Thu. Aug 22nd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

‘কোরবানি’ আত্মত্যাগের এক অনন্য ইবাদত

1 min read

কোরবানির আত্মত্যাগের পরীক্ষায় সফলকাম হয়েছিলেন মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম। আর তিনি ‘খলিলুল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রিয়বন্ধু উপাধি লাভ করেছিলেন।

 

মনের আত্মত্যাগের অপরনাম ‘কোরবানি’। আল্লাহ তায়ালার কাছে ‘কোরবানি’র মর্যাদা অনেক বেশি। তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাকে কোরবানি বা আত্মত্যাগের মাধ্যমেই পরীক্ষা করেন। যারা আত্মত্যাগের এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়; তারাই আল্লাহর বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা লাভ করে।

 

 

 

এ কোরবানির বিধান সব নবী-রাসূলদের শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। পবিত্র কোরআনে পাকে কোরবানির বিধানের প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

 

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ

 

‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও।’ (সূরা: হজ, আয়াত ৩৪)।

 

আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম কোরবানি। কুরবানি শব্দ থেকেই এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে যায়। আরবি ‘করব বা কুরবান’ (قرب বা قربان) শব্দ দুটি মুসলমানদের মাঝে বেশি ব্যবহৃত ভাষা ফার্সি ও উর্দুতে (قربانى) কোরবানিতে রূপান্তরিত হয়। এর অর্থ হলো- নিকটবর্তী, নৈকট্য বা সান্নিধ্য।

 

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে যাচাই-বাচাইয়ে ‘কোরবানি’কেই মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যেমনিভাবে তিনি হজরত আদম আলাইহিস সালামের সময় তার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের মাঝে কোরবানির বিধান দিয়েছিলেন। যা ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম কোরবানি। যেখানে আল্লাহ তায়ালা হাবিলের কোরবানিকে গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

 

 

 

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِن أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

 

لَئِن بَسَطتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَاْ بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لَأَقْتُلَكَ إِنِّي أَخَافُ اللّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ

 

‘হে রাসূল! আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হলো না।

 

সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কোরবানি কবুল করেন।

 

সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার দিকে হাত বাড়াবো না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (সূরা: মায়েদা, আয়াত ২৭-২৮)।

 

আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে তার একান্ত আপন করে নিতে কোরআনুল কারিমের অনেক স্থানে কোরবানির দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে মানুষকে কোরবানির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর তাহলো-

 

 

 

>نحر শব্দ প্রয়োগ করে আল্লাহ বলেন, فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামাজ এবং কোরবানি আদায় করুন। এ কারণে কোরবানির দিনকে ‘ইয়ামুন নহর’ (يوم النحر) বলা হয়।

 

> نسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنَّ صَلاَتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ ‘আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু; সবই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার জন্য।’ (সূরা: আনআম, আয়াত ১৬২)।

 

> منسك অর্থে। আল্লাহ বলেন, ‘ لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكاً ‘আমি প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কোরবানির বিধান রেখেছি।’ (সূরা: হজ, আয়াত ৩৪)।

 

> الاضحى অর্থে। হাদিসের ভাষায় কোরবানির ঈদকে (عيد الاضحى) ‘ঈদ-উল-আজহা’ বলা হয়।

 

সর্বোপরি কথা হলো-

 

মানুষের মনের সর্বোচ্চ ত্যাগই হলো কোরবানি। কেননা কোরবানির পশুর রক্ত, পশম, হাড় কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে পৌছে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষের মনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। যার দৃষ্টান্ত হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি ‘কোরবানি’র নির্দেশকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করেছিলেন বলেই তা বাস্তবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর আল্লাহ তায়ালা তাঁর কোরবানিকে কবুল করেছিলেন।

 

কোরআনুল কারিমে হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কোরবানির সে ঘটনাও মুসলিম উম্মাহর শিক্ষার জন্য সুস্পষ্ট ভাষায় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানিয়ে দিয়েছেন। যাতে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তার বিধান বাস্তবয়নে একনিষ্ঠ হয়।

 

পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেন,

 

رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ

 

فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ

 

فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْي

 

 

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA