কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হতে কারো বেশি সময় লাগে কেন

প্রকাশিত: ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২০

কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হতে কারো বেশি সময় লাগে কেন

ডেস্ক রিপোর্ট, ইউএসঃ  এখন পর্যন্ত রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার যে তথ্য চিকিৎসকদের কাছে রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে অনেক গবেষক বলেছেন, বেশির ভাগ কোভিড-১৯ রোগী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেরে উঠেন। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে এই সময় আট সপ্তাহ বা দুই মাস পর্যন্তও হতে পারে। যাদের সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লাগছে তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবারও নতুন করে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়।

ব্রিস্টল শহরের ডেভিড হ্যারিস (৪২) এক জন স্থপতি। তার দেহে প্রথম কোভিড-১৯-এর লক্ষণ দেখা দিয়েছিল সাত সপ্তাহ আগে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকেই তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে শুরু করেন। স্ত্রী ও শিশু কন্যার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। সপ্তাহ খানেক পরই তিনি ভালো বোধ করতে লাগলেন। কিন্তু আরো দুই সপ্তাহ পর তাকে বিস্মিত করে করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলো আবার দেখা দিল এবং এবারের উপসর্গগুলো ছিল গুরুতর। সেই একই রকম জ্বর, কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হলো শ্বাসকষ্ট। তিনি নিশ্চিত হলেন যে, এটা করোনা ভাইরাসেরই লক্ষণ। ডেভিড হ্যারিসের কথায়, দুই সপ্তাহ পর আমার মনে হলো আমি সেরে উঠছি, কিন্তু ভীষণ ক্লান্ত বোধ করছিলাম। আর সপ্তম সপ্তাহে আমার তৃতীয় বারের মতো সংক্রমণ দেখা দিল।

ডেভিড হ্যারিসের মতোই টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে ভুগেছেন লন্ডনের ফেলিসিটি (৪৯)। তারা কেউই কোভিড-১৯-এর টেস্ট করান নি—কিন্তু দুই জনকেই ডাক্তাররা বলেছেন যে সম্ভবত তারা করোনা ভাইরাসেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের ডাক্তাররা আশ্বস্ত করেছেন যে তারা এখন আর সংক্রমিত নন। কিন্তু দুই জনেই এই দীর্ঘ সময়টা পার করেছেন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।

 

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনো অজানা। কেন কিছু লোকের মধ্যে মৃদু উপসর্গ হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে তারা সেরে ওঠেন, অন্যদিকে কেউ কেউ হয়তো স্বাস্থ্যবান লোক হয়েও সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভুগতে হয়। এখনো এর কোনো স্পষ্ট জবাব নেই। কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত অসুস্থতা মাত্র কয়েক মাসের পুরোনো—কিন্তু এখনো এটি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে চলেছে।

লন্ডনের উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ সংক্রান্ত হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. ফিলিপ গোথার্ড বলছেন, বেশির ভাগ রোগীই দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে সেরে ওঠেন, কিন্তু কিছু লোকের ক্ষেত্রে কাশিটা বেশ কিছু দিন থাকতে পারে। তাছাড়া এমন কিছু রোগী আমরা পাচ্ছি যাদের গুরুতর ক্লান্তি এবং অবসন্নতা দেখা দেয়—আর সেটা তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। জ্বর সেরে যাবার অর্থ তার সংক্রমণ আর নেই। তার পরও কাশি থাকলে তাই ভয়ের কিছু নেই, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক টিম স্পেক্টার বলছেন, কোভিডের উপসর্গগুলো নিয়ে যে জরিপ হচ্ছে তাতে দেখা যায়—রোগীদের সেরে উঠতে গড়ে ১২ দিন লাগে। কিন্তু আমরা একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী দেখতে পাচ্ছি যাদের উপসর্গগুলো ৩০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে রয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আরো উপাত্ত সংগ্রহ করার পরই আমরা চিহ্নিত করতে পারব কেন কেউ কেউ সেরে উঠতে দীর্ঘদিন সময় নেন। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলছেন, যাদের সেরে উঠতে দীর্ঘদিন লাগে, তাদের প্রচুর বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ এবং প্রচুর পানি পান করা দরকার।

সেরে উঠতে কত দিন লাগে?

রোগীকে যদি ইনটেনসিভ বা ক্রিটিকাল কেয়ারে থাকতে হয় তাহলে তার সেরে উঠতেও বেশি সময় লাগবে। বিশেষজ্ঞদের মতে কোনো রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ক্রিটিকাল কেয়ারে থাকতে হলে, তার পুরোপুরি সুস্থ হতে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত লাগতে পারে। কারণ, হাসপাতালের বিছানায় দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে মাংসপেশির ভর কমে যায়, রোগী অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন এবং হারানো মাংসপেশি আবারও তৈরি হতে অনেকটা সময় লাগে। কোনো কোনো রোগীর হাঁটার ক্ষমতা ফিরে পেতে ফিজিওথেরাপি দরকার হয়। তাছাড়া মানসিক সমস্যার সম্ভাবনাও থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্বাসতন্ত্রের রোগের ফলে ফুসফুসেরও ক্ষতি হতে পারে।

তবে সাধারণভাবে বলা যায়, ধূমপান না করা, মদ্যপান কমানো, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রেণে রাখা—এগুলো মেনে চলতে পারলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে অল্পদিনেই সেরে ওঠা সম্ভব।—বিবিসি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •