ক্ষমতা’ হারালেন ট্রাম্প-জামাতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এত দিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে অতি গোপনীয় যেসব গোয়েন্দা রিপোর্ট তিনি পেতেন- এখন থেকে সেগুলো আর তিনি পাচ্ছেন না।

এমন খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন গণমাধ্যম।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিনিয়র এডভাইজার হিসেবে ট্রাম্পের প্রতিদিনের অতি গোপনীয় গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার ক্ষমতা ছিল জ্যারেড কুশনারের।

তার সেই ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে বলে খবর মার্কিন মিডিয়ার।

তার পূর্ব ইতিহাস বিষয়ে সব তথ্য জানার কাজ শেষ না হওয়ায় এ ধরনের গোপনীয় রিপোর্ট পাওয়ার যে সাময়িক অধিকার তাকে দেয়া হয়েছিল- তা বন্ধ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকে এটি নিশ্চিত করেছেন কুশনারের আইনজীবী অ্যাবে লওইল।

তবে শীর্ষ গোয়েন্দা রিপোর্ট না পেলেও কুশনারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো প্রভাব পরবে না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে হোয়াইট হাউজ আরো যে শৃঙ্খলা আরোপ করছে- এ সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ জন কেলি জানিয়েছিলেন যে, শীর্ষ নিরাপত্তা অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা আরো সংক্ষিপ্ত করা হবে।

রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ কুশনার উপদেষ্টার পদ পাওয়ার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা বা মেক্সিকোর সাথে সম্পর্ক রক্ষার মতো বিষয়গুলোতেও তার স্থায়ী নিরাপত্তা অনুমোদন না পাওয়া সমস্যার সৃষ্টি করছিল।

এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতায় রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই সমালোচিত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার।

 

মুসলিম বিশ্বের জন্য ট্রাম্প সেরা প্রেসিডেন্ট!

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ বলেছেন, নানা ত্রুটি সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের মোকাবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন সেরা প্রেসিডেন্ট।

বুশ বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত নিয়ম-শৃঙ্খলার জন্য কোনো পুরস্কার পাননি, নিঃসন্দেহে তিনি ঘৃণ্য ব্যক্তি, মেজাজি এবং অসম্ভব রকমের গোঁয়ার্তুমি রয়েছে তার মধ্যে। এসবই তার অব্যাহত টুইটার পোস্ট থেকে পরিষ্কার হয়েছে। কোনোভাবেই আমি ট্রাম্পকে ভালো প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর আসনে বসে বলদির্পতা দেখান, দেশের মানুষকে ভয়-ভীতি দেখান এবং মিথ্যা কথা বলেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও আমি এখনো মনে করি মুসলিম বিশ্বের জন্য তিনি হচ্ছেন সেরা প্রেসিডেন্ট।’

জর্জ বুশ বলেন, ‘ট্রাম্পকে সেরা প্রেসিডেন্ট মনে করার কারণ হচ্ছে- দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশটিতে মুসলমানরা উৎপাত করছে কিন্তু ট্রাম্পের আমলে এগুলো শেষ হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে।’

বুশ হচ্ছেন ট্রাম্পের চেয়ে মুসলিম বিশ্বে বেশি ঘৃণিত এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর বলেছিলেন, ‘ক্রুসেড শুরু হয়ে গেছে’। এরপর তিনি তালেবান উৎখাতের নামে আফগানিস্তানে হামলা চালান এবং ২০০৩ সালে সন্ত্রাসবাদের অজুহাত তুলে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালান। এসব আগ্রাসনে লোখ লাখ মুসলমান নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অগণিত মানুষ। এছাড়া, এ দুটি দেশ অনেকটা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়েছে।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে সারা বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছিলেন বুশ। এরপরও তিনি ট্রাম্পকে মুসলমানদের মোকাবেলায় সেরা প্রেসিডেন্ট মনে করছেন!প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ট্রাম্পের নেয়া পদক্ষেপগুলো কতটা ভয়াবহ ও ঘৃণিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published.