ক্যান্সারের ঝুঁকিতে যারা

রোগ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ থাকলেও ক্যান্সার কার হবে সেটা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তারপরও বিশেষজ্ঞারা কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন।

 

কয়েকটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- বংশগত, শারীরিক কিংবা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

 

​যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

 

শরীরে কোষ জন্মায়, বয়ঃপ্রাপ্ত হয় এবং মারা যায়। যদি দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মারা না যায়, তাহলে তা জমাট বেঁধে থাকে। এই জমাট বাঁধা কোষ টিউমারে পরিণত হয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

​​যদি পুরুষ হন

 

লিঙ্গ নির্ধারণে আমাদের কারও কোনো হাত নেই।

 

লন্ডনের ‘লিডস মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটি’র ‘ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’র সঙ্কলিত প্রতিবেদনে ‘মেন’স হেল্থ ফোরাম অ্যান্ড ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনটিলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ জানায়, নারীদের তুলনায় ৪০ শতাংশ পুরুষ মারা যায় ক্যান্সারের কারণে; এবং ১৬ শতাংশের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

আর লিঙ্গ ভিত্তিক ক্যান্সার হওয়ার কথা যদি ধরা হয়, যেমন- পুরুষদের ‘প্রোস্টেট’ এবং নারীদের ‘ওভারিয়ান’, তাহলে নারীদের তুলনায় ৬০ শতাংশ পুরুষ ক্যান্সারে মারা যাওয়ার এবং ৭০ শতাংশ পুরুষের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

​উচ্চতা বেশি হলে

 

লম্বা দেখতে ভালো লাগে ঠিকই। তবে এতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। শুনতে আজব লাগলেও সুইডেনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের অতিরিক্ত প্রতি ১০ সে.মি উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১১ শতাংশ ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ।

 

সত্যি বলতে উচ্চতা বড় বিষয় নয়। বরং স্থূলতা, ধূমপান এবং খারাপ খাদ্যাভ্যাস বেশি প্রভাব রাখে।

 

​ত্বকের ধরণ: ত্বকের ধরণ ক্যান্সারের উপর প্রভাব রাখে। যদি গায়ের রং হালকা থেকে গাঢ়র মধ্যে ১ থেকে ১০ নির্ধারণ করা হয় তবে যাদের ত্বকের রংয়ের ধরন পাঁচ এবং ছয় তাদের চাইতে এক এবং দুই মানের ত্বকের অধিকারীদের ক্যান্সার হওয়া ঝুঁকি বেশি থাকে।

 

গায়ের রংয়ের তারতম্য নির্ধারিত হয় পিগমেন্ট বা ত্বকের রঞ্জক পদার্থের মাধ্যমে। বেশি ‘পিগমেন্টেশন’ মানে ত্বকের রং বেশি গাঢ় যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বেশি মাত্রায় রক্ষা করতে পারে। ফলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে।

 

​বয়স: ক্যান্সার সাধারণত বৃদ্ধাবস্থায় দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যা জমাট বেঁধে টিউমার হয় এবং তা থেকে বৃদ্ধ বয়সে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা  বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষ বহুসংখ্যায় বাড়তে থাকলে সেখানে থেকে ক্যান্সার হতে পারে। সত্তরোর্ধদের এই ঝুঁকি বেশি।

 

​বংশগত: পরিবারের কারও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে অন্যদেরও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। এবং ক্যান্সার হতে পারে এমন কাজ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে।

 

পরিবারের একই পক্ষের অর্থাৎ বাবা অথবা মায়ের দিকের নিকট আত্মিয়দের মধ্যে দুই বা তার বেশি জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে অন্যদেরও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.