে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •